ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ছেলেদের পাকাঘরে ঠাঁই হয়নি শতবর্ষী মায়ের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন রাখি বেগম। চোখে ঝাপসা দেখেন। স্বামীকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। অনেক কষ্টে ২ ছেলে ৩ মেয়েকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। তারা বিয়ে করে সংসার বেঁধেছেন। আশা ছিল শেষ বয়সে নাতিপুতি নিয়ে আনন্দ-আহলাদে দিনাতিপাত করবেন। সেটা আর হলো না। সব থেকেও আজ তার কিছুই নেই।

আজীবন কষ্টের মধ্যেই সংসার চলেছে তার। ভাঙ্গা ভাঙ্গা করে কথাগুলো বলেন শতবর্ষী রাখি বেগম। স্বাবলম্বী ছেলেরা আধাপাকা ঘরে বসবাস করলেও সেই ঘরে ঠাঁই হয়নি ওই বৃদ্ধ মায়ের।

রাখি বেগম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দাদুয়া গ্রামের মৃত রেকাত মণ্ডলের স্ত্রী। আনছার মণ্ডল ও ছামছু মণ্ডল নামে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে তার। একটা সময় সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও এখন ছেলেদের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। তারা পাকা ঘরে বসবাস করলেও বৃদ্ধ মায়ের জায়গা হয়েছে ঝুপড়ি ঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানের একপাশে পাঠখড়ির বেড়ায় ঝুপড়ি ঘরের মাটিতে পাটি পেতে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে বৃদ্ধ মা রাখি বেগমকে। আলোর ব্যবস্থা নেই সে ঘরে। শীতে কাতর মায়ের গায়ে গরম কাপড়ও দেয়নি ছেলেরা। উপরন্তু পুত্রবধূ ও নাতবউদের অবজ্ঞা অবহেলার শিকার হচ্ছেন তিনি।

অবহেলার শিকার এই মায়ের অভিযোগ, সেবাযত্ন তো দূরের কথা ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত দেওয়া হয় না তাকে। ছেলের বউয়েরা অনিয়মিতভাবে খাবার ও দেখভাল করে থাকেন। দুই ছেলে হঠাৎ এসে উঁকি মেরেই চলে যান। শরীরের শক্তিটুকু কাজে লাগিয়ে রেখে যাওয়া খাবারগুলো খেয়ে কোনোরকমে বেঁচে রয়েছেন তিনি। তবে তার মেয়েরা মাঝে মধ্যে এসে বিছানা ও পরনের কাপড় পরিষ্কার করে দিয়ে যান।

মায়ের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছেলে আনছার মণ্ডল (৬০) দাবি করে বলেন, তার মায়ের বয়স এখন ১০০ বছরের কাছাকাছি। মাঝে মধ্যেই পায়খানা-প্রসাব করে কাপড়-বিছানা নষ্ট করে থাকেন। জীবিকার তাগিদে বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন তারা দুই ভাই। এ কারণে তাদের স্ত্রীরা অনেক সময় যত্ন নিতে পারেন না। তবে এখন থেকে মায়ের প্রতি যত্নশীল হবেন বলে জানান তিনি।

প্রতিবেশীরা জানান, ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখি বেগম শয্যাশায়ী থাকলেও ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা মায়ের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। অথচ অনেক কষ্ট করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন এই মা।

ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, বিষয়টি অমানবিক। তিনি ছেলেদের ডেকে মায়ের দেখভালের দায়িত্ব বুঝে দেবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছেলেদের পাকাঘরে ঠাঁই হয়নি শতবর্ষী মায়ের

আপডেট সময় ০৯:১৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন রাখি বেগম। চোখে ঝাপসা দেখেন। স্বামীকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। অনেক কষ্টে ২ ছেলে ৩ মেয়েকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। তারা বিয়ে করে সংসার বেঁধেছেন। আশা ছিল শেষ বয়সে নাতিপুতি নিয়ে আনন্দ-আহলাদে দিনাতিপাত করবেন। সেটা আর হলো না। সব থেকেও আজ তার কিছুই নেই।

আজীবন কষ্টের মধ্যেই সংসার চলেছে তার। ভাঙ্গা ভাঙ্গা করে কথাগুলো বলেন শতবর্ষী রাখি বেগম। স্বাবলম্বী ছেলেরা আধাপাকা ঘরে বসবাস করলেও সেই ঘরে ঠাঁই হয়নি ওই বৃদ্ধ মায়ের।

রাখি বেগম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দাদুয়া গ্রামের মৃত রেকাত মণ্ডলের স্ত্রী। আনছার মণ্ডল ও ছামছু মণ্ডল নামে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে তার। একটা সময় সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও এখন ছেলেদের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। তারা পাকা ঘরে বসবাস করলেও বৃদ্ধ মায়ের জায়গা হয়েছে ঝুপড়ি ঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানের একপাশে পাঠখড়ির বেড়ায় ঝুপড়ি ঘরের মাটিতে পাটি পেতে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে বৃদ্ধ মা রাখি বেগমকে। আলোর ব্যবস্থা নেই সে ঘরে। শীতে কাতর মায়ের গায়ে গরম কাপড়ও দেয়নি ছেলেরা। উপরন্তু পুত্রবধূ ও নাতবউদের অবজ্ঞা অবহেলার শিকার হচ্ছেন তিনি।

অবহেলার শিকার এই মায়ের অভিযোগ, সেবাযত্ন তো দূরের কথা ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত দেওয়া হয় না তাকে। ছেলের বউয়েরা অনিয়মিতভাবে খাবার ও দেখভাল করে থাকেন। দুই ছেলে হঠাৎ এসে উঁকি মেরেই চলে যান। শরীরের শক্তিটুকু কাজে লাগিয়ে রেখে যাওয়া খাবারগুলো খেয়ে কোনোরকমে বেঁচে রয়েছেন তিনি। তবে তার মেয়েরা মাঝে মধ্যে এসে বিছানা ও পরনের কাপড় পরিষ্কার করে দিয়ে যান।

মায়ের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছেলে আনছার মণ্ডল (৬০) দাবি করে বলেন, তার মায়ের বয়স এখন ১০০ বছরের কাছাকাছি। মাঝে মধ্যেই পায়খানা-প্রসাব করে কাপড়-বিছানা নষ্ট করে থাকেন। জীবিকার তাগিদে বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন তারা দুই ভাই। এ কারণে তাদের স্ত্রীরা অনেক সময় যত্ন নিতে পারেন না। তবে এখন থেকে মায়ের প্রতি যত্নশীল হবেন বলে জানান তিনি।

প্রতিবেশীরা জানান, ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখি বেগম শয্যাশায়ী থাকলেও ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা মায়ের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। অথচ অনেক কষ্ট করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন এই মা।

ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, বিষয়টি অমানবিক। তিনি ছেলেদের ডেকে মায়ের দেখভালের দায়িত্ব বুঝে দেবেন।