ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

২৫০ বছরের পুরনো ভবনের নিচে কয়েকশ মাটির কলসি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের কোতয়ালি থানার পাথরঘাটায় বহু পুরনো একটি ভবন সংস্কারের কাজ শুরু করলে, ভবনের মাটির নিচ থেকে কয়েকশ মাটির কলসি বের হয়ে আসে। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেছেন, প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো ওই ভবন সংস্কারের কাজ শুরু করা হয় গত সপ্তাহে। খনন কাজ শুরু করার পরেই এক এক করে অনেক মটকা (কলসি) বের হয়ে আসে।

তিনি বলেন, “অনেক ধরনের কোথা শোনা যায় এই ভবন নিয়ে। হাজি শরীয়তুল্লাহ সওদাগর নামে এক ব্যক্তির বাড়ি এটা। তিনি মিয়ানমার থেকে এখানে এসেছিলেন। এলাকার লোক এটাও বলে, তিনি বাড়ি করার জন্য জাহাজে করে এই মটকা (কলসি) নিয়ে এসেছিলেন কিন্তু কেন বাড়ির নিচে রেখেছেন, সে সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারে না।’

এদিকে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামউদ্দিন বলেন, ‘ভবনটির নিচে কয়েকশ কলসি থাকার খবর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পরলে প্রতিদিন সেখানে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। এসব মানুষের ভিড়ে যাতে করে কোনো ক্ষতি না হয় তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা আছে। তারা ওই এলাকা পাহারা দিচ্ছে।’

ভবনের নিচে কেন কলসি?

পাথরঘাটার নজুমিয়া লেনের বাসিন্দা চন্দ্রা আকতার। তিনি বলছেন, বাড়ির নিচে কলসি রাখার কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ভবনকে বাঁচানোর জন্য হতে পারে। আমার পূর্বপুরুষদের বলতে শুনেছি, এভাবে ঘর বানালে সেটা যেকোনো দুর্যোগ থেকে রক্ষা পায়। তবে আসলেই সেটা সত্যি কি না জানিনা।

এদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক স্নিগ্ধা আফসানা বলছিলেন, এগুলো মূলত ‘কালচারাল প্রেজুডিস’ বা ‘কালচারাল বিলিভ’। এর সঙ্গে ভবন নির্মাণের কোনো যোগসূত্র নেই।

তিনি বলেন,‘আমরা একটা ভবন বানানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্ব দিয়ে থাকি এর ফাউন্ডেশনকে। একটা প্রপার ফাউন্ডেশন, আর্কিটেকচারাল সঠিক ডিজাইনসহ আরো অনেক বিষয় রয়েছে যেটা একটা ঘরকে বা ভবনকে শক্ত করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।’

‘মাটির কলসির বিষয়টা অনেকটা এমন যে, আজ থেকে কয়েকশ বছর আগের মানুষের একটা বিশ্বাস ছিল গুরুত্বপূর্ণ নথি বা অর্থ তারা মাটির নিচে রেখে দিত। আবার অনেকে পরকালের কথা চিন্তা, নিজস্ব বিশ্বাস থেকে নানা কর্মকাণ্ড করতো। সেসবের সঙ্গে ভবনের সুরক্ষার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

২৫০ বছরের পুরনো ভবনের নিচে কয়েকশ মাটির কলসি

আপডেট সময় ১১:২২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের কোতয়ালি থানার পাথরঘাটায় বহু পুরনো একটি ভবন সংস্কারের কাজ শুরু করলে, ভবনের মাটির নিচ থেকে কয়েকশ মাটির কলসি বের হয়ে আসে। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেছেন, প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো ওই ভবন সংস্কারের কাজ শুরু করা হয় গত সপ্তাহে। খনন কাজ শুরু করার পরেই এক এক করে অনেক মটকা (কলসি) বের হয়ে আসে।

তিনি বলেন, “অনেক ধরনের কোথা শোনা যায় এই ভবন নিয়ে। হাজি শরীয়তুল্লাহ সওদাগর নামে এক ব্যক্তির বাড়ি এটা। তিনি মিয়ানমার থেকে এখানে এসেছিলেন। এলাকার লোক এটাও বলে, তিনি বাড়ি করার জন্য জাহাজে করে এই মটকা (কলসি) নিয়ে এসেছিলেন কিন্তু কেন বাড়ির নিচে রেখেছেন, সে সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারে না।’

এদিকে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামউদ্দিন বলেন, ‘ভবনটির নিচে কয়েকশ কলসি থাকার খবর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পরলে প্রতিদিন সেখানে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। এসব মানুষের ভিড়ে যাতে করে কোনো ক্ষতি না হয় তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা আছে। তারা ওই এলাকা পাহারা দিচ্ছে।’

ভবনের নিচে কেন কলসি?

পাথরঘাটার নজুমিয়া লেনের বাসিন্দা চন্দ্রা আকতার। তিনি বলছেন, বাড়ির নিচে কলসি রাখার কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ভবনকে বাঁচানোর জন্য হতে পারে। আমার পূর্বপুরুষদের বলতে শুনেছি, এভাবে ঘর বানালে সেটা যেকোনো দুর্যোগ থেকে রক্ষা পায়। তবে আসলেই সেটা সত্যি কি না জানিনা।

এদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক স্নিগ্ধা আফসানা বলছিলেন, এগুলো মূলত ‘কালচারাল প্রেজুডিস’ বা ‘কালচারাল বিলিভ’। এর সঙ্গে ভবন নির্মাণের কোনো যোগসূত্র নেই।

তিনি বলেন,‘আমরা একটা ভবন বানানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্ব দিয়ে থাকি এর ফাউন্ডেশনকে। একটা প্রপার ফাউন্ডেশন, আর্কিটেকচারাল সঠিক ডিজাইনসহ আরো অনেক বিষয় রয়েছে যেটা একটা ঘরকে বা ভবনকে শক্ত করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।’

‘মাটির কলসির বিষয়টা অনেকটা এমন যে, আজ থেকে কয়েকশ বছর আগের মানুষের একটা বিশ্বাস ছিল গুরুত্বপূর্ণ নথি বা অর্থ তারা মাটির নিচে রেখে দিত। আবার অনেকে পরকালের কথা চিন্তা, নিজস্ব বিশ্বাস থেকে নানা কর্মকাণ্ড করতো। সেসবের সঙ্গে ভবনের সুরক্ষার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।’