ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে সেটা প্রমাণিত হলো: ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে এলিট ফোর্স র‌্যাব এবং বাহিনীটির বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এটা অবশ্যম্ভাবী ছিল বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর দ্বারা সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে সেটা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় ফখরুল এসব কথা বলেন। অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর দাবিতে ২০ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

গতকাল শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) বিভিন্ন দেশের ১৫ ব্যক্তি ও ১০ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব দপ্তর)। এর মধ্যে বাংলাদেশের র‌্যাব এবং বাহিনীটির বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তাও রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘আজকে যে খবরটা বেরিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বেনজীর ও র‌্যাব প্রধানের ওপর। আমি এটা চমক মনে করি না, আমি এটাকে মনে করি অবশ্যম্ভাবী পরিণতি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা এতদিন ধরে বলছি যে, মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে। আমরা বলছি যে, এই সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে, পুলিশকে ব্যবহার করছে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে, এভাবে মানুষকে হত্যা করছে নির্মমভাবে। এটা প্রমাণিত হয়েছে আজকে। গতকাল যে যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের যে সম্মেলন হয়েছে, সেই সম্মেলনে বাংলাদেশেকে ডাকা হয়নি। এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সরকার বাংলাদেশকে আজকে লজ্জার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমার প্রশ্ন, এখন আমরা দেখতে চাই, এই সরকার এই সমস্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তারা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে? না কি তারা আগের মতো চলবে?’

বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারকারীদের সামনেও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের মতো পরিণতি রয়েছে বলে হুঁশিয়ার করেন বিএনপি মহাসচিব।

ফখরুল বলেন, `আমরা একথা জানি, কারা লুট করে সমস্ত অর্থ পাচার করে দিচ্ছে দেশের বাইরে। কারা হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে বেগমপাড়ায় বাড়ি তৈরি করেছে, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম তৈরি করেছে, এটা আমাদের দেশের সবাই জানে। পরিণতি এটাই দেখবেন, এই সম্পদও তারা ভোগ করতে পারছে না। আজকে বলা হয়েছে যে, এই সম্পদগুলো সব বাজেয়াপ্ত করা হবে।’

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, সমস্ত রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হবে। ছোট-খাটো বিভেদ ভুলে যাবে। কারণ আজকে গোটা জাতি ডুবে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠে দাঁড়াতে হবে।’

এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার পরিচালনায় আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবিব লিংকন, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বিএনপির আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, জাগপার খন্দকার লুতফর রহমান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, এনডিপির আবু তাহের, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর ছেলে ওমর শরীফ মো. ইমরান বক্তব্য দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় নিয়োগ দিচ্ছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র

সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে সেটা প্রমাণিত হলো: ফখরুল

আপডেট সময় ০৭:২৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে এলিট ফোর্স র‌্যাব এবং বাহিনীটির বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এটা অবশ্যম্ভাবী ছিল বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর দ্বারা সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে সেটা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় ফখরুল এসব কথা বলেন। অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর দাবিতে ২০ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

গতকাল শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) বিভিন্ন দেশের ১৫ ব্যক্তি ও ১০ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব দপ্তর)। এর মধ্যে বাংলাদেশের র‌্যাব এবং বাহিনীটির বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তাও রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘আজকে যে খবরটা বেরিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বেনজীর ও র‌্যাব প্রধানের ওপর। আমি এটা চমক মনে করি না, আমি এটাকে মনে করি অবশ্যম্ভাবী পরিণতি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা এতদিন ধরে বলছি যে, মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে। আমরা বলছি যে, এই সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে, পুলিশকে ব্যবহার করছে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে, এভাবে মানুষকে হত্যা করছে নির্মমভাবে। এটা প্রমাণিত হয়েছে আজকে। গতকাল যে যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের যে সম্মেলন হয়েছে, সেই সম্মেলনে বাংলাদেশেকে ডাকা হয়নি। এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সরকার বাংলাদেশকে আজকে লজ্জার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমার প্রশ্ন, এখন আমরা দেখতে চাই, এই সরকার এই সমস্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তারা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে? না কি তারা আগের মতো চলবে?’

বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারকারীদের সামনেও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের মতো পরিণতি রয়েছে বলে হুঁশিয়ার করেন বিএনপি মহাসচিব।

ফখরুল বলেন, `আমরা একথা জানি, কারা লুট করে সমস্ত অর্থ পাচার করে দিচ্ছে দেশের বাইরে। কারা হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে বেগমপাড়ায় বাড়ি তৈরি করেছে, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম তৈরি করেছে, এটা আমাদের দেশের সবাই জানে। পরিণতি এটাই দেখবেন, এই সম্পদও তারা ভোগ করতে পারছে না। আজকে বলা হয়েছে যে, এই সম্পদগুলো সব বাজেয়াপ্ত করা হবে।’

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, সমস্ত রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হবে। ছোট-খাটো বিভেদ ভুলে যাবে। কারণ আজকে গোটা জাতি ডুবে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠে দাঁড়াতে হবে।’

এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার পরিচালনায় আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবিব লিংকন, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বিএনপির আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, জাগপার খন্দকার লুতফর রহমান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, এনডিপির আবু তাহের, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর ছেলে ওমর শরীফ মো. ইমরান বক্তব্য দেন।