ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ছেলেদের পাকাঘরে ঠাঁই হয়নি শতবর্ষী মায়ের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন রাখি বেগম। চোখে ঝাপসা দেখেন। স্বামীকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। অনেক কষ্টে ২ ছেলে ৩ মেয়েকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। তারা বিয়ে করে সংসার বেঁধেছেন। আশা ছিল শেষ বয়সে নাতিপুতি নিয়ে আনন্দ-আহলাদে দিনাতিপাত করবেন। সেটা আর হলো না। সব থেকেও আজ তার কিছুই নেই।

আজীবন কষ্টের মধ্যেই সংসার চলেছে তার। ভাঙ্গা ভাঙ্গা করে কথাগুলো বলেন শতবর্ষী রাখি বেগম। স্বাবলম্বী ছেলেরা আধাপাকা ঘরে বসবাস করলেও সেই ঘরে ঠাঁই হয়নি ওই বৃদ্ধ মায়ের।

রাখি বেগম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দাদুয়া গ্রামের মৃত রেকাত মণ্ডলের স্ত্রী। আনছার মণ্ডল ও ছামছু মণ্ডল নামে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে তার। একটা সময় সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও এখন ছেলেদের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। তারা পাকা ঘরে বসবাস করলেও বৃদ্ধ মায়ের জায়গা হয়েছে ঝুপড়ি ঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানের একপাশে পাঠখড়ির বেড়ায় ঝুপড়ি ঘরের মাটিতে পাটি পেতে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে বৃদ্ধ মা রাখি বেগমকে। আলোর ব্যবস্থা নেই সে ঘরে। শীতে কাতর মায়ের গায়ে গরম কাপড়ও দেয়নি ছেলেরা। উপরন্তু পুত্রবধূ ও নাতবউদের অবজ্ঞা অবহেলার শিকার হচ্ছেন তিনি।

অবহেলার শিকার এই মায়ের অভিযোগ, সেবাযত্ন তো দূরের কথা ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত দেওয়া হয় না তাকে। ছেলের বউয়েরা অনিয়মিতভাবে খাবার ও দেখভাল করে থাকেন। দুই ছেলে হঠাৎ এসে উঁকি মেরেই চলে যান। শরীরের শক্তিটুকু কাজে লাগিয়ে রেখে যাওয়া খাবারগুলো খেয়ে কোনোরকমে বেঁচে রয়েছেন তিনি। তবে তার মেয়েরা মাঝে মধ্যে এসে বিছানা ও পরনের কাপড় পরিষ্কার করে দিয়ে যান।

মায়ের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছেলে আনছার মণ্ডল (৬০) দাবি করে বলেন, তার মায়ের বয়স এখন ১০০ বছরের কাছাকাছি। মাঝে মধ্যেই পায়খানা-প্রসাব করে কাপড়-বিছানা নষ্ট করে থাকেন। জীবিকার তাগিদে বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন তারা দুই ভাই। এ কারণে তাদের স্ত্রীরা অনেক সময় যত্ন নিতে পারেন না। তবে এখন থেকে মায়ের প্রতি যত্নশীল হবেন বলে জানান তিনি।

প্রতিবেশীরা জানান, ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখি বেগম শয্যাশায়ী থাকলেও ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা মায়ের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। অথচ অনেক কষ্ট করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন এই মা।

ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, বিষয়টি অমানবিক। তিনি ছেলেদের ডেকে মায়ের দেখভালের দায়িত্ব বুঝে দেবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ছেলেদের পাকাঘরে ঠাঁই হয়নি শতবর্ষী মায়ের

আপডেট সময় ০৯:১৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন রাখি বেগম। চোখে ঝাপসা দেখেন। স্বামীকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। অনেক কষ্টে ২ ছেলে ৩ মেয়েকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। তারা বিয়ে করে সংসার বেঁধেছেন। আশা ছিল শেষ বয়সে নাতিপুতি নিয়ে আনন্দ-আহলাদে দিনাতিপাত করবেন। সেটা আর হলো না। সব থেকেও আজ তার কিছুই নেই।

আজীবন কষ্টের মধ্যেই সংসার চলেছে তার। ভাঙ্গা ভাঙ্গা করে কথাগুলো বলেন শতবর্ষী রাখি বেগম। স্বাবলম্বী ছেলেরা আধাপাকা ঘরে বসবাস করলেও সেই ঘরে ঠাঁই হয়নি ওই বৃদ্ধ মায়ের।

রাখি বেগম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দাদুয়া গ্রামের মৃত রেকাত মণ্ডলের স্ত্রী। আনছার মণ্ডল ও ছামছু মণ্ডল নামে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে তার। একটা সময় সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও এখন ছেলেদের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। তারা পাকা ঘরে বসবাস করলেও বৃদ্ধ মায়ের জায়গা হয়েছে ঝুপড়ি ঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানের একপাশে পাঠখড়ির বেড়ায় ঝুপড়ি ঘরের মাটিতে পাটি পেতে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে বৃদ্ধ মা রাখি বেগমকে। আলোর ব্যবস্থা নেই সে ঘরে। শীতে কাতর মায়ের গায়ে গরম কাপড়ও দেয়নি ছেলেরা। উপরন্তু পুত্রবধূ ও নাতবউদের অবজ্ঞা অবহেলার শিকার হচ্ছেন তিনি।

অবহেলার শিকার এই মায়ের অভিযোগ, সেবাযত্ন তো দূরের কথা ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত দেওয়া হয় না তাকে। ছেলের বউয়েরা অনিয়মিতভাবে খাবার ও দেখভাল করে থাকেন। দুই ছেলে হঠাৎ এসে উঁকি মেরেই চলে যান। শরীরের শক্তিটুকু কাজে লাগিয়ে রেখে যাওয়া খাবারগুলো খেয়ে কোনোরকমে বেঁচে রয়েছেন তিনি। তবে তার মেয়েরা মাঝে মধ্যে এসে বিছানা ও পরনের কাপড় পরিষ্কার করে দিয়ে যান।

মায়ের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছেলে আনছার মণ্ডল (৬০) দাবি করে বলেন, তার মায়ের বয়স এখন ১০০ বছরের কাছাকাছি। মাঝে মধ্যেই পায়খানা-প্রসাব করে কাপড়-বিছানা নষ্ট করে থাকেন। জীবিকার তাগিদে বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন তারা দুই ভাই। এ কারণে তাদের স্ত্রীরা অনেক সময় যত্ন নিতে পারেন না। তবে এখন থেকে মায়ের প্রতি যত্নশীল হবেন বলে জানান তিনি।

প্রতিবেশীরা জানান, ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখি বেগম শয্যাশায়ী থাকলেও ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা মায়ের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। অথচ অনেক কষ্ট করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন এই মা।

ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, বিষয়টি অমানবিক। তিনি ছেলেদের ডেকে মায়ের দেখভালের দায়িত্ব বুঝে দেবেন।