আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
প্রতিদিনের মতো বাবার হাত ধরে স্কুলে যাচ্ছিল ৭ বছরের ছোট্ট শিশু জিসান। এখনো পৃথিবী ভালো করে দেখা হয়নি তার। জীবনের প্রায় পুরো অংশটাই বাকি। কিন্তু না, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা তার জীবনপ্রদীপ সেখানেই থামিয়ে দিল।
স্কুলে যাওয়ার পথে জিসানের কোমল দেহের ওপর ধসে পড়ল সরকারি কলোনির পুরাতন সীমানা-দেয়াল। এতে চাপা পড়ে প্রাণ হারল জিসান।
ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না বাবা নাদের হোসেনের।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার আজিমপুরে ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুলের আগে ২৭ নং কলোনির সীমানা দেয়াল ধসে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। পুরো ঘটনাই ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। যা এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্ষোভ জানাচ্ছেন নাগরিকরা।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, স্কুলব্যাগ কাঁধে বাবার হাত ধরে নিশ্চিন্ত মনে হেঁটে যাচ্ছে জিসান। পেছন থেকে আসছে একটি মোটরসাইকেল। এমন সময় কলোনির দেয়াল ধসে পড়ে জিসান ও তার বাবার ওপর। পেছনের মোটরসাইকেল আরোহীও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান। দেয়ালের ইটের নিচে চাপা পড়ে যায় জিসান। আঘাতপ্রাপ্ত বাবা প্রাণপণ চেষ্টা করেন ইট সরিয়ে নিজের সন্তানকে বের করার৷ ছুটে আসেন প্রত্যক্ষদর্শীরাও। তাদের সহায়তায় দেয়ালের নিচ থেকে দ্রুত বের করা হয় জিসানকে। নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।
কিন্তু হয়নি শেষ রক্ষা। ততক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে জিসান।
জিসানের মরদেহ হাসপাতাল থেকে শহীদ মিয়া মাস্টার বাড়িতে নিয়ে গেলে শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নার মাতমের শব্দে ভারী হয়ে উঠে চারিদিক। কান্না থামিয়ে রাখতে পারেননি এলাকাবাসীও। ফুটফুটে এই শিশুর এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ।
কান্না থামিয়ে জিসানের মা মনি বেগম বলেন, ‘আজকে সিটি করপোরেশনের এই অসচেনতা আর খামখেয়ালিপনার কারণে কোলের ছেলেকে হারালাম। আমি ছেলে হারালাম। আমার এই দুর্ভাগ্য অন্য কোনো বাবা-মায়ের হতে পারত।’
পিলখানা গণপূর্ত উন্নয়ন বিভাগের দাবি, কলোনির পুরাতন দেয়াল ঘেঁষে ডিএসসিসির ড্রেন নির্মাণের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল ঘেঁষে ড্রেন তৈরি না করতে চিঠি দিয়েছিল তারা। পরে গত মে মাসে দেয়ালের কাঠামো সুরক্ষার অনুরোধ করা হয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু সেই চিঠি ও অনুরোধ আমলে নেয়নি ডিএসসিসির সংশ্লিষ্টরা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















