ঢাকা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে: সাইফুল হক হুইলচেয়ারে বসে দীপু মনিকে দেখতে ট্রাইব্যুনালে এলেন স্বামী বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার মাদক সেবনের ছবি ভাইরাল এটা আমি-ডামির সরকার না, কাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে চান: সংসদে টুকু হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডে ‘অর্থহীন’ হয়ে পড়ছে যুদ্ধবিরতি, দাবি নেতানিয়াহুর শান্তি চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করুক তেহরান: ট্রাম্প আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়, সে কারণেই আমি আজ সংসদে ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন, সে আরাম এখন হচ্ছে না: বিরোধী দলকে প্রতিমন্ত্রী আইভীকে নতুন মামলায় গ্রেফতার-হয়রানি না করার নির্দেশ জামায়াতের এমপিকে মসজিদে হত্যাচেষ্টা, সংসদে চাইলেন নিরাপত্তা

চুরির মিথ্যা অভিযোগে শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরগুনায় চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে শাওন (১১) নামে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাদশা নামের এক দোকানি তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার কলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু শিক্ষার্থী শাওন বরগুনা সদর ইউনিয়নের পার্বতী গ্রামের শামীম হাওলাদারের ছেলে।

জানা যায়, রোববার বিকেলে শাওন পাশের গ্রাম কলাতলায় ঘুরতে গিয়ে বাদশা মল্লিকের মুদি দোকানের সামনে বসে। ওই সময় দোকানদার বাদশা দোকানের মধ্য ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুম থেকে জেগে শাওনকে দোকানের সামনে বসে থাকতে দেখে টাকা ও খাবার চুরির অভিযোগে তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।

তখন শাওন বার বার চিৎকার করে তার কি দোষ ও তাকে কেন মারা হচ্ছে জানতে চেয়ে কান্না করলেও থামেনি সেই দোকানী। বাদশা রাগে উত্তেজিত হয়ে শাওনকে স্টীলের টর্চ লাইট দিয়ে পিটায় এবং লাথি মেরে আহত করে।

পরে আহত অবস্থায় শিশু শাওন দোকানের সামনে পরে থাকলে শিশুটির পরিবার এসে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।

শাওনের চাচা সারোয়ার হোসেন মিন্টু জানান, বিকেল ৫টার দিকে টিভি দেখতে বসে শাওন। একটু পরে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাইরে ঘুরতে বের হয়ে পাশের কলাতলা এলাকায় যায়। এ সময় মুদি দোকানদার বাদশা মল্লিকের দোকানে সামনে বসে শাওন। দোকানদার বাদশা ওই সময় দোকানে ঘুমে ছিল। দোকানদার বাদশা হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে শাওনকে দোকানের সামনে বসা দেখে মারার জন্য তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এ সময় বাদশা স্টিলের লম্বা টর্চ লাইট দিয়ে শাওনকে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায় শাওনের পেটে একাধিক লাথি মারে এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে। এতে শাওন গুরুতর আহত হয়।

একটি ১১ বছরের শিশুকে কোনো ঘটনা ছাড়াই বা কিছু না জেনেই নিষ্ঠুর ও নির্মম ভাবে মারতে পারে সে কোন মানুষ হতে পারে না বলেও জানান তিনি। নির্যাতনকারী দোকানদার বাদশার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাদশা মল্লিকের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা অভিযোগ দিয়েছে। বাদশাকে আটক করার জন্য আপ্রান চেস্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু বাদশা পালাতক রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিএনপির আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে: সাইফুল হক

চুরির মিথ্যা অভিযোগে শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর

আপডেট সময় ০৬:০৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরগুনায় চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে শাওন (১১) নামে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাদশা নামের এক দোকানি তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার কলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু শিক্ষার্থী শাওন বরগুনা সদর ইউনিয়নের পার্বতী গ্রামের শামীম হাওলাদারের ছেলে।

জানা যায়, রোববার বিকেলে শাওন পাশের গ্রাম কলাতলায় ঘুরতে গিয়ে বাদশা মল্লিকের মুদি দোকানের সামনে বসে। ওই সময় দোকানদার বাদশা দোকানের মধ্য ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুম থেকে জেগে শাওনকে দোকানের সামনে বসে থাকতে দেখে টাকা ও খাবার চুরির অভিযোগে তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।

তখন শাওন বার বার চিৎকার করে তার কি দোষ ও তাকে কেন মারা হচ্ছে জানতে চেয়ে কান্না করলেও থামেনি সেই দোকানী। বাদশা রাগে উত্তেজিত হয়ে শাওনকে স্টীলের টর্চ লাইট দিয়ে পিটায় এবং লাথি মেরে আহত করে।

পরে আহত অবস্থায় শিশু শাওন দোকানের সামনে পরে থাকলে শিশুটির পরিবার এসে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।

শাওনের চাচা সারোয়ার হোসেন মিন্টু জানান, বিকেল ৫টার দিকে টিভি দেখতে বসে শাওন। একটু পরে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাইরে ঘুরতে বের হয়ে পাশের কলাতলা এলাকায় যায়। এ সময় মুদি দোকানদার বাদশা মল্লিকের দোকানে সামনে বসে শাওন। দোকানদার বাদশা ওই সময় দোকানে ঘুমে ছিল। দোকানদার বাদশা হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে শাওনকে দোকানের সামনে বসা দেখে মারার জন্য তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এ সময় বাদশা স্টিলের লম্বা টর্চ লাইট দিয়ে শাওনকে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায় শাওনের পেটে একাধিক লাথি মারে এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে। এতে শাওন গুরুতর আহত হয়।

একটি ১১ বছরের শিশুকে কোনো ঘটনা ছাড়াই বা কিছু না জেনেই নিষ্ঠুর ও নির্মম ভাবে মারতে পারে সে কোন মানুষ হতে পারে না বলেও জানান তিনি। নির্যাতনকারী দোকানদার বাদশার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাদশা মল্লিকের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা অভিযোগ দিয়েছে। বাদশাকে আটক করার জন্য আপ্রান চেস্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু বাদশা পালাতক রয়েছে।