ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও ১০–১৫ দিন: জ্বালানিমন্ত্রী গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর করলেন রাকসু ও শিবির নেতারা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণ শুরু, আসবে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের আন্দোলনের সফলতাকে নিজেদের বলে দাবি করেছে জামায়াতের বুদ্ধিজীবীরা: রাশেদ খাঁন ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল মানুষের আস্থার কেন্দ্র, চিকিৎসাসেবা হতে হবে রোগীবান্ধব: তথ্যমন্ত্রী

সংযুক্ত যমজ দুই ভাই পেলেন সরকারি চাকরি, বেতনও ২ জনের

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

শরীর জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম হয়েছে সোহনা ও মোহনা সিং-এর। এভাবেই কেটে গেছে ১৯টি বছর।

জীবিকার তাগিদে চাকরির জন্য মুখিয়ে ছিলেন তারা। এবার তাদের স্বপ্নের চাকরি মিলেছে ভারতের পাঞ্জাব স্টেট পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডে (পিএসপিসিএল)।

জানা গেছে, ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়া হয়েছে তাদের। একজনের কাজ করলেও তাদের দুজনকে বেতন দেওয়া হবে। সোহনা বলেন, এটা ছিল স্বপ্নের চাকরি। আমাদের মেধার মূল্যায়ন করার জন্য পাঞ্জাব সরকারকে ধন্যবাদ।

ইলেকট্রনিক্সের ওপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেছেন সোহনা। চাকরি হওয়ার কারণে তারা এখন মাসে ১০ হাজার রুপি করে বেতন পাবেন। যদিও চাকরিটি হয়েছে সোহনার নামে। তারা কন্ট্রোল রুমে থেকে কাজ করবেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে দিল্লিতে জন্ম দুই ভাইয়ের। জন্ম থেকেই তাদের মাথা, হাত, মেরুদণ্ড ও হৃৎপিণ্ড আলাদা, কিন্তু শরীরের নিচের অংশ একটাই। চিকিৎসক ওই সময়ই জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের আলাদা করা যাবে না। এটা করতে গেলে একজনের মৃত্যু হবে। আর তাতে করে অন্যজনেরও গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

মাত্র দুই মাস বাবা-মা তাদের পরিত্যাগ করেন। পরে পাঞ্জাবের অমৃতসরের উপকণ্ঠে পিঙ্গলওয়ারা চ্যারিটেবল সোসাইটি তাদের দায়িত্ব নেয়। একপর্যায়ে তাদের শিক্ষক বুঝতে পারেন, দুই ভাই সহজেই ইলেকট্রনিক্সের কাজ করতে পারেন।

একজন শিক্ষক বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের যে কোনো ছোটোখাটো সমস্যা ওই ছেলে দুটোই ঠিক করতো। স্কুলের পাঠ চুকিয়ে তারা ইলেকট্রনিক্সের ওপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন।

পিএসপিসিএলের কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার বলেন, সোহনা এবং মোহনা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের দেখাশোনা করবেন। তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও যে এগিয়ে চলা যায়, তাই যেন দেখিয়ে দিলেন দুই ভাই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

সংযুক্ত যমজ দুই ভাই পেলেন সরকারি চাকরি, বেতনও ২ জনের

আপডেট সময় ০১:১১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

শরীর জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম হয়েছে সোহনা ও মোহনা সিং-এর। এভাবেই কেটে গেছে ১৯টি বছর।

জীবিকার তাগিদে চাকরির জন্য মুখিয়ে ছিলেন তারা। এবার তাদের স্বপ্নের চাকরি মিলেছে ভারতের পাঞ্জাব স্টেট পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডে (পিএসপিসিএল)।

জানা গেছে, ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়া হয়েছে তাদের। একজনের কাজ করলেও তাদের দুজনকে বেতন দেওয়া হবে। সোহনা বলেন, এটা ছিল স্বপ্নের চাকরি। আমাদের মেধার মূল্যায়ন করার জন্য পাঞ্জাব সরকারকে ধন্যবাদ।

ইলেকট্রনিক্সের ওপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেছেন সোহনা। চাকরি হওয়ার কারণে তারা এখন মাসে ১০ হাজার রুপি করে বেতন পাবেন। যদিও চাকরিটি হয়েছে সোহনার নামে। তারা কন্ট্রোল রুমে থেকে কাজ করবেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে দিল্লিতে জন্ম দুই ভাইয়ের। জন্ম থেকেই তাদের মাথা, হাত, মেরুদণ্ড ও হৃৎপিণ্ড আলাদা, কিন্তু শরীরের নিচের অংশ একটাই। চিকিৎসক ওই সময়ই জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের আলাদা করা যাবে না। এটা করতে গেলে একজনের মৃত্যু হবে। আর তাতে করে অন্যজনেরও গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

মাত্র দুই মাস বাবা-মা তাদের পরিত্যাগ করেন। পরে পাঞ্জাবের অমৃতসরের উপকণ্ঠে পিঙ্গলওয়ারা চ্যারিটেবল সোসাইটি তাদের দায়িত্ব নেয়। একপর্যায়ে তাদের শিক্ষক বুঝতে পারেন, দুই ভাই সহজেই ইলেকট্রনিক্সের কাজ করতে পারেন।

একজন শিক্ষক বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের যে কোনো ছোটোখাটো সমস্যা ওই ছেলে দুটোই ঠিক করতো। স্কুলের পাঠ চুকিয়ে তারা ইলেকট্রনিক্সের ওপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন।

পিএসপিসিএলের কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার বলেন, সোহনা এবং মোহনা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের দেখাশোনা করবেন। তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও যে এগিয়ে চলা যায়, তাই যেন দেখিয়ে দিলেন দুই ভাই।