ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বাবা মেরে ফেলতে চান মেয়েকে, চিঠিতে নিষ্ঠুরতার বর্ণনা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মেয়েটার বয়স যখন ৪, বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায় মা-বাবার। এরপর বাবার ৩য় বিয়ে। মেয়েকে রেখে দেওয়া হয় নিজের সঙ্গে। তখন থেকে সৎ মায়ের চোখের কাঁটা হয়ে যায় দ্বীন জাহান সোহানা।

সে এখন মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। তার গর্ভধারিণীও অন্যের ঘরের ঘরণী। সৎ মায়ের সঙ্গে বাবাও সহ্য করতে পারছেন না মেয়েটাকে। তাই সে ফিরতে চায় নিজের মায়ের কাছে।

জীবননাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে হৃদয়স্পর্শী আবেদন লিখেছে সোহানা। কিন্তু কে সোহানাকে ফিরিয়ে দেবে তার মায়ের কাছে? কিংবা মা কি সন্তানকে এখন ফিরিয়ে নিতে পারবেন নিজের কাছে? এসব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মা-বাবার নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ জানানো সচেতন মহলে।

সোহানা লিখেছে, ‘বাবার ৩য় বিয়ের পর থেকেই তার ওপর অত্যাচার শুরু হয়। তাকে পানিতে ডুবিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে হুমকি ও নানান অপবাদ। এমনকি আত্মহত্যা করার প্ররোচনাও দেওয়া হয়েছে। বিষের শিশি হাতে ধরিয়ে দিয়ে খেয়ে মরে যেতে বলা হয়েছে’।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের কার্যকরী সদস্য আহমেদ ইশতিয়াক বলেন, ‘এ বিষয়ে জানার পর অসহায় মেয়েটির পক্ষ হয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। মেয়েটি তার অসহায়ত্বের কথা চেয়ারম্যানকে জানিয়েছে। সে দ্বিতীয় সংসারের সন্তান। তাকে অত্যাচারের ধরনগুলো ভয়াবহ। কখনও বালিশ চাপা দিয়ে, কখনও গরম লোহার রড গায়ে লাগিয়ে, কখনও লাথি মেরে নির্যাতন করেছে সৎ মা ও বাবা।

জোরারগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজাউল করিম (করিম মাস্টার) বলেন, বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর থেকে সোহানা বাবার কাছে বড় হয়। তার বাবা এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এরাদুল্লার বড় ছেলে হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আইনের আশ্রয় নিতে মেয়েটিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল গত সোমবার (২২ নভেম্বর)। কিন্তু সে ভয় পাচ্ছে। এ অবস্থায় তার নানার কথা জানিয়েছে। নানা তাকে আদর-স্নেহ করেন বলে জানিয়েছে। তাই নানাকে ডেকে তাঁর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে সোহানাকে। একমাস বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আমি শপথগ্রহণের পর এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবো’।

সোহানার নানা হেলাল মির্জা বলেন, ‘ওরা মানুষরূপী জানোয়ার। শীতের কম্বল ভিজিয়ে, ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে, পানিতে চুবিয়ে ছোট মেয়েটাকে নির্যাতন করেছে। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি হিন্দু পরিবার সোহানাকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু ধর্মীয় বাধার কারণে পারেনি। সোহানার সঙ্গে তার মায়ের এখন নিয়মিত ফোনে কথা হয়। দুয়েকদিনের মধ্যে হয়তো মা-মেয়ের পুনর্মিলন হবে’।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বাবা মেরে ফেলতে চান মেয়েকে, চিঠিতে নিষ্ঠুরতার বর্ণনা

আপডেট সময় ০৮:৪২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মেয়েটার বয়স যখন ৪, বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায় মা-বাবার। এরপর বাবার ৩য় বিয়ে। মেয়েকে রেখে দেওয়া হয় নিজের সঙ্গে। তখন থেকে সৎ মায়ের চোখের কাঁটা হয়ে যায় দ্বীন জাহান সোহানা।

সে এখন মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। তার গর্ভধারিণীও অন্যের ঘরের ঘরণী। সৎ মায়ের সঙ্গে বাবাও সহ্য করতে পারছেন না মেয়েটাকে। তাই সে ফিরতে চায় নিজের মায়ের কাছে।

জীবননাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে হৃদয়স্পর্শী আবেদন লিখেছে সোহানা। কিন্তু কে সোহানাকে ফিরিয়ে দেবে তার মায়ের কাছে? কিংবা মা কি সন্তানকে এখন ফিরিয়ে নিতে পারবেন নিজের কাছে? এসব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মা-বাবার নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ জানানো সচেতন মহলে।

সোহানা লিখেছে, ‘বাবার ৩য় বিয়ের পর থেকেই তার ওপর অত্যাচার শুরু হয়। তাকে পানিতে ডুবিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে হুমকি ও নানান অপবাদ। এমনকি আত্মহত্যা করার প্ররোচনাও দেওয়া হয়েছে। বিষের শিশি হাতে ধরিয়ে দিয়ে খেয়ে মরে যেতে বলা হয়েছে’।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের কার্যকরী সদস্য আহমেদ ইশতিয়াক বলেন, ‘এ বিষয়ে জানার পর অসহায় মেয়েটির পক্ষ হয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। মেয়েটি তার অসহায়ত্বের কথা চেয়ারম্যানকে জানিয়েছে। সে দ্বিতীয় সংসারের সন্তান। তাকে অত্যাচারের ধরনগুলো ভয়াবহ। কখনও বালিশ চাপা দিয়ে, কখনও গরম লোহার রড গায়ে লাগিয়ে, কখনও লাথি মেরে নির্যাতন করেছে সৎ মা ও বাবা।

জোরারগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজাউল করিম (করিম মাস্টার) বলেন, বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর থেকে সোহানা বাবার কাছে বড় হয়। তার বাবা এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এরাদুল্লার বড় ছেলে হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আইনের আশ্রয় নিতে মেয়েটিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল গত সোমবার (২২ নভেম্বর)। কিন্তু সে ভয় পাচ্ছে। এ অবস্থায় তার নানার কথা জানিয়েছে। নানা তাকে আদর-স্নেহ করেন বলে জানিয়েছে। তাই নানাকে ডেকে তাঁর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে সোহানাকে। একমাস বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আমি শপথগ্রহণের পর এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবো’।

সোহানার নানা হেলাল মির্জা বলেন, ‘ওরা মানুষরূপী জানোয়ার। শীতের কম্বল ভিজিয়ে, ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে, পানিতে চুবিয়ে ছোট মেয়েটাকে নির্যাতন করেছে। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি হিন্দু পরিবার সোহানাকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু ধর্মীয় বাধার কারণে পারেনি। সোহানার সঙ্গে তার মায়ের এখন নিয়মিত ফোনে কথা হয়। দুয়েকদিনের মধ্যে হয়তো মা-মেয়ের পুনর্মিলন হবে’।