ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বিশ্বের বৃহত্তম বরফ স্তর গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা কয়েক মিটার বৃদ্ধি পেতে পারে : রিপোর্ট

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের বৃহত্তম বরফ স্তর গলে সমুদ্র পৃষ্ঠে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণা রিপোর্টে। বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশী বৃদ্ধি পেলে কয়েক শতাব্দীতে বিশ্বের বৃহত্তম বরফ স্তরটি গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ‘কয়েক মিটার’ বৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল বুধবার এক ব্রিটিশ সমীক্ষায় এটি প্রকাশিত হয়। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এর।

ডারহাম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই উপসংহারে পৌঁছেছেন যে, যদি বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বেশি থাকে তাহলে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা আইস শিট গলে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় অর্ধ মিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। তাদের এই গবেষণা রিপোর্ট বৈজ্ঞানিক জার্নাল নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

যদি এর বাইরে নির্গমন আরো বেশি হতে থাকে তবে ইএআইএস গলে ২৩০০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় এক থেকে তিন মিটার এবং ২৫০০ সালের মধ্যে দুই থেকে পাঁচ মিটার হতে পারে।

তবে যদি নির্গমন নাটকীয়ভাবে হ্রাস করা যায়, তাহলে মূল্যায়ন অনুসারে ইএআইএস গলন কমে যাওয়ায় ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় দুই সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি গ্রিনল্যান্ড এবং পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা থেকে অনুমিত বরফ গলনের ক্ষতির চেয়ে অনেক কম হবে। গবেষণা রিপোর্টের প্রধান লেখক ডারহাম ইউনিভার্সিটির ভূগোল বিভাগের ক্রিস স্টোকস বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ থেকে একটি মূল উপসংহার হল যে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা বরফের শীটটির ভাগ্য আমাদের হাতেই রয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, এই বরফের শীটটি এই গ্রহে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়। এতে সমুদ্র পৃষ্ঠের ৫২ মিটার উচ্চতার সমতুল্য জলরাশি রয়েছে এবং এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা এই ঘুমন্ত দৈত্যটিকে জাগ্রত না করে ঘুমন্ত রাখতে পারি। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেটা অনুসরণ করলে আমরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়াতে পারি এমনকি পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা বরফের শীট গলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে পারি এবং বৈশ্বিক সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব সীমিত করতে পারি।

এই গবেষণা দলে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা ২১০০, ২৩০০ এবং ২৫০০ সাল নাগাদ বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা এবং বরফের শিটে তাপমাত্রার প্রভাবের মডেল কম্পিউটার সিমুলেশন করেন। তারা প্রমাণ পেয়েছেন যে ‘তিন মিলিয়ন বছর আগে, যখন তাপমাত্রা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। তখন ইএআইএস-এর কিছু অংশ ‘ধ্বসে পড়ে এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা কয়েক মিটার বৃদ্ধি পায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বের বৃহত্তম বরফ স্তর গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা কয়েক মিটার বৃদ্ধি পেতে পারে : রিপোর্ট

আপডেট সময় ০৮:১৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের বৃহত্তম বরফ স্তর গলে সমুদ্র পৃষ্ঠে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণা রিপোর্টে। বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশী বৃদ্ধি পেলে কয়েক শতাব্দীতে বিশ্বের বৃহত্তম বরফ স্তরটি গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ‘কয়েক মিটার’ বৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল বুধবার এক ব্রিটিশ সমীক্ষায় এটি প্রকাশিত হয়। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এর।

ডারহাম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই উপসংহারে পৌঁছেছেন যে, যদি বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বেশি থাকে তাহলে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা আইস শিট গলে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় অর্ধ মিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। তাদের এই গবেষণা রিপোর্ট বৈজ্ঞানিক জার্নাল নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

যদি এর বাইরে নির্গমন আরো বেশি হতে থাকে তবে ইএআইএস গলে ২৩০০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় এক থেকে তিন মিটার এবং ২৫০০ সালের মধ্যে দুই থেকে পাঁচ মিটার হতে পারে।

তবে যদি নির্গমন নাটকীয়ভাবে হ্রাস করা যায়, তাহলে মূল্যায়ন অনুসারে ইএআইএস গলন কমে যাওয়ায় ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় দুই সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি গ্রিনল্যান্ড এবং পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা থেকে অনুমিত বরফ গলনের ক্ষতির চেয়ে অনেক কম হবে। গবেষণা রিপোর্টের প্রধান লেখক ডারহাম ইউনিভার্সিটির ভূগোল বিভাগের ক্রিস স্টোকস বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ থেকে একটি মূল উপসংহার হল যে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা বরফের শীটটির ভাগ্য আমাদের হাতেই রয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, এই বরফের শীটটি এই গ্রহে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়। এতে সমুদ্র পৃষ্ঠের ৫২ মিটার উচ্চতার সমতুল্য জলরাশি রয়েছে এবং এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা এই ঘুমন্ত দৈত্যটিকে জাগ্রত না করে ঘুমন্ত রাখতে পারি। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেটা অনুসরণ করলে আমরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়াতে পারি এমনকি পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা বরফের শীট গলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে পারি এবং বৈশ্বিক সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব সীমিত করতে পারি।

এই গবেষণা দলে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা ২১০০, ২৩০০ এবং ২৫০০ সাল নাগাদ বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা এবং বরফের শিটে তাপমাত্রার প্রভাবের মডেল কম্পিউটার সিমুলেশন করেন। তারা প্রমাণ পেয়েছেন যে ‘তিন মিলিয়ন বছর আগে, যখন তাপমাত্রা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। তখন ইএআইএস-এর কিছু অংশ ‘ধ্বসে পড়ে এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা কয়েক মিটার বৃদ্ধি পায়।