ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

টিকা নেওয়া ৯৩ শতাংশের দেহে এন্টিবডি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার পর ৯৩ শতাংশ মানুষের শরীরে এন্টিবডির অস্তিত্ব পেয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একটি গবেষণা দল। ৩০৮ জনের উপর দীর্ঘ পাঁচমাস গবেষণা করার পর তারা এ ফল পান।

রোববার (২৭ জুন) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এস এম সামসুজ্জামান বলেন, জানুয়ারি মাস থেকে চলতি জুন মাস পর্যন্ত আমরা এই গবেষণা চালাই। গবেষণায় ৩০৮ জন শিক্ষক, ডাক্তার ও কর্মচারীর নমুনা নেওয়া হয়। যাদের ৭০ শতাংশ শিক্ষক, ১০ শতাংশ কর্মচারী ও বাকিরা চিকিৎসক। এরা সবাই করোনার চিকিৎসা বা ভ্যাক্সিনেশনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

‘এদের যারা প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছিলেন তার ৩৫ দিনের মধ্যে প্রথম রক্তের নমুনা নেই। আবার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১৪ দিন পরে আবার নেওয়া হয়। এরপর তা পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ৪১ শতাংশের ও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর ৯১ শতাংশের শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। ’

তিনি বলেন, আমাদের জানা দরকার ছিল এই টিকা আদৌ কাজ করবে কিনা, প্রথম ডোজ দেওয়ার পর কী হবে, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পর কী হবে, এন্টিবডি তৈরি হবে কিনা, সেজন্য আমরা এই গবেষণা শুরু করি। জার্মানির কিট দিয়ে মূলত এই গবেষণা চালানো হয়। যার একেকটি নমুনা পরীক্ষা করতেই খরচ হয়েছে ১১শ টাকা। এছাড়া অন্য খরচতো ছিলই। যাদের নিয়ে এই গবেষণা চালানো হয় তাদের বয়স ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে ও ৬০ বছরের নিচে। আর ৪০-৫০ বছরের মধ্যেই ছিলেন ৮০ শতাংশ।

গবেষণাটি এখানেই শেষ না বলেও জানান তিনি। আরো গবেষণা করে দেখা হবে কোন গ্রুপের মধ্যে কত শতাংশ এন্টিবডি তৈরি হয় আর এটি কতদিন পর্যন্ত শরীর থাকে।

এই গবেষণার জন্য ৩০৮ জনের নমুনা কম হয়ে গেল কিনা এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, আমরা সব মেডিক্যাল কলেজের সব শিক্ষক, ডাক্তারদের এই গবেষণায় অংশ নিতে বলেছিলাম। যারা যারা এসেছে তাদের সবাইকে নিয়েছি।

‘এন্টিবডি তৈরি হওয়া মানেই আবার আক্রান্ত হবে না এমন নয়, আক্রান্ত হতে পারে। মৃদুভাবে, তবে তাদের ভেন্টিলেটরেরে যেতে হবে না। বা মারা যাবে না বলে আশা করা যায়। ’

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটো মিয়া বলেন, এটি নিয়ে আরো বিশ্লেষণ করতে হবে। আমরা যতগুলো স্যাম্পল নিয়েছি সেটিও কম ছিল না। আমাদের সক্ষমতা আছে, আমরা ফান্ড পেলে আরো বড় বড় গবেষণা করতে পারি।

ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, যারা গবেষণা করেছে তাদের ধন্যবাদ জানাই। আশা করি আমাদের এখানেই আরো গবেষণা হবে। পরবর্তী গবেষণাগুলোতেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আমাদের আরো সহযোগিতা করবে বলে আশা করি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

টিকা নেওয়া ৯৩ শতাংশের দেহে এন্টিবডি

আপডেট সময় ০৪:২২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার পর ৯৩ শতাংশ মানুষের শরীরে এন্টিবডির অস্তিত্ব পেয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একটি গবেষণা দল। ৩০৮ জনের উপর দীর্ঘ পাঁচমাস গবেষণা করার পর তারা এ ফল পান।

রোববার (২৭ জুন) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এস এম সামসুজ্জামান বলেন, জানুয়ারি মাস থেকে চলতি জুন মাস পর্যন্ত আমরা এই গবেষণা চালাই। গবেষণায় ৩০৮ জন শিক্ষক, ডাক্তার ও কর্মচারীর নমুনা নেওয়া হয়। যাদের ৭০ শতাংশ শিক্ষক, ১০ শতাংশ কর্মচারী ও বাকিরা চিকিৎসক। এরা সবাই করোনার চিকিৎসা বা ভ্যাক্সিনেশনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

‘এদের যারা প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছিলেন তার ৩৫ দিনের মধ্যে প্রথম রক্তের নমুনা নেই। আবার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১৪ দিন পরে আবার নেওয়া হয়। এরপর তা পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ৪১ শতাংশের ও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর ৯১ শতাংশের শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। ’

তিনি বলেন, আমাদের জানা দরকার ছিল এই টিকা আদৌ কাজ করবে কিনা, প্রথম ডোজ দেওয়ার পর কী হবে, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পর কী হবে, এন্টিবডি তৈরি হবে কিনা, সেজন্য আমরা এই গবেষণা শুরু করি। জার্মানির কিট দিয়ে মূলত এই গবেষণা চালানো হয়। যার একেকটি নমুনা পরীক্ষা করতেই খরচ হয়েছে ১১শ টাকা। এছাড়া অন্য খরচতো ছিলই। যাদের নিয়ে এই গবেষণা চালানো হয় তাদের বয়স ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে ও ৬০ বছরের নিচে। আর ৪০-৫০ বছরের মধ্যেই ছিলেন ৮০ শতাংশ।

গবেষণাটি এখানেই শেষ না বলেও জানান তিনি। আরো গবেষণা করে দেখা হবে কোন গ্রুপের মধ্যে কত শতাংশ এন্টিবডি তৈরি হয় আর এটি কতদিন পর্যন্ত শরীর থাকে।

এই গবেষণার জন্য ৩০৮ জনের নমুনা কম হয়ে গেল কিনা এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, আমরা সব মেডিক্যাল কলেজের সব শিক্ষক, ডাক্তারদের এই গবেষণায় অংশ নিতে বলেছিলাম। যারা যারা এসেছে তাদের সবাইকে নিয়েছি।

‘এন্টিবডি তৈরি হওয়া মানেই আবার আক্রান্ত হবে না এমন নয়, আক্রান্ত হতে পারে। মৃদুভাবে, তবে তাদের ভেন্টিলেটরেরে যেতে হবে না। বা মারা যাবে না বলে আশা করা যায়। ’

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটো মিয়া বলেন, এটি নিয়ে আরো বিশ্লেষণ করতে হবে। আমরা যতগুলো স্যাম্পল নিয়েছি সেটিও কম ছিল না। আমাদের সক্ষমতা আছে, আমরা ফান্ড পেলে আরো বড় বড় গবেষণা করতে পারি।

ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, যারা গবেষণা করেছে তাদের ধন্যবাদ জানাই। আশা করি আমাদের এখানেই আরো গবেষণা হবে। পরবর্তী গবেষণাগুলোতেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আমাদের আরো সহযোগিতা করবে বলে আশা করি।