ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা জোট নয়, এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে ইসলামী আন্দোলন ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োগ

কেমন হবে হাশরের ময়দান

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

কিয়ামতের দিন যে মাঠে পৃথিবীর আদি-অন্ত সব মানুষকে সমবেত করা হবে ওই মাঠকে হাশরের ময়দান বা কিয়ামতের ময়দান বলা হয়। পরকালে বিচারের জন্য কবর থেকে উত্থিত হয়ে সব প্রাণী এই মাঠে দণ্ডায়মান থাকবে। পৃথিবীই হবে হাশরের মাঠ। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর উপরিভাগে একটি চাদর আছে, একে পার্শ্ব ধরে টান দেওয়া হবে। ফলে গাছপালা, পাহাড়-পর্বত সাগরে পতিত হবে। অতঃপর সমতল হয়ে যাবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি (আল্লাহ) জমিনের উপরিভাগকে (বিচার দিবসে) উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।’ (সুরা কাহফ, আয়াত : ৮)

হাশরের ময়দানে মানুষ একটি নতুন পৃথিবী দেখতে পাবে, যার চিত্র ও দৃশ্য এই পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে দিন এই পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশও (পরিবর্তিত হবে) আর মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে—যিনি এক, পরাক্রমশালী।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৪৮)

আকাশ ও পৃথিবী পাল্টে দেওয়ার এমন অর্থও হতে পারে যে এগুলোর আকার ও আকৃতি পাল্টে দেওয়া হবে। সে সময় গোটা ভূ-পৃষ্ঠ একটি সমতল ভূমিতে পরিণত করে দেওয়া হবে। এতে কোনো গৃহের ও বৃক্ষের আড়াল থাকবে না। পাহাড়, টিলা, গর্ত ও গভীরতা কিছুই থাকবে না। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতল ভূমি করে ছাড়বেন। তুমি তাতে মোড় ও টিলা দেখবে না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ১০৬ ও ১০৭)

কিয়ামতের দিন জমিনের সব স্বচ্ছ ও পরিষ্কার হয়ে যাবে। সাহল ইবনে সাদ সাঈদ (রা.) থেকে, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন মানুষকে সাদা ধবধবে রুটির মতো জমিনের ওপর একত্র করা হবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, সেখানে কারো কোনো পরিচয়ের পতাকা থাকবে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৫২১)

হাশরের মাঠে একজন দর্শক সবাইকে দেখতে পাবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (সা.)-এর সঙ্গে এক খাবারের দাওয়াতে উপস্থিত ছিলাম। তাঁর সামনে (রান্না করা) ছাগলের বাহু আনা হলো, এটা তাঁর খুব পছন্দনীয় ছিল। তিনি সেখান থেকে এক খণ্ড খেলেন এবং বললেন, আমি কিয়ামতের দিন মানবজাতির সরদার হব। তোমরা কি জানো? আল্লাহ কিভাবে (কিয়ামতের দিন) একই সমতলে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব মানুষকে একত্র করবেন? যেন একজন দর্শক তাদের সবাইকে দেখতে পায় এবং একজন আহ্বানকারীর আহ্বান সবার নিকট পৌঁছায়। সূর্য তাদের অতি কাছে এসে যাবে। তখন কোনো কোনো মানুষ বলবে, তোমরা কি লক্ষ করোনি, তোমরা কি অবস্থায় আছ এবং কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছ…। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৪০)

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

কেমন হবে হাশরের ময়দান

আপডেট সময় ০৬:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

কিয়ামতের দিন যে মাঠে পৃথিবীর আদি-অন্ত সব মানুষকে সমবেত করা হবে ওই মাঠকে হাশরের ময়দান বা কিয়ামতের ময়দান বলা হয়। পরকালে বিচারের জন্য কবর থেকে উত্থিত হয়ে সব প্রাণী এই মাঠে দণ্ডায়মান থাকবে। পৃথিবীই হবে হাশরের মাঠ। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর উপরিভাগে একটি চাদর আছে, একে পার্শ্ব ধরে টান দেওয়া হবে। ফলে গাছপালা, পাহাড়-পর্বত সাগরে পতিত হবে। অতঃপর সমতল হয়ে যাবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি (আল্লাহ) জমিনের উপরিভাগকে (বিচার দিবসে) উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।’ (সুরা কাহফ, আয়াত : ৮)

হাশরের ময়দানে মানুষ একটি নতুন পৃথিবী দেখতে পাবে, যার চিত্র ও দৃশ্য এই পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে দিন এই পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশও (পরিবর্তিত হবে) আর মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে—যিনি এক, পরাক্রমশালী।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৪৮)

আকাশ ও পৃথিবী পাল্টে দেওয়ার এমন অর্থও হতে পারে যে এগুলোর আকার ও আকৃতি পাল্টে দেওয়া হবে। সে সময় গোটা ভূ-পৃষ্ঠ একটি সমতল ভূমিতে পরিণত করে দেওয়া হবে। এতে কোনো গৃহের ও বৃক্ষের আড়াল থাকবে না। পাহাড়, টিলা, গর্ত ও গভীরতা কিছুই থাকবে না। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতল ভূমি করে ছাড়বেন। তুমি তাতে মোড় ও টিলা দেখবে না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ১০৬ ও ১০৭)

কিয়ামতের দিন জমিনের সব স্বচ্ছ ও পরিষ্কার হয়ে যাবে। সাহল ইবনে সাদ সাঈদ (রা.) থেকে, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন মানুষকে সাদা ধবধবে রুটির মতো জমিনের ওপর একত্র করা হবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, সেখানে কারো কোনো পরিচয়ের পতাকা থাকবে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৫২১)

হাশরের মাঠে একজন দর্শক সবাইকে দেখতে পাবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (সা.)-এর সঙ্গে এক খাবারের দাওয়াতে উপস্থিত ছিলাম। তাঁর সামনে (রান্না করা) ছাগলের বাহু আনা হলো, এটা তাঁর খুব পছন্দনীয় ছিল। তিনি সেখান থেকে এক খণ্ড খেলেন এবং বললেন, আমি কিয়ামতের দিন মানবজাতির সরদার হব। তোমরা কি জানো? আল্লাহ কিভাবে (কিয়ামতের দিন) একই সমতলে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব মানুষকে একত্র করবেন? যেন একজন দর্শক তাদের সবাইকে দেখতে পায় এবং একজন আহ্বানকারীর আহ্বান সবার নিকট পৌঁছায়। সূর্য তাদের অতি কাছে এসে যাবে। তখন কোনো কোনো মানুষ বলবে, তোমরা কি লক্ষ করোনি, তোমরা কি অবস্থায় আছ এবং কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছ…। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৪০)