ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিষিদ্ধ সংগঠনকে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না : মীর হেলাল ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ‘সৌর বিপ্লব’ থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে : সিপিডি ৫-৭ খাতেই বদলে যেতে পারে রপ্তানি অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রী স্থায়ীভাবে বন্ধ ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং, ১৮০০ শ্রমিকের মাঝে উদ্বেগ-হতাশা অধিবেশন চলাকালে মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জোরালো নির্দেশ স্পিকারের একযোগে ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ সিদ্ধিরগঞ্জে ডোবা থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশা চীনের দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি অপশক্তি সক্রিয়: ইউনুছ আহমাদ

পাঁচ বছর ধরে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, অভিযোগ বিচারকের গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফেনীতে এক গৃহবধূকে অজ্ঞান করে ধর্ষণের পর নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে গত পাঁচ বছরে ৭৫ বার ধর্ষণ করেছেন মোবারক হোসেন জুয়েল নামে এক গাড়ি চালক। এছাড়া নগ্ন ছবির ভয় দেখিয়ে গৃহবধূর কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায় জুয়েল।

এমন অভিযোগে রবিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ওসমান হায়দারের আদালতে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। পরে বিচারক অভিযোগটি গ্রহণ করে ফেনী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মোবারক হোসেন জুয়েল ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বাথানিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। তিনি ফেনীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এক বিচারকের গাড়ি চালক।

মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু জানান, নির্যাতিত গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে নারী নির্যাতন আইনে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গৃহবধূর স্বামীর এক বন্ধুর সঙ্গে আসামি মোবারক হোসেন জুয়েল ২-৩ বার তার বাসায় আসা যাওয়া করে। তখন মোবারক একজন গাড়ি চালক হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। ২০১৭ সালের ১২ মার্চ আসামি মোবারক হোসেন বাসায় গিয়ে তার স্বামীকে খোঁজ করেন। তখন জুয়েল এক গ্লাস পানি খাওয়ানোর জন্য অনুরোধ করে ঘরে প্রবেশ করে রুমাল দিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পরে জ্ঞান ফেরার পর গৃহবধূ সামাজিক লজ্জার ভয়ে স্বামীকে ঘটনা না বলে চুপ থাকেন। পরের দিন রাত ৯টায় জুয়েল জানায় তাকে ধর্ষণ করেছেন এবং তার নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে রেখেছেন। পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা দাবি করেন এবং ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যান। একইভাবে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময় প্রায় ৭৫ বার ধর্ষণ করে জুয়েল।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে জুয়েলের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে বাসা পরিবর্তন করেন নিপীড়নের শিকার গৃহবধূ। পরে নতুন ভাড়া বাসায়ও আসামি ওই নারীকে আগের মতো ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে আসামি জুয়েলের দাবি করা আরো দুই লাখ টাকা দিয়ে তার হাত-পায়ে ধরে কান্না করে মুক্তি চান।

এর মধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় গৃহবধূর স্বামী দোকানে থাকায় ও সন্তান মাদরাসায় থাকার সুযোগে জুয়েল তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণ থেকে মুক্তি পেতে এবং জুয়েলের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষিদ্ধ সংগঠনকে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না : মীর হেলাল

পাঁচ বছর ধরে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, অভিযোগ বিচারকের গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ১০:৩৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফেনীতে এক গৃহবধূকে অজ্ঞান করে ধর্ষণের পর নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে গত পাঁচ বছরে ৭৫ বার ধর্ষণ করেছেন মোবারক হোসেন জুয়েল নামে এক গাড়ি চালক। এছাড়া নগ্ন ছবির ভয় দেখিয়ে গৃহবধূর কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায় জুয়েল।

এমন অভিযোগে রবিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ওসমান হায়দারের আদালতে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। পরে বিচারক অভিযোগটি গ্রহণ করে ফেনী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মোবারক হোসেন জুয়েল ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বাথানিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। তিনি ফেনীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এক বিচারকের গাড়ি চালক।

মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু জানান, নির্যাতিত গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে নারী নির্যাতন আইনে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গৃহবধূর স্বামীর এক বন্ধুর সঙ্গে আসামি মোবারক হোসেন জুয়েল ২-৩ বার তার বাসায় আসা যাওয়া করে। তখন মোবারক একজন গাড়ি চালক হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। ২০১৭ সালের ১২ মার্চ আসামি মোবারক হোসেন বাসায় গিয়ে তার স্বামীকে খোঁজ করেন। তখন জুয়েল এক গ্লাস পানি খাওয়ানোর জন্য অনুরোধ করে ঘরে প্রবেশ করে রুমাল দিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পরে জ্ঞান ফেরার পর গৃহবধূ সামাজিক লজ্জার ভয়ে স্বামীকে ঘটনা না বলে চুপ থাকেন। পরের দিন রাত ৯টায় জুয়েল জানায় তাকে ধর্ষণ করেছেন এবং তার নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে রেখেছেন। পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা দাবি করেন এবং ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যান। একইভাবে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময় প্রায় ৭৫ বার ধর্ষণ করে জুয়েল।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে জুয়েলের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে বাসা পরিবর্তন করেন নিপীড়নের শিকার গৃহবধূ। পরে নতুন ভাড়া বাসায়ও আসামি ওই নারীকে আগের মতো ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে আসামি জুয়েলের দাবি করা আরো দুই লাখ টাকা দিয়ে তার হাত-পায়ে ধরে কান্না করে মুক্তি চান।

এর মধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় গৃহবধূর স্বামী দোকানে থাকায় ও সন্তান মাদরাসায় থাকার সুযোগে জুয়েল তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণ থেকে মুক্তি পেতে এবং জুয়েলের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।