ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধায় ৯৪৯৬৯ সিএমএসএমই গ্রাহক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (সিএমএসএমই) পুনরুজ্জীবীত করতে ২০ হাজার কোটি টাকার গঠিত প্রণোদনা তহবিলের ৭৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এই তথ্য গত ১৭ জুন পর্যন্ত সময়ের। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১৪ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। সিএমএসএমই খাতের ৯৪ হাজার ৯৬৯ গ্রাহক এই ঋণ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যাণ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত ১৭ জুন পর্যন্ত ক্ষুদ্র শিল্পের এই প্রণোদনা তহবিল থেকে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছে ব্যাংকগুলো। এই ঋণ বিতরণ হলে তহবিলের বিতরণের হার দাঁড়াবে প্রায় ৮০ শতাংশে।

গত বছরের ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুদ্রশিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দেন। ওই বছরের ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নীতিমালা ঘোষণা করেন। এরই মধ্যে ১ বছর ২ মাস পেরিয়ে গেলেও প্যাকেজটি পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আলোচিত সময় পর্যন্ত ৫ হাজার ২৭৬ জন নারী উদ্যোক্তা সিএমএসএমই খাতের প্রণোদনার ঋণ পেয়েছেন। করোনাকালে ব্যবসা-বাণিজ্য স্তিমিত হয়ে পড়ায় সিএমএসএমই খাতের প্রতিষ্ঠানকে এই প্যাকেজের আওতায় মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সিএমএসএমই ঋণের বিতরণ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্যাকেজের শতভাগ ঋণ বিতরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক এই প্যাকেজের ঋণ বিতরণে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে কৃষি ব্যাংকের বিতরণের হার ৯৪.২৬ শতাংশ এবং অগ্রণী ব্যাংকের বিতরণের হার ৯৩.৬৭ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক সিএমএসএমই খাতের এই প্যাকেজের প্রায় শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আলোচিত সময় পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল পূবালী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। পূবালী ব্যাংক ৩৩ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৪১ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে।

টাকার অঙ্কের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি সিএমএসএমই খাতের প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এই ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বিতরণ করেছে ১ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংক বিতরণ করেছে ৮৮৯ কোটি টাকা।

এছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংক সিএমএসএমই খাতের প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করেছে প্রায় ৭১০ কোটি টাকা। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৭১ শতাংশ। প্রিমিয়ার ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫৫০ কোটি টাকা ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫৯৭ কোটি টাকা।

করোনাকালে এই ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৩ জুন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) আর্থিক সহায়তায় কোভিড আক্রান্ত সিএমএসএমই খাতের জন্য অতিরিক্ত আরও ২ হাজার ৫২০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তহবিলের নাম দেওয়া হয়েছে কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ক্রাইসিস রেসপন্স ফ্যাসিলিটি প্রোজেক্ট (সিইসিআরএফপি)।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধায় ৯৪৯৬৯ সিএমএসএমই গ্রাহক

আপডেট সময় ১২:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (সিএমএসএমই) পুনরুজ্জীবীত করতে ২০ হাজার কোটি টাকার গঠিত প্রণোদনা তহবিলের ৭৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এই তথ্য গত ১৭ জুন পর্যন্ত সময়ের। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১৪ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। সিএমএসএমই খাতের ৯৪ হাজার ৯৬৯ গ্রাহক এই ঋণ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যাণ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত ১৭ জুন পর্যন্ত ক্ষুদ্র শিল্পের এই প্রণোদনা তহবিল থেকে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছে ব্যাংকগুলো। এই ঋণ বিতরণ হলে তহবিলের বিতরণের হার দাঁড়াবে প্রায় ৮০ শতাংশে।

গত বছরের ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুদ্রশিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দেন। ওই বছরের ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নীতিমালা ঘোষণা করেন। এরই মধ্যে ১ বছর ২ মাস পেরিয়ে গেলেও প্যাকেজটি পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আলোচিত সময় পর্যন্ত ৫ হাজার ২৭৬ জন নারী উদ্যোক্তা সিএমএসএমই খাতের প্রণোদনার ঋণ পেয়েছেন। করোনাকালে ব্যবসা-বাণিজ্য স্তিমিত হয়ে পড়ায় সিএমএসএমই খাতের প্রতিষ্ঠানকে এই প্যাকেজের আওতায় মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সিএমএসএমই ঋণের বিতরণ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্যাকেজের শতভাগ ঋণ বিতরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক এই প্যাকেজের ঋণ বিতরণে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে কৃষি ব্যাংকের বিতরণের হার ৯৪.২৬ শতাংশ এবং অগ্রণী ব্যাংকের বিতরণের হার ৯৩.৬৭ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক সিএমএসএমই খাতের এই প্যাকেজের প্রায় শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আলোচিত সময় পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল পূবালী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। পূবালী ব্যাংক ৩৩ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৪১ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে।

টাকার অঙ্কের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি সিএমএসএমই খাতের প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এই ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বিতরণ করেছে ১ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংক বিতরণ করেছে ৮৮৯ কোটি টাকা।

এছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংক সিএমএসএমই খাতের প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করেছে প্রায় ৭১০ কোটি টাকা। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৭১ শতাংশ। প্রিমিয়ার ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫৫০ কোটি টাকা ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫৯৭ কোটি টাকা।

করোনাকালে এই ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৩ জুন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) আর্থিক সহায়তায় কোভিড আক্রান্ত সিএমএসএমই খাতের জন্য অতিরিক্ত আরও ২ হাজার ৫২০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তহবিলের নাম দেওয়া হয়েছে কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ক্রাইসিস রেসপন্স ফ্যাসিলিটি প্রোজেক্ট (সিইসিআরএফপি)।