ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বাকি না দেওয়ায় মাথার খুলি ভেঙে ব্যবসায়ীকে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাকি না দেওয়ায় পিটিয়ে মাথার খুলি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে সেই ব্যবসায়ী মো. সেলিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সেলিমের বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নতুন বাক্তারচর এলাকায়। পাশের মোল্লারহাট বাজারে তার জ্বালানি তেলের দোকান রয়েছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রানা রায়হান নামে এক কাস্টমারের কাছে সেলিম ডিজেল বিক্রির ১১ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা না দিয়ে রানা আরও ৬৩ হাজার টাকার তেল বাকিতে নিতে চাইলে দোকানে থাকা সেলিমের ছোটভাই শরীফ ও বোনজামাই নূর মোহাম্মদ বাকিতে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৩ জুন দুপুরে রানা রায়হানের নেতৃত্বে আব্বাস আলী, হাতিম মিয়া, রবিউল্ল্যাহ, জাহের আলী, শাহীন, সজিবসহ ১০-১২ জন লাঠিসোটা নিয়ে শরীফ ও নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে ছিলেন সেলিম। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে তার মাথার খুলি ভেঙে দেয়।

গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দফা মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় খুলির অনেকটা অংশ মাথা থেকে খুলে আলাদা করে রাখেন ডাক্তাররা। সেই খুলি এনে রাখা হয় সেলিমের বাড়ির ফ্রিজে।

সেলিমের স্ত্রী আকলিমা বেগম জানান, মাথার অপারেশনের পর খুলির কিছু অংশ ডাক্তাররা তাদের দেন ফ্রিজে রাখার জন্য।

ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, অপারেশন সফল হলে ফ্রিজে রাখা খুলির অংশ মাথায় প্রতিস্থাপন করা হবে; কিন্তু সেটি আর হলো না। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে তিনি মারা গেছেন। কথা বলার সময় আকলিমা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

এ সময় তিনি বলেন, বিনা অপরাধে ওরা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিন সন্তান (দুই মেয়ে ও এক ছেলে) নিয়ে এখন আমি কীভাবে চলব।

জানা গেছে, ঘটনার পর স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন আকলিমা। তার দায়ের করা মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করলেও পরে তারা আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। হত্যাচেষ্টা মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন জাজিরা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. কায়সার।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রথম কর্মকর্তা তদন্তে গুরুত্ব দেননি। পরে তারা এ ব্যাপারে মৌখিকভাবে থানার ওসিকে জানালে তিনি তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই নাজমুল আলম।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। যেহেতু আহত ব্যক্তি মারা গেছেন, তাই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে। আগের ধারাগুলোর সঙ্গে ৩০২ ধারা যোগ হবে। এখন হত্যা মামলা হিসেবেই এটি তদন্ত করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাকি না দেওয়ায় মাথার খুলি ভেঙে ব্যবসায়ীকে হত্যা

আপডেট সময় ০৯:০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাকি না দেওয়ায় পিটিয়ে মাথার খুলি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে সেই ব্যবসায়ী মো. সেলিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সেলিমের বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নতুন বাক্তারচর এলাকায়। পাশের মোল্লারহাট বাজারে তার জ্বালানি তেলের দোকান রয়েছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রানা রায়হান নামে এক কাস্টমারের কাছে সেলিম ডিজেল বিক্রির ১১ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা না দিয়ে রানা আরও ৬৩ হাজার টাকার তেল বাকিতে নিতে চাইলে দোকানে থাকা সেলিমের ছোটভাই শরীফ ও বোনজামাই নূর মোহাম্মদ বাকিতে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৩ জুন দুপুরে রানা রায়হানের নেতৃত্বে আব্বাস আলী, হাতিম মিয়া, রবিউল্ল্যাহ, জাহের আলী, শাহীন, সজিবসহ ১০-১২ জন লাঠিসোটা নিয়ে শরীফ ও নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে ছিলেন সেলিম। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে তার মাথার খুলি ভেঙে দেয়।

গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দফা মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় খুলির অনেকটা অংশ মাথা থেকে খুলে আলাদা করে রাখেন ডাক্তাররা। সেই খুলি এনে রাখা হয় সেলিমের বাড়ির ফ্রিজে।

সেলিমের স্ত্রী আকলিমা বেগম জানান, মাথার অপারেশনের পর খুলির কিছু অংশ ডাক্তাররা তাদের দেন ফ্রিজে রাখার জন্য।

ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, অপারেশন সফল হলে ফ্রিজে রাখা খুলির অংশ মাথায় প্রতিস্থাপন করা হবে; কিন্তু সেটি আর হলো না। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে তিনি মারা গেছেন। কথা বলার সময় আকলিমা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

এ সময় তিনি বলেন, বিনা অপরাধে ওরা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিন সন্তান (দুই মেয়ে ও এক ছেলে) নিয়ে এখন আমি কীভাবে চলব।

জানা গেছে, ঘটনার পর স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন আকলিমা। তার দায়ের করা মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করলেও পরে তারা আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। হত্যাচেষ্টা মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন জাজিরা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. কায়সার।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রথম কর্মকর্তা তদন্তে গুরুত্ব দেননি। পরে তারা এ ব্যাপারে মৌখিকভাবে থানার ওসিকে জানালে তিনি তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই নাজমুল আলম।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। যেহেতু আহত ব্যক্তি মারা গেছেন, তাই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে। আগের ধারাগুলোর সঙ্গে ৩০২ ধারা যোগ হবে। এখন হত্যা মামলা হিসেবেই এটি তদন্ত করা হবে।