ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে পানিতে বিষ মিশিয়ে যৌথবাহিনী সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! দেশে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কিছু করলে দায়ভার সরকারের ওপরই পড়বে: মান্না অস্ত্র প্রস্তুত, তবে ইরানকে ‘কিছুটা সময়’ দিচ্ছেন ট্রাম্প : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ঘিরে উত্তেজনা-ধস্তাধস্তি, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে, নিহত ১

১ ফ্যান ১ এনার্জি লাইট ১ মোবাইল চার্জার, বিল ৭৯ হাজার টাকা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুতের এক গ্রাহকের ব্যবহৃত মিটারে ১২০ টাকার বিপরীতে এক মাসে ৭৮ হাজার ৬৭৯ টাকা বিল এসেছে।

ভুতুড়ে এই বিলে দিশাহারা ওই অসহায় পরিবারটি বিল পরিশোধে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের চাপে বাড়ি ছাড়ার উপক্রম। বিষয়টি জানাতে গেলে গ্রাহকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন।

ঘটনাটি উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের। ওই গ্রামের বেপারীবাড়ির ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করা মাঈনুদ্দিনের স্ত্রী রুমা আক্তার মিটারের গ্রাহক (হিসাব নং-০৩-৫৩৬-১১৭৮)।

সরেজমিন গেলে ভুক্তভোগী গ্রাহক রুমা আক্তার জানান, গত ৫ বছর যাবত ওই মিটারটি ব্যবহার করে আসছেন। তিনি মিটারটিতে একটি ফ্যান ও একটি এনার্জি লাইট ও মোবাইল চার্জার ব্যবহার করে আসছেন। প্রতি মাসে ১০০-১৫০ টাকার মধ্যে বিলের সীমাবদ্ধতা ছিল।

বিদ্যুতের পূর্বের বিলের কপি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে রুমা আক্তার নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারেন মার্চ মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৭৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

এমন তথ্য পেয়ে তিনি ছুটে যান ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে। সেখানে গিয়ে কোনো সমাধান মেলেনি বরং কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারে দিশাহারা বলে জানিয়েছেন রুমা আক্তার।

এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে রুমা আক্তারের ব্যবহৃত ঘরটিতে একটি ফ্যান ও একটি বাতি ছাড়া আর কোনো কিছুই চোখে পড়েনি। ওই মিটারটি দিয়ে অন্য কিছু চার্জ দেয়া কিংবা ব্যবহার করা কিংবা শর্টসার্কিটের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে কর্মরত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ নূরল হোসাইন জানান, গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে তো আর বিল আসে না। আমি খোঁজ নিয়েছি ওখানে শর্টসার্কিট হয়েছে। আমি বলে দিয়েছি গ্রাহককে বিলগুলো দিয়ে দেওয়ার জন্য।

শর্টসার্কিট হয়ে শুধু বিদ্যুৎ বিল এসেছে- কোনো অগ্নিকাণ্ড, মেইন সুইচ কিংবা মিটারের কোনো ক্ষতি হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না। আপনারা ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, ইউএনও বিষয়টি জানেন।

এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে তিনি ডিজিএমের কাছে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে ডিজিএম গ্রহণযোগ্য কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী

১ ফ্যান ১ এনার্জি লাইট ১ মোবাইল চার্জার, বিল ৭৯ হাজার টাকা!

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুতের এক গ্রাহকের ব্যবহৃত মিটারে ১২০ টাকার বিপরীতে এক মাসে ৭৮ হাজার ৬৭৯ টাকা বিল এসেছে।

ভুতুড়ে এই বিলে দিশাহারা ওই অসহায় পরিবারটি বিল পরিশোধে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের চাপে বাড়ি ছাড়ার উপক্রম। বিষয়টি জানাতে গেলে গ্রাহকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন।

ঘটনাটি উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের। ওই গ্রামের বেপারীবাড়ির ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করা মাঈনুদ্দিনের স্ত্রী রুমা আক্তার মিটারের গ্রাহক (হিসাব নং-০৩-৫৩৬-১১৭৮)।

সরেজমিন গেলে ভুক্তভোগী গ্রাহক রুমা আক্তার জানান, গত ৫ বছর যাবত ওই মিটারটি ব্যবহার করে আসছেন। তিনি মিটারটিতে একটি ফ্যান ও একটি এনার্জি লাইট ও মোবাইল চার্জার ব্যবহার করে আসছেন। প্রতি মাসে ১০০-১৫০ টাকার মধ্যে বিলের সীমাবদ্ধতা ছিল।

বিদ্যুতের পূর্বের বিলের কপি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে রুমা আক্তার নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারেন মার্চ মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৭৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

এমন তথ্য পেয়ে তিনি ছুটে যান ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে। সেখানে গিয়ে কোনো সমাধান মেলেনি বরং কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারে দিশাহারা বলে জানিয়েছেন রুমা আক্তার।

এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে রুমা আক্তারের ব্যবহৃত ঘরটিতে একটি ফ্যান ও একটি বাতি ছাড়া আর কোনো কিছুই চোখে পড়েনি। ওই মিটারটি দিয়ে অন্য কিছু চার্জ দেয়া কিংবা ব্যবহার করা কিংবা শর্টসার্কিটের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে কর্মরত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ নূরল হোসাইন জানান, গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে তো আর বিল আসে না। আমি খোঁজ নিয়েছি ওখানে শর্টসার্কিট হয়েছে। আমি বলে দিয়েছি গ্রাহককে বিলগুলো দিয়ে দেওয়ার জন্য।

শর্টসার্কিট হয়ে শুধু বিদ্যুৎ বিল এসেছে- কোনো অগ্নিকাণ্ড, মেইন সুইচ কিংবা মিটারের কোনো ক্ষতি হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না। আপনারা ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, ইউএনও বিষয়টি জানেন।

এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে তিনি ডিজিএমের কাছে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে ডিজিএম গ্রহণযোগ্য কোনো উত্তর দিতে পারেননি।