ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে গ্রামপুলিশের আত্মহত্যা চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু: স্পিকার জনগণের কাছে যান, শহর ঘুরে দেখুন: সিটি প্রশাসকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ২৩ দেশে এমএলএআর পাঠিয়েছে সরকার:সংসদে অর্থমন্ত্রী তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ভুয়া প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হয়েছে ইরান: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১১ বছর লুকিয়ে থেকে অপহরণের নাটক!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হবিগঞ্জে এক নারীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১১ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন চার ব্যক্তি। জেল খাটতে হয়েছে তিনজনকে।

অথচ ১১ বছর পর জানা গেল মামলাটি মিথ্যা। অপহরণ নয়; আত্মগোপনে ছিলেন ওই নারী।

জহুরা খাতুন শিমু নামে ওই নারীকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিমুকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিমু সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, শিমুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন তার মা আমেনা খাতুন। রতনপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ, সুরাব আলী, আব্বাস মিয়া ও হারুন মিয়াকে এ মামলায় আসামি করা হয়। এরপর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। পরে অবশ্য চারজনই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। কিন্তু নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন তারা।

এরপর হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে আদালত ওই নারীকে উদ্ধারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। এরপর শিমুর সন্ধানে নামে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে শিমুকে গ্রেফতার করেন থানাটির উপ পরিদর্শক (এসআই) সনক কান্তি দাশ।

এসআই সনক বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিমু জানিয়েছেন, তাকে কেউ অপহরণ করেননি। পরিবারের পরামর্শে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের একটি কাপড়ের কারখানায় চাকরি করতেন। নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো। বাড়িতে টাকাও পাঠাতেন। শিমু আরও জানান যে প্রতিপক্ষ দুই পরিবারে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। দুই পক্ষই এর আগে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছিল।

তিনি আরও জানান, মামলাটি মিথ্যা উল্লেখ করে আদালতে দুইবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। কিন্তু বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। অবশেষে জানা গেল মামলাটি মিথ্যা। অপরাধ না করেই ভুক্তভোগী হয়েছেন চার আসামি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

১১ বছর লুকিয়ে থেকে অপহরণের নাটক!

আপডেট সময় ০১:২১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হবিগঞ্জে এক নারীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১১ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন চার ব্যক্তি। জেল খাটতে হয়েছে তিনজনকে।

অথচ ১১ বছর পর জানা গেল মামলাটি মিথ্যা। অপহরণ নয়; আত্মগোপনে ছিলেন ওই নারী।

জহুরা খাতুন শিমু নামে ওই নারীকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিমুকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিমু সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, শিমুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন তার মা আমেনা খাতুন। রতনপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ, সুরাব আলী, আব্বাস মিয়া ও হারুন মিয়াকে এ মামলায় আসামি করা হয়। এরপর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। পরে অবশ্য চারজনই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। কিন্তু নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন তারা।

এরপর হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে আদালত ওই নারীকে উদ্ধারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। এরপর শিমুর সন্ধানে নামে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে শিমুকে গ্রেফতার করেন থানাটির উপ পরিদর্শক (এসআই) সনক কান্তি দাশ।

এসআই সনক বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিমু জানিয়েছেন, তাকে কেউ অপহরণ করেননি। পরিবারের পরামর্শে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের একটি কাপড়ের কারখানায় চাকরি করতেন। নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো। বাড়িতে টাকাও পাঠাতেন। শিমু আরও জানান যে প্রতিপক্ষ দুই পরিবারে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। দুই পক্ষই এর আগে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছিল।

তিনি আরও জানান, মামলাটি মিথ্যা উল্লেখ করে আদালতে দুইবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। কিন্তু বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। অবশেষে জানা গেল মামলাটি মিথ্যা। অপরাধ না করেই ভুক্তভোগী হয়েছেন চার আসামি।