ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

ভাতের সঙ্গে ইঁদুরের বিষ খাইয়ে গলা কেটে ছোটভাইকে হত্যা করে সরোয়ার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পরিবারের আর্থিক কর্তৃত্ব হাতে নিতে বড়ভাই মোহাম্মদ সরোয়ার রাতের খাবারের সঙ্গে ইঁদুরের বিষ ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ছোটভাই মুদি ব্যবসায়ী গোলাম আজমকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইকবালের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বড়ভাই সরোয়ার ছোটভাই আজমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

হাটহাজারী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা এ তথ্য জানান।

এর আগে সোমবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মন্দাকিনী গ্রামের রজব মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ি থেকে খুনি সরোয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আটককৃত সরোয়ার উক্ত এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মৃত শামসুল আলমের বড়ছেলে।

প্রসঙ্গত, গত ২ জুন সকালে মন্দাকিনী গ্রামে নিজ দোকান (আজম টেলিকম) থেকে ব্যবসায়ী আজমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন দোকানটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) স্পেশাল ক্রাইম টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরদিন নিহত আজমের মা নুরজাহান বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রাম জেলার এসপি এসএম রশিদুল হকের নির্দেশনায় পিবিআই স্পেশাল ক্রাইম টিম তদন্ত কাজ শুরু করে। তদন্ত শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট খুলেছে বলে জানান মামলার ছায়া তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, পরিবারের আর্থিক হিসাব ও ব্যবসা নিজ হাতে রাখতে বড়ভাই সরোয়ার ছোটভাই গোলাম আজমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। খুন হওয়ার পরের দিন আকদ হওয়ার কথা ছিল আজমের। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য দোকানে থাকত আজম। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পরিকল্পনা করে বড়ভাই সরোয়ার। ১ জুন রাত ৯টার সময় ঘর থেকে ছোটভাইয়ের জন্য রাতের ভাত আনার সময় তরকারিতে মিশিয়ে দেয় ইঁদুর মারার বিষ ও ঘুমের ওষুধ।

তিনি আরও বলেন, বড়ভাই ঘরে গিয়ে সাড়ে ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞেস করে আজম ভাত খেয়েছে নাকি। সে বলে, হ্যাঁ এখন খেয়েছি। সেটা বলার সঙ্গে সঙ্গে তার বড়ভাই সরোয়ার দোকানে এসে আজমকে ডাকতে থাকে। আজম দোকান খোলার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। তখন রাত ১২টার পর সরোয়ার মুরগি জবাই করার চুরি দিয়ে আজমকে জবাই করে হত্যা করে।

এ সময় ভিতর থেকে দোকানের সাঁটারের দুইটা নাট খুলে রাখে এবং রাত ৩টার দিকে সরোয়ার দোকান থেকে বের হয়ে তালা ও নাট লাগিয়ে দেয়।

হাটহাজারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত সরোয়ার তার ছোটভাইকে গলা কেটে হত্যা করার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহত আজমের মা নুরজাহান বলেন, আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাতের সঙ্গে ইঁদুরের বিষ খাইয়ে গলা কেটে ছোটভাইকে হত্যা করে সরোয়ার

আপডেট সময় ০৮:০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পরিবারের আর্থিক কর্তৃত্ব হাতে নিতে বড়ভাই মোহাম্মদ সরোয়ার রাতের খাবারের সঙ্গে ইঁদুরের বিষ ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ছোটভাই মুদি ব্যবসায়ী গোলাম আজমকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইকবালের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বড়ভাই সরোয়ার ছোটভাই আজমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

হাটহাজারী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা এ তথ্য জানান।

এর আগে সোমবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মন্দাকিনী গ্রামের রজব মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ি থেকে খুনি সরোয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আটককৃত সরোয়ার উক্ত এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মৃত শামসুল আলমের বড়ছেলে।

প্রসঙ্গত, গত ২ জুন সকালে মন্দাকিনী গ্রামে নিজ দোকান (আজম টেলিকম) থেকে ব্যবসায়ী আজমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন দোকানটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) স্পেশাল ক্রাইম টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরদিন নিহত আজমের মা নুরজাহান বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রাম জেলার এসপি এসএম রশিদুল হকের নির্দেশনায় পিবিআই স্পেশাল ক্রাইম টিম তদন্ত কাজ শুরু করে। তদন্ত শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট খুলেছে বলে জানান মামলার ছায়া তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, পরিবারের আর্থিক হিসাব ও ব্যবসা নিজ হাতে রাখতে বড়ভাই সরোয়ার ছোটভাই গোলাম আজমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। খুন হওয়ার পরের দিন আকদ হওয়ার কথা ছিল আজমের। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য দোকানে থাকত আজম। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পরিকল্পনা করে বড়ভাই সরোয়ার। ১ জুন রাত ৯টার সময় ঘর থেকে ছোটভাইয়ের জন্য রাতের ভাত আনার সময় তরকারিতে মিশিয়ে দেয় ইঁদুর মারার বিষ ও ঘুমের ওষুধ।

তিনি আরও বলেন, বড়ভাই ঘরে গিয়ে সাড়ে ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞেস করে আজম ভাত খেয়েছে নাকি। সে বলে, হ্যাঁ এখন খেয়েছি। সেটা বলার সঙ্গে সঙ্গে তার বড়ভাই সরোয়ার দোকানে এসে আজমকে ডাকতে থাকে। আজম দোকান খোলার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। তখন রাত ১২টার পর সরোয়ার মুরগি জবাই করার চুরি দিয়ে আজমকে জবাই করে হত্যা করে।

এ সময় ভিতর থেকে দোকানের সাঁটারের দুইটা নাট খুলে রাখে এবং রাত ৩টার দিকে সরোয়ার দোকান থেকে বের হয়ে তালা ও নাট লাগিয়ে দেয়।

হাটহাজারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত সরোয়ার তার ছোটভাইকে গলা কেটে হত্যা করার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহত আজমের মা নুরজাহান বলেন, আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।