ঢাকা ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার নবজাতকের বাবা-মা আটক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক নবজাতককে ধানক্ষেতে কুঁড়িয়ে পাওয়ার ৯ দিন পর আটক হলো প্রকৃত বাবা-মা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

আটককৃতরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে আল মোমেন (২৪) ও তার স্ত্রী জান্নাত আক্তার শিলা (১৯)। এছাড়াও মামলায় মোমেনের মা শারমিন আক্তার (৫০) ও শিলার মা শিল্পী আক্তারকে (৪০) আসামি করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার এসআই শফিউল আলম বাদী হয়ে সোমবার রাতে শিশুর মা, বাবা, দাদি, নানিকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন। পরে শিশুটিকে অমানবিকভাবে ফেলে রাখা ও নিষ্ঠুরতার দায়ে থানায় মামলা দায়েরের পর বাবা-মাকে আটক করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলীর নির্দেশনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তদন্ত করে নবজাতকের বাবা-মাকে বের করার পর শিশু আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, তারা গত ৭ নভেম্বর শিশুটি জন্ম নিলে নবজাতক শিশুকে ধানক্ষেতে ফেলে দেয়।

এর আগে গত ২২ জুলাই গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে মোমেনের সঙ্গে জালালপুর গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের বয়স মাত্র সাড়ে তিন মাস পর ছেলে নবজাতক জন্মের পরপরই সামাজিকতার ভয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ধানক্ষেতে ফেলে দেয় শিশুটি।

আদমপুর এলাকার স্থানীয় লোকজন ধানক্ষেত থেকে ওই নবজাতকটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সমাজসেবার উদ্যোগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নবজাতকটিকে চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে হাসপাতালেই রাখেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শিশুটি দত্তক নিতে অনেকেই এগিয়ে আসেন। এদিকে এমন সামাজিক অপরাধ বন্ধে স্থানীয়রা সোচ্চার থাকায় পুলিশ হাসপাতালের রেজিস্টার দেখে সেদিন কতজন সন্তান প্রসব করেছেন এগুলো আমলে নিয়ে তদন্তসাপেক্ষে মা-বাবার সন্ধান পায়। সোমবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার নবজাতকের বাবা-মা আটক

আপডেট সময় ১০:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক নবজাতককে ধানক্ষেতে কুঁড়িয়ে পাওয়ার ৯ দিন পর আটক হলো প্রকৃত বাবা-মা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

আটককৃতরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে আল মোমেন (২৪) ও তার স্ত্রী জান্নাত আক্তার শিলা (১৯)। এছাড়াও মামলায় মোমেনের মা শারমিন আক্তার (৫০) ও শিলার মা শিল্পী আক্তারকে (৪০) আসামি করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার এসআই শফিউল আলম বাদী হয়ে সোমবার রাতে শিশুর মা, বাবা, দাদি, নানিকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন। পরে শিশুটিকে অমানবিকভাবে ফেলে রাখা ও নিষ্ঠুরতার দায়ে থানায় মামলা দায়েরের পর বাবা-মাকে আটক করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলীর নির্দেশনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তদন্ত করে নবজাতকের বাবা-মাকে বের করার পর শিশু আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, তারা গত ৭ নভেম্বর শিশুটি জন্ম নিলে নবজাতক শিশুকে ধানক্ষেতে ফেলে দেয়।

এর আগে গত ২২ জুলাই গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে মোমেনের সঙ্গে জালালপুর গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের বয়স মাত্র সাড়ে তিন মাস পর ছেলে নবজাতক জন্মের পরপরই সামাজিকতার ভয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ধানক্ষেতে ফেলে দেয় শিশুটি।

আদমপুর এলাকার স্থানীয় লোকজন ধানক্ষেত থেকে ওই নবজাতকটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সমাজসেবার উদ্যোগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নবজাতকটিকে চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে হাসপাতালেই রাখেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শিশুটি দত্তক নিতে অনেকেই এগিয়ে আসেন। এদিকে এমন সামাজিক অপরাধ বন্ধে স্থানীয়রা সোচ্চার থাকায় পুলিশ হাসপাতালের রেজিস্টার দেখে সেদিন কতজন সন্তান প্রসব করেছেন এগুলো আমলে নিয়ে তদন্তসাপেক্ষে মা-বাবার সন্ধান পায়। সোমবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।