আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নোয়াখালীর চাটখিলে চাচাকে ফাঁসাতে গাছে বেঁধে নির্যাতনের নাটক সাজিয়ে ছবি তুলে ফেঁসে গেলেন ভাতিজাসহ ৩ কিশোর। শুক্রবার রাতে উপজেলার ২নং রামনারায়নপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মপুর গ্রামের ধোয়া বাড়ির বাগানে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে আটককৃত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, পুলিশ মৌখিক অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে মামলার প্রধান আসামি মো. মিরাজ হোসেনকে (১৮) আটক করে। সে উপজেলার ২নং রামনারায়নপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মপুর গ্রামের মিনহাজী পাটোয়ারী বাড়ির আবুল বাসারের ছেলে এবং পেশায় একজন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিরাজের মা মিনু আক্তারের (৩৭) সাথে তার ননদ আমেনা বেগমের (৩৬) কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিরাজের সাথে তার ছোট চাচা ইব্রাহিমের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন চাচা ইব্রাহিম মিরাজকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর মিরাজ এই হুমকিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে চাচাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে মো. রাফি (১৯) ও মো. জিহাদের (১৮) যোগসাজশে তিন কিশোর মিলে মিরাজ তাকে পার্শ্ববর্তী ধোয়া বাড়ীর বাগানের সুপারি গাছের সাথে পিছনের দিকে দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের নাটক সাজায়। তারপর নির্যাতনে সাজানো ছবি তুলে চাচাদেরকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট দেয়। পরে এ ঘটনায় তার বড় চাচা ইসমাইল হোসেন (৩৫) বাদী হয়ে তার ভাতিজা মো.মিরাজ হোসেনকে প্রধান আসামি করে তিন জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মিথ্যা ও সাজানো ঘটনার ছবি ধারণ করে চাচাদেরকে ফাঁসানের চেষ্টা করে মিরাজ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পুলিশ ফেসবুকে ছবি দেখে তাৎক্ষণিক বিষয়টি তদন্ত করে দেখে ঘটনাটি সাজানো নাটক ছিল। সাথে সাথে পুলিশ অভিযুক্ত প্রধান আসামিকে আটক করে। ভুক্তভোগীর পরিবার শনিবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করলে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























