ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০ ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব খোকনের নতুন অর্থবছরের বাজেট জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছে : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সাভারে এনসিপির দুই শতাধিক নেতা-কর্মীর বিএনপিতে যোগদান ডিগ্রির ব্যবসার অবসান ঘটিয়ে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে: ববি হাজ্জাজ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ সারাদেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষক নিহত ইতালির স্বপ্নে ২২ লাখ টাকা খুইয়ে লিবিয়ায় নিখোঁজ মাদারীপুরে হেমায়েত মোল্লা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বভাব: ইরান

ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার নবজাতকের বাবা-মা আটক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক নবজাতককে ধানক্ষেতে কুঁড়িয়ে পাওয়ার ৯ দিন পর আটক হলো প্রকৃত বাবা-মা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

আটককৃতরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে আল মোমেন (২৪) ও তার স্ত্রী জান্নাত আক্তার শিলা (১৯)। এছাড়াও মামলায় মোমেনের মা শারমিন আক্তার (৫০) ও শিলার মা শিল্পী আক্তারকে (৪০) আসামি করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার এসআই শফিউল আলম বাদী হয়ে সোমবার রাতে শিশুর মা, বাবা, দাদি, নানিকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন। পরে শিশুটিকে অমানবিকভাবে ফেলে রাখা ও নিষ্ঠুরতার দায়ে থানায় মামলা দায়েরের পর বাবা-মাকে আটক করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলীর নির্দেশনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তদন্ত করে নবজাতকের বাবা-মাকে বের করার পর শিশু আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, তারা গত ৭ নভেম্বর শিশুটি জন্ম নিলে নবজাতক শিশুকে ধানক্ষেতে ফেলে দেয়।

এর আগে গত ২২ জুলাই গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে মোমেনের সঙ্গে জালালপুর গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের বয়স মাত্র সাড়ে তিন মাস পর ছেলে নবজাতক জন্মের পরপরই সামাজিকতার ভয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ধানক্ষেতে ফেলে দেয় শিশুটি।

আদমপুর এলাকার স্থানীয় লোকজন ধানক্ষেত থেকে ওই নবজাতকটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সমাজসেবার উদ্যোগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নবজাতকটিকে চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে হাসপাতালেই রাখেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শিশুটি দত্তক নিতে অনেকেই এগিয়ে আসেন। এদিকে এমন সামাজিক অপরাধ বন্ধে স্থানীয়রা সোচ্চার থাকায় পুলিশ হাসপাতালের রেজিস্টার দেখে সেদিন কতজন সন্তান প্রসব করেছেন এগুলো আমলে নিয়ে তদন্তসাপেক্ষে মা-বাবার সন্ধান পায়। সোমবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০

ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার নবজাতকের বাবা-মা আটক

আপডেট সময় ১০:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক নবজাতককে ধানক্ষেতে কুঁড়িয়ে পাওয়ার ৯ দিন পর আটক হলো প্রকৃত বাবা-মা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

আটককৃতরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে আল মোমেন (২৪) ও তার স্ত্রী জান্নাত আক্তার শিলা (১৯)। এছাড়াও মামলায় মোমেনের মা শারমিন আক্তার (৫০) ও শিলার মা শিল্পী আক্তারকে (৪০) আসামি করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার এসআই শফিউল আলম বাদী হয়ে সোমবার রাতে শিশুর মা, বাবা, দাদি, নানিকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন। পরে শিশুটিকে অমানবিকভাবে ফেলে রাখা ও নিষ্ঠুরতার দায়ে থানায় মামলা দায়েরের পর বাবা-মাকে আটক করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলীর নির্দেশনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তদন্ত করে নবজাতকের বাবা-মাকে বের করার পর শিশু আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, তারা গত ৭ নভেম্বর শিশুটি জন্ম নিলে নবজাতক শিশুকে ধানক্ষেতে ফেলে দেয়।

এর আগে গত ২২ জুলাই গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে মোমেনের সঙ্গে জালালপুর গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের বয়স মাত্র সাড়ে তিন মাস পর ছেলে নবজাতক জন্মের পরপরই সামাজিকতার ভয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ধানক্ষেতে ফেলে দেয় শিশুটি।

আদমপুর এলাকার স্থানীয় লোকজন ধানক্ষেত থেকে ওই নবজাতকটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সমাজসেবার উদ্যোগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নবজাতকটিকে চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে হাসপাতালেই রাখেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শিশুটি দত্তক নিতে অনেকেই এগিয়ে আসেন। এদিকে এমন সামাজিক অপরাধ বন্ধে স্থানীয়রা সোচ্চার থাকায় পুলিশ হাসপাতালের রেজিস্টার দেখে সেদিন কতজন সন্তান প্রসব করেছেন এগুলো আমলে নিয়ে তদন্তসাপেক্ষে মা-বাবার সন্ধান পায়। সোমবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।