ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১০০ শয্যার আবাসন ব্যবস্থার ঘোষণা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ: বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে কেমিক্যাল কারখানায় আগুন, ফায়ার ফাইটারসহ আহত ৫ দেশে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির

সংযুক্ত যমজ দুই ভাই পেলেন সরকারি চাকরি, বেতনও ২ জনের

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

শরীর জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম হয়েছে সোহনা ও মোহনা সিং-এর। এভাবেই কেটে গেছে ১৯টি বছর।

জীবিকার তাগিদে চাকরির জন্য মুখিয়ে ছিলেন তারা। এবার তাদের স্বপ্নের চাকরি মিলেছে ভারতের পাঞ্জাব স্টেট পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডে (পিএসপিসিএল)।

জানা গেছে, ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়া হয়েছে তাদের। একজনের কাজ করলেও তাদের দুজনকে বেতন দেওয়া হবে। সোহনা বলেন, এটা ছিল স্বপ্নের চাকরি। আমাদের মেধার মূল্যায়ন করার জন্য পাঞ্জাব সরকারকে ধন্যবাদ।

ইলেকট্রনিক্সের ওপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেছেন সোহনা। চাকরি হওয়ার কারণে তারা এখন মাসে ১০ হাজার রুপি করে বেতন পাবেন। যদিও চাকরিটি হয়েছে সোহনার নামে। তারা কন্ট্রোল রুমে থেকে কাজ করবেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে দিল্লিতে জন্ম দুই ভাইয়ের। জন্ম থেকেই তাদের মাথা, হাত, মেরুদণ্ড ও হৃৎপিণ্ড আলাদা, কিন্তু শরীরের নিচের অংশ একটাই। চিকিৎসক ওই সময়ই জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের আলাদা করা যাবে না। এটা করতে গেলে একজনের মৃত্যু হবে। আর তাতে করে অন্যজনেরও গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

মাত্র দুই মাস বাবা-মা তাদের পরিত্যাগ করেন। পরে পাঞ্জাবের অমৃতসরের উপকণ্ঠে পিঙ্গলওয়ারা চ্যারিটেবল সোসাইটি তাদের দায়িত্ব নেয়। একপর্যায়ে তাদের শিক্ষক বুঝতে পারেন, দুই ভাই সহজেই ইলেকট্রনিক্সের কাজ করতে পারেন।

একজন শিক্ষক বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের যে কোনো ছোটোখাটো সমস্যা ওই ছেলে দুটোই ঠিক করতো। স্কুলের পাঠ চুকিয়ে তারা ইলেকট্রনিক্সের ওপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন।

পিএসপিসিএলের কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার বলেন, সোহনা এবং মোহনা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের দেখাশোনা করবেন। তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও যে এগিয়ে চলা যায়, তাই যেন দেখিয়ে দিলেন দুই ভাই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১০০ শয্যার আবাসন ব্যবস্থার ঘোষণা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর

সংযুক্ত যমজ দুই ভাই পেলেন সরকারি চাকরি, বেতনও ২ জনের

আপডেট সময় ০১:১১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

শরীর জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম হয়েছে সোহনা ও মোহনা সিং-এর। এভাবেই কেটে গেছে ১৯টি বছর।

জীবিকার তাগিদে চাকরির জন্য মুখিয়ে ছিলেন তারা। এবার তাদের স্বপ্নের চাকরি মিলেছে ভারতের পাঞ্জাব স্টেট পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডে (পিএসপিসিএল)।

জানা গেছে, ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়া হয়েছে তাদের। একজনের কাজ করলেও তাদের দুজনকে বেতন দেওয়া হবে। সোহনা বলেন, এটা ছিল স্বপ্নের চাকরি। আমাদের মেধার মূল্যায়ন করার জন্য পাঞ্জাব সরকারকে ধন্যবাদ।

ইলেকট্রনিক্সের ওপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেছেন সোহনা। চাকরি হওয়ার কারণে তারা এখন মাসে ১০ হাজার রুপি করে বেতন পাবেন। যদিও চাকরিটি হয়েছে সোহনার নামে। তারা কন্ট্রোল রুমে থেকে কাজ করবেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে দিল্লিতে জন্ম দুই ভাইয়ের। জন্ম থেকেই তাদের মাথা, হাত, মেরুদণ্ড ও হৃৎপিণ্ড আলাদা, কিন্তু শরীরের নিচের অংশ একটাই। চিকিৎসক ওই সময়ই জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের আলাদা করা যাবে না। এটা করতে গেলে একজনের মৃত্যু হবে। আর তাতে করে অন্যজনেরও গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

মাত্র দুই মাস বাবা-মা তাদের পরিত্যাগ করেন। পরে পাঞ্জাবের অমৃতসরের উপকণ্ঠে পিঙ্গলওয়ারা চ্যারিটেবল সোসাইটি তাদের দায়িত্ব নেয়। একপর্যায়ে তাদের শিক্ষক বুঝতে পারেন, দুই ভাই সহজেই ইলেকট্রনিক্সের কাজ করতে পারেন।

একজন শিক্ষক বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের যে কোনো ছোটোখাটো সমস্যা ওই ছেলে দুটোই ঠিক করতো। স্কুলের পাঠ চুকিয়ে তারা ইলেকট্রনিক্সের ওপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন।

পিএসপিসিএলের কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার বলেন, সোহনা এবং মোহনা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের দেখাশোনা করবেন। তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও যে এগিয়ে চলা যায়, তাই যেন দেখিয়ে দিলেন দুই ভাই।