ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গৃহবধূর স্বীকৃতি মেলেনি, দেশ থেকে পলাতক স্বামী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

নেত্রকোনার মদনে এক গৃহবধূর স্বীকৃতি মেলেনি শ্বশুরবাড়ি থেকে। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারক স্বামী পাড়ি দিয়েছে সৌদি আরব। এমন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহবধূ স্বামীর বাড়িতে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনশন শুরু করেছেন।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী গ্রামের হারেছ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন সৈকতের বাড়িতে অনশনে বসেন একই গ্রামের ওই গৃহবধূ। স্ত্রীর স্বীকৃতি ও ভরণ পোষণ না পেলে আত্মহত্যারও হুমকি দেন তিনি।

বুধবার রুদ্রশ্রী গ্রামের বাড়ি সরেজমিন গেলে গৃহবধূকে স্বামীর বাড়িতে অনশন অবস্থায় দেখা যায়।

জানা গেছে, তারা একে অপরকে ভালোবেসে ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর কোর্ট ম্যারেজ করেন। এতে ছেলের পরিবারের লোকজন প্রাথমিক অবস্থায় এ বিয়ে মেনে নেয়নি। পরে তারা দুজনে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন সংসার করার পর ২০২১ সালের ৫ জুলাই ওই গৃহবধূকে ভাড়া বাসায় রেখে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চট্রগ্রাম চলে গেছে বলে জানায়।

তার ফোন বন্ধ থাকায় সন্ধান চেয়ে ওই গৃহবধূ ১ আগস্ট ঢাকার ভাষানটেক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জানতে পারেন তার স্বামী সৌদি আরব চলে গেছেন। নিরুপায় হয়ে মঙ্গলবার স্বামী দেলোয়ারের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে বসেন। অনশনে বসার পর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জানতে পারেন তার স্বামী তাকে গত ৬ জুলাই কোর্টের মাধ্যমে তালাকনামার একটি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

গৃহবধূ বলেন, দেলোয়ার হোসেন সৈকত আমার স্বামী। আমরা বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলাম। পরিবারের লোকজনের পরামর্শে আমার স্বামী আত্মগোপন করেছেন। আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে বিদেশ যেতে পারে না। সে অবশ্যই দেশে আছে। শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে গ্রহণ না করলে আমি এখানেই জীবন দিব। আমি এখানে আসার পর থেকেই তারা আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি এখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

গৃহবধূর শাশুড়ি দিলোয়ারা আক্তার ছেলে বিয়ে করেছে এমন কথা স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে তাকে বিয়ে করেছে জানতাম। এটাও জানি তাকে আমার ছেলে তালাক দিয়েছে। তাছাড়া আমার ছেলে বিদেশে চলে গেছে। তালাক দেওয়া বউ নিয়ে তো আমি সংসার করতে পারব না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আমি শুনেছি একটি মেয়ে গৃহবধূর দাবি নিয়ে তাদের বাড়িতে অনশনে বসেছেন। কিন্তু এ নিয়ে দেখলাম ইউনিয়ন পরিষদে ছেলের স্বাক্ষরে তালাকনামার একটি নোটিশ পাঠিয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।

মদন থানার ওসি ফেরদৌস আলম জানান, দেলোয়ার আগে থেকেই সৌদি আরবে থাকত। সেখান থেকেই তার সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে প্রেম হয়, পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে শুনেছি তাকে নাকি কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে। তবে বিষয়টি হলো পারিবারিক। পারিবারিকভাবেই মীমাংসা করতে হবে। তাছাড়া ঘটনাটি আমার এলাকায় ঘটেনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

গৃহবধূর স্বীকৃতি মেলেনি, দেশ থেকে পলাতক স্বামী

আপডেট সময় ১১:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

নেত্রকোনার মদনে এক গৃহবধূর স্বীকৃতি মেলেনি শ্বশুরবাড়ি থেকে। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারক স্বামী পাড়ি দিয়েছে সৌদি আরব। এমন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহবধূ স্বামীর বাড়িতে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনশন শুরু করেছেন।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী গ্রামের হারেছ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন সৈকতের বাড়িতে অনশনে বসেন একই গ্রামের ওই গৃহবধূ। স্ত্রীর স্বীকৃতি ও ভরণ পোষণ না পেলে আত্মহত্যারও হুমকি দেন তিনি।

বুধবার রুদ্রশ্রী গ্রামের বাড়ি সরেজমিন গেলে গৃহবধূকে স্বামীর বাড়িতে অনশন অবস্থায় দেখা যায়।

জানা গেছে, তারা একে অপরকে ভালোবেসে ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর কোর্ট ম্যারেজ করেন। এতে ছেলের পরিবারের লোকজন প্রাথমিক অবস্থায় এ বিয়ে মেনে নেয়নি। পরে তারা দুজনে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন সংসার করার পর ২০২১ সালের ৫ জুলাই ওই গৃহবধূকে ভাড়া বাসায় রেখে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চট্রগ্রাম চলে গেছে বলে জানায়।

তার ফোন বন্ধ থাকায় সন্ধান চেয়ে ওই গৃহবধূ ১ আগস্ট ঢাকার ভাষানটেক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জানতে পারেন তার স্বামী সৌদি আরব চলে গেছেন। নিরুপায় হয়ে মঙ্গলবার স্বামী দেলোয়ারের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে বসেন। অনশনে বসার পর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জানতে পারেন তার স্বামী তাকে গত ৬ জুলাই কোর্টের মাধ্যমে তালাকনামার একটি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

গৃহবধূ বলেন, দেলোয়ার হোসেন সৈকত আমার স্বামী। আমরা বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলাম। পরিবারের লোকজনের পরামর্শে আমার স্বামী আত্মগোপন করেছেন। আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে বিদেশ যেতে পারে না। সে অবশ্যই দেশে আছে। শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে গ্রহণ না করলে আমি এখানেই জীবন দিব। আমি এখানে আসার পর থেকেই তারা আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি এখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

গৃহবধূর শাশুড়ি দিলোয়ারা আক্তার ছেলে বিয়ে করেছে এমন কথা স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে তাকে বিয়ে করেছে জানতাম। এটাও জানি তাকে আমার ছেলে তালাক দিয়েছে। তাছাড়া আমার ছেলে বিদেশে চলে গেছে। তালাক দেওয়া বউ নিয়ে তো আমি সংসার করতে পারব না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আমি শুনেছি একটি মেয়ে গৃহবধূর দাবি নিয়ে তাদের বাড়িতে অনশনে বসেছেন। কিন্তু এ নিয়ে দেখলাম ইউনিয়ন পরিষদে ছেলের স্বাক্ষরে তালাকনামার একটি নোটিশ পাঠিয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।

মদন থানার ওসি ফেরদৌস আলম জানান, দেলোয়ার আগে থেকেই সৌদি আরবে থাকত। সেখান থেকেই তার সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে প্রেম হয়, পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে শুনেছি তাকে নাকি কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে। তবে বিষয়টি হলো পারিবারিক। পারিবারিকভাবেই মীমাংসা করতে হবে। তাছাড়া ঘটনাটি আমার এলাকায় ঘটেনি।