ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি একাত্তরে দেশ চায়নি জামায়াত, ইশতেহারেও ইসলাম নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখা বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি:সংসদে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন: বিরোধীদলীয় নেতা হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ: নাসীরুদ্দীন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার

স্টেশনে হারিয়ে যাওয়া মিনতি ৪০ বছর পর খুঁজে পেল পরিবার!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিনতি বেগম (৪৭)। ৪০ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ৪০ বছর পরে শাহরুখ নয়ন নামের এক তরুণের উদ্যোগে খুঁজে পেয়েছেন তার পরিবার-পরিজন। রবিবার দুপুরে মিনতির নিজ গ্রাম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের রানীগ্রামে মিনতিকে বাবা-মা স্বজনদের হাতে তুলে দেন শাহরুখ নয়ন।

মিনতি রানীগ্রাম এলাকার মো. বাছের আলীর হারিয়ে যাওয়া সেই ৬ বছরের শিশু মেয়ে। নিজের আপন ঠিকানা মা-বাবা ও স্বজনদের কাছে পেয়ে আবেক আপ্লুত হয়ে পরেন মিনতি ও তার পরিবারের লোকজন।

মিনতির ভাই তাছের আলী জানান, তারা চার ভাই-বোন ছিলেন। তার মধ্যে মিনতিই ছোট। মিনতির যখন ৬ বছর বয়স তখন তার চাচাতো বোন জামাইয়ের সঙ্গে ময়মনসিংহে বেড়াতে যায়। সেখানে দুলাভাইয়ের সাথে ঘুরতে ঘুরতেই স্টেশনে হারিয়ে যায় মিনতি। পরে সেখানকার মসলেম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানেই বড় হয় মিনতি। মিনতি বড় হওয়ার পরে তাকে গাজিপুরের শ্রীপুর এলাকার ব্যবসায়ী বুরহান উদ্দিনের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তার গর্ভে চার মেয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন মিনতি এক মেয়ে বাসায় থাকেন। ৪০ বছর পর নিজের হারানো বোনকে খুঁজে পেয়ে আবেগে আপ্লুত সকলেই।

মিনতিকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার পেছনের কাজ করেছে শাহরুখ নয়ন। তিনি জানান, তার বাড়ি উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মকিমপুর এলাকায়। তিনি চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জনাব আলীর ছেলে। ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। পড়াশোনারত অবস্থায় পরিচয় হয় মিনতির মেয়ে জামাইয়ের সাথে। মেয়ে জামাইয়ের কাছেই শোনেন মিনতির জীবনের গল্প। তখন মিনতির সাথে কথা বলে তিনি জানতে পারেন রাজশাহী জেলার কাছিকাটা গ্রামে তার বাসা। এতটুকু ছাড়া মিনতি আর কিছুই বলতে পারেনা। মিনতি যখন হারিয়ে যায় তখন বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছিল। যেহেতু নিজ উপজেলাতে কাছিকাটা গ্রাম রয়েছে এ জন্য তিনি কাছিকাটা গ্রামে এসে কাছিকাটা এলাকার পথে পান্তরে মিনতির বর্তমান ছবিসহ লিফলেট বিতরণ করেন। এভাবেই খোঁজাখুঁজি করতে করতে রানীগ্রাম এলাকা থেকে একটি ফোন আসে মিনতির বিষয়ে। মিনতি মোবাইল ফোনে তাদের সাথে কথা বলে এবং ছোট বেলার কিছু চিহ্ন ও স্মৃতি রয়েছে সেই সূত্র ধরেই আপন ঠিকানার সন্ধান পায় মিনতি। এরপর মিনতিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, পরিশ্রম কখনও বিফলে যায় না।

মিনতি বেগম তার অনুভূতি ব্যক্ত করে জানান, ৪০ বছর পর তার আপন ঠিকানা ও মা-বাবা ভাই বোন সকলের দেখা পাবে তা কখনও কল্পনাও করেননি। নিজের মা-বাবা আত্মীয় স্বজনদের কাছে পেয়ে অনেক ভাল লাগছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি

স্টেশনে হারিয়ে যাওয়া মিনতি ৪০ বছর পর খুঁজে পেল পরিবার!

আপডেট সময় ১০:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিনতি বেগম (৪৭)। ৪০ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ৪০ বছর পরে শাহরুখ নয়ন নামের এক তরুণের উদ্যোগে খুঁজে পেয়েছেন তার পরিবার-পরিজন। রবিবার দুপুরে মিনতির নিজ গ্রাম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের রানীগ্রামে মিনতিকে বাবা-মা স্বজনদের হাতে তুলে দেন শাহরুখ নয়ন।

মিনতি রানীগ্রাম এলাকার মো. বাছের আলীর হারিয়ে যাওয়া সেই ৬ বছরের শিশু মেয়ে। নিজের আপন ঠিকানা মা-বাবা ও স্বজনদের কাছে পেয়ে আবেক আপ্লুত হয়ে পরেন মিনতি ও তার পরিবারের লোকজন।

মিনতির ভাই তাছের আলী জানান, তারা চার ভাই-বোন ছিলেন। তার মধ্যে মিনতিই ছোট। মিনতির যখন ৬ বছর বয়স তখন তার চাচাতো বোন জামাইয়ের সঙ্গে ময়মনসিংহে বেড়াতে যায়। সেখানে দুলাভাইয়ের সাথে ঘুরতে ঘুরতেই স্টেশনে হারিয়ে যায় মিনতি। পরে সেখানকার মসলেম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানেই বড় হয় মিনতি। মিনতি বড় হওয়ার পরে তাকে গাজিপুরের শ্রীপুর এলাকার ব্যবসায়ী বুরহান উদ্দিনের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তার গর্ভে চার মেয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন মিনতি এক মেয়ে বাসায় থাকেন। ৪০ বছর পর নিজের হারানো বোনকে খুঁজে পেয়ে আবেগে আপ্লুত সকলেই।

মিনতিকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার পেছনের কাজ করেছে শাহরুখ নয়ন। তিনি জানান, তার বাড়ি উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মকিমপুর এলাকায়। তিনি চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জনাব আলীর ছেলে। ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। পড়াশোনারত অবস্থায় পরিচয় হয় মিনতির মেয়ে জামাইয়ের সাথে। মেয়ে জামাইয়ের কাছেই শোনেন মিনতির জীবনের গল্প। তখন মিনতির সাথে কথা বলে তিনি জানতে পারেন রাজশাহী জেলার কাছিকাটা গ্রামে তার বাসা। এতটুকু ছাড়া মিনতি আর কিছুই বলতে পারেনা। মিনতি যখন হারিয়ে যায় তখন বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছিল। যেহেতু নিজ উপজেলাতে কাছিকাটা গ্রাম রয়েছে এ জন্য তিনি কাছিকাটা গ্রামে এসে কাছিকাটা এলাকার পথে পান্তরে মিনতির বর্তমান ছবিসহ লিফলেট বিতরণ করেন। এভাবেই খোঁজাখুঁজি করতে করতে রানীগ্রাম এলাকা থেকে একটি ফোন আসে মিনতির বিষয়ে। মিনতি মোবাইল ফোনে তাদের সাথে কথা বলে এবং ছোট বেলার কিছু চিহ্ন ও স্মৃতি রয়েছে সেই সূত্র ধরেই আপন ঠিকানার সন্ধান পায় মিনতি। এরপর মিনতিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, পরিশ্রম কখনও বিফলে যায় না।

মিনতি বেগম তার অনুভূতি ব্যক্ত করে জানান, ৪০ বছর পর তার আপন ঠিকানা ও মা-বাবা ভাই বোন সকলের দেখা পাবে তা কখনও কল্পনাও করেননি। নিজের মা-বাবা আত্মীয় স্বজনদের কাছে পেয়ে অনেক ভাল লাগছে।