ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কে সাংবাদিক তা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জুবাইদা রহমানের থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে সশস্ত্র হামলায় ৫ নিরাপত্তা সদস্যের প্রাণহানি কুমিল্লায় শিশু ঝুমুর ধর্ষণ ও হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড চুয়াডাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে আহত ২২, তিনজনের অবস্থা গুরুতর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান চাইলে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ধনী দেশ হতে পারতো: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে আগ্রহী : বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা ২৭ জুলাই থেকে শুরু

চেয়ারম্যানের প্রেমের টানে গৃহবধূ স্বামীর ঘরছাড়া

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদ আনোয়ারের প্রেমের টানে স্বামীর ঘর ছাড়লেন রোজিনা বেগম নামে এক গৃহবধূ। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের ঘর সংসার ছেড়ে গত শনিবার স্বামী সন্তান রেখে প্রেমের টানে পালিয়ে গেলেন রোজিনা বেগম।

এ ঘটনায় রোজিনার স্বামী আবুল হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে চেয়ারম্যান আনোয়কে আসামী করে টাঙ্গাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যানকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলেও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। সাঈদ আনোয়ার মির্জাপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছেন।

জানা গেছে, তরফপুর মধ্যপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল হোসেন মোল্লা দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর আগে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন মমিননগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে রোজিনাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ২টি পুত্র সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে রাকিবুল হাসান দশম শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছেলে রাফির বয়স ৫ বছর।

অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য বিয়ের প্রায় ১০ বছর পর স্বামী আবুল হোসেন সৌদি আবর পাড়ি জমায়। সেখান থেকে দুই বছর পর পর ছুটিতে দেশে আসেন। এরমধ্যে স্ত্রী রোজিনার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ফেরত ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আনোয়ারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঘটনাটি জানার পর প্রায় দুই মাস আগে আবুল হোসেন মোল্লা সৌদি আরব থেকে দেশে চলে আসে। এ নিয়ে পরিবার ও এলাকায় একাধিকবার সালিস বৈঠকও হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর রোজিনা স্বামীর সঙ্গে টাঙ্গাইল শহরে কেনাকাটা করতে যায়। কেনাকাটা শেষে রোজিনা শহরের আদি টাঙ্গাইল এলাকা থেকে স্বামীকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে রোজিনার স্বামী আবুল হোসেন মোল্লা চেয়ারম্যান সাঈদ আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন বলে আবুল হোসেন অভিযোগ করেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও স্ত্রী রোজিনাকে ফেরত না দেয়ায় আবুল হোসেন শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইউপি চেয়ারম্যান সাইদ আনোয়ারকে আসামী করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে আবুল হোসেন মোল্লা জানান।

আবুল হোসেন মোল্লা জানান, আমি লেখাপড়া জানি না। গত ৯ বছরে সংসারের খরচ বাদে প্রায় ১৩ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্ক জানার পর ২ মাস আগে বাড়ি আসি। পরিবার ও এলাকার লোকজন নিয়ে বৈঠকও করি। স্ত্রী রোজিনা আমাকে টাকার কোন হিসেব দিতে পারেনি। পালিয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকে রোজিনা বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে শুরু করে। আমরাও ওকে আর কিছু বলি না । এই সুযোগে গত শনিবার টাঙ্গাইল শহর থেকে চেয়ারম্যানের হাত ধরে পালিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সাঈদ আনোয়ারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, একই গ্রামের একই সমাজের বাসিন্দা হওয়ায় আবুল হোসেনের পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু রোজিনার সাথে প্রেমের কোন সম্পর্ক ছিল না। সে কোথায় আছে তা আমি জানি না। তবে গ্রামবাসী তাকে জানিয়েছে রোববার সে বাড়ি ফিরবে। তাহলে আপনি এলাকায় জাননা কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি তো এলাকাই থাকি।

টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কে সাংবাদিক তা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

চেয়ারম্যানের প্রেমের টানে গৃহবধূ স্বামীর ঘরছাড়া

আপডেট সময় ১১:৪৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদ আনোয়ারের প্রেমের টানে স্বামীর ঘর ছাড়লেন রোজিনা বেগম নামে এক গৃহবধূ। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের ঘর সংসার ছেড়ে গত শনিবার স্বামী সন্তান রেখে প্রেমের টানে পালিয়ে গেলেন রোজিনা বেগম।

এ ঘটনায় রোজিনার স্বামী আবুল হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে চেয়ারম্যান আনোয়কে আসামী করে টাঙ্গাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যানকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলেও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। সাঈদ আনোয়ার মির্জাপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছেন।

জানা গেছে, তরফপুর মধ্যপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল হোসেন মোল্লা দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর আগে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন মমিননগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে রোজিনাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ২টি পুত্র সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে রাকিবুল হাসান দশম শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছেলে রাফির বয়স ৫ বছর।

অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য বিয়ের প্রায় ১০ বছর পর স্বামী আবুল হোসেন সৌদি আবর পাড়ি জমায়। সেখান থেকে দুই বছর পর পর ছুটিতে দেশে আসেন। এরমধ্যে স্ত্রী রোজিনার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ফেরত ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আনোয়ারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঘটনাটি জানার পর প্রায় দুই মাস আগে আবুল হোসেন মোল্লা সৌদি আরব থেকে দেশে চলে আসে। এ নিয়ে পরিবার ও এলাকায় একাধিকবার সালিস বৈঠকও হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর রোজিনা স্বামীর সঙ্গে টাঙ্গাইল শহরে কেনাকাটা করতে যায়। কেনাকাটা শেষে রোজিনা শহরের আদি টাঙ্গাইল এলাকা থেকে স্বামীকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে রোজিনার স্বামী আবুল হোসেন মোল্লা চেয়ারম্যান সাঈদ আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন বলে আবুল হোসেন অভিযোগ করেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও স্ত্রী রোজিনাকে ফেরত না দেয়ায় আবুল হোসেন শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইউপি চেয়ারম্যান সাইদ আনোয়ারকে আসামী করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে আবুল হোসেন মোল্লা জানান।

আবুল হোসেন মোল্লা জানান, আমি লেখাপড়া জানি না। গত ৯ বছরে সংসারের খরচ বাদে প্রায় ১৩ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্ক জানার পর ২ মাস আগে বাড়ি আসি। পরিবার ও এলাকার লোকজন নিয়ে বৈঠকও করি। স্ত্রী রোজিনা আমাকে টাকার কোন হিসেব দিতে পারেনি। পালিয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকে রোজিনা বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে শুরু করে। আমরাও ওকে আর কিছু বলি না । এই সুযোগে গত শনিবার টাঙ্গাইল শহর থেকে চেয়ারম্যানের হাত ধরে পালিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সাঈদ আনোয়ারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, একই গ্রামের একই সমাজের বাসিন্দা হওয়ায় আবুল হোসেনের পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু রোজিনার সাথে প্রেমের কোন সম্পর্ক ছিল না। সে কোথায় আছে তা আমি জানি না। তবে গ্রামবাসী তাকে জানিয়েছে রোববার সে বাড়ি ফিরবে। তাহলে আপনি এলাকায় জাননা কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি তো এলাকাই থাকি।

টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।