ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বন্ধকি সম্পদ বিক্রিতে পরিচালকদের জালিয়াতি রোধে কঠোর তদারকি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের জালিয়াতি ঠেকাতে তদারকি জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে প্রতি ছয় মাস পরপর বন্ধকি সম্পদ বিক্রির তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। একই সঙ্গে সম্পদের মূল্য বিভিন্ন সময়ে কত ছিল সেসব তথ্যও জানাতে হবে। সম্পদ মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করলে সে বিষয়েও কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। এ বিষয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, বন্ধকি সম্পদ বিশেষ করে জমি, ভবন বা অন্যান্য সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালক বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নানাভাবে জাল জালিয়াতি করে। এসব সম্পদের মূল্য কম দেখিয়ে কম মূল্যে বিক্রি করে এগুলো পরিচালক বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কিনে নেয়। এতে ব্যাংকের আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডাররা বঞ্চিত হয়। এ প্রবণতা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন প্রক্রিয়ায় তদারকি জোরদার করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপে বকেয়া ঋণ আদায় বাড়াতে বন্ধকি সম্পদ বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। এসব সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট ছকে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ জমি, ভবনসহ অন্যান্য নন ব্যাংকিং সম্পদ বিক্রি করে সেসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রতি ছয় মাস পরপর জানাতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর নন ব্যাংকিং সম্পদ বিক্রির তথ্য প্রতি বছর জুন ও ডিসেম্বর ভিত্তিতে জানাতে হবে। ওই দুই মাস শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট ছকও পাঠিয়েছে। নন ব্যাংকিং সম্পদের মধ্যে জমি, ভবনসহ অন্যান্য সম্পদের মধ্যে যেগুলো থেকে আয় হয় এবং যেগুলো থেকে আয় হয় না সেসব সম্পদের তথ্যও আলাদাভাবে দেখাতে হবে। সম্পদ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ উল্লেখ করতে হবে।

একই সঙ্গে সম্পদের বিভিন্ন সময়ের মূল্যের তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। এর মধ্যে সাত বছরের কম সময়ের, ৭ থেকে ১২ বছরের এবং ১২ বছরের বেশি সময়ের তথ্য উল্লেখ করতে হবে। ব্যাংকগুলো কী সম্পদ, কী পরিমাণে এবং কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছে সেসব তথ্যও জানাতে হবে। কোনো নন ব্যাংকিং সম্পদকে স্থায়ী সম্পদে রূপান্তর করে থাকলে সেগুলোর তথ্যও জানাতে হবে।

সূত্র জানায়, এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে দুটি সার্কুলারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধকি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারি করেছে। এর মধ্যে ঋণ দেওয়ার সময় বন্ধকি সম্পদের মূল্য কত ছিল। ঋণটি খেলাপি হওয়ার পর বিক্রির সময় এর মূল্য কত হলো। আগের মূল্যের চেয়ে বিক্রি মূল্য কম হলে কেন কম হলো তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কারণ গ্রহণযোগ্য না হলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ জন্য প্রয়োজনে ব্যাংকের এমডিকেও জবাবদিহি করতে হবে।

সূত্র জানায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্পদকে কম দামে নিলাম করে পরিচালক বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে কেনা হয়েছে। এভাবে অনেক পরিচালক ব্যাংককে বঞ্চিত করে নিজেরা লাভবান হয়েছেন। এ প্রবণতা ঠেকাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নন ব্যাংকিং সম্পদের ওপর তদারকি বাড়িয়েছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বন্ধকি সম্পদ ঋণটি খেলাপি হয়ে পড়লেই গ্রাহককে নোটিশ দিয়ে ব্যাংক সরাসরি বিক্রি করতে পারে। এতে ঋণের টাকা পরিশোধিত না হলে ঋণ গ্রহীতার অন্য সম্পদের ওপর ব্যাংক অধিকার দাবি করে মামলা করতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বন্ধকি সম্পদ বিক্রিতে পরিচালকদের জালিয়াতি রোধে কঠোর তদারকি

আপডেট সময় ০৫:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের জালিয়াতি ঠেকাতে তদারকি জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে প্রতি ছয় মাস পরপর বন্ধকি সম্পদ বিক্রির তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। একই সঙ্গে সম্পদের মূল্য বিভিন্ন সময়ে কত ছিল সেসব তথ্যও জানাতে হবে। সম্পদ মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করলে সে বিষয়েও কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। এ বিষয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, বন্ধকি সম্পদ বিশেষ করে জমি, ভবন বা অন্যান্য সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালক বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নানাভাবে জাল জালিয়াতি করে। এসব সম্পদের মূল্য কম দেখিয়ে কম মূল্যে বিক্রি করে এগুলো পরিচালক বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কিনে নেয়। এতে ব্যাংকের আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডাররা বঞ্চিত হয়। এ প্রবণতা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন প্রক্রিয়ায় তদারকি জোরদার করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপে বকেয়া ঋণ আদায় বাড়াতে বন্ধকি সম্পদ বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। এসব সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট ছকে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ জমি, ভবনসহ অন্যান্য নন ব্যাংকিং সম্পদ বিক্রি করে সেসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রতি ছয় মাস পরপর জানাতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর নন ব্যাংকিং সম্পদ বিক্রির তথ্য প্রতি বছর জুন ও ডিসেম্বর ভিত্তিতে জানাতে হবে। ওই দুই মাস শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট ছকও পাঠিয়েছে। নন ব্যাংকিং সম্পদের মধ্যে জমি, ভবনসহ অন্যান্য সম্পদের মধ্যে যেগুলো থেকে আয় হয় এবং যেগুলো থেকে আয় হয় না সেসব সম্পদের তথ্যও আলাদাভাবে দেখাতে হবে। সম্পদ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ উল্লেখ করতে হবে।

একই সঙ্গে সম্পদের বিভিন্ন সময়ের মূল্যের তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। এর মধ্যে সাত বছরের কম সময়ের, ৭ থেকে ১২ বছরের এবং ১২ বছরের বেশি সময়ের তথ্য উল্লেখ করতে হবে। ব্যাংকগুলো কী সম্পদ, কী পরিমাণে এবং কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছে সেসব তথ্যও জানাতে হবে। কোনো নন ব্যাংকিং সম্পদকে স্থায়ী সম্পদে রূপান্তর করে থাকলে সেগুলোর তথ্যও জানাতে হবে।

সূত্র জানায়, এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে দুটি সার্কুলারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধকি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারি করেছে। এর মধ্যে ঋণ দেওয়ার সময় বন্ধকি সম্পদের মূল্য কত ছিল। ঋণটি খেলাপি হওয়ার পর বিক্রির সময় এর মূল্য কত হলো। আগের মূল্যের চেয়ে বিক্রি মূল্য কম হলে কেন কম হলো তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কারণ গ্রহণযোগ্য না হলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ জন্য প্রয়োজনে ব্যাংকের এমডিকেও জবাবদিহি করতে হবে।

সূত্র জানায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্পদকে কম দামে নিলাম করে পরিচালক বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে কেনা হয়েছে। এভাবে অনেক পরিচালক ব্যাংককে বঞ্চিত করে নিজেরা লাভবান হয়েছেন। এ প্রবণতা ঠেকাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নন ব্যাংকিং সম্পদের ওপর তদারকি বাড়িয়েছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বন্ধকি সম্পদ ঋণটি খেলাপি হয়ে পড়লেই গ্রাহককে নোটিশ দিয়ে ব্যাংক সরাসরি বিক্রি করতে পারে। এতে ঋণের টাকা পরিশোধিত না হলে ঋণ গ্রহীতার অন্য সম্পদের ওপর ব্যাংক অধিকার দাবি করে মামলা করতে পারে।