ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই ঢাকার পথে মানুষ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দূরপাল্লার বাহন বন্ধ থাকায় ঈদের ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে গ্রাম থেকে রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ। ফেরার পথে নানা বাধা-বিপত্তি ‘থোড়াই কেয়ার’ করছেন তারা।

বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে, বারবার গাড়ি বদলানোর ভোগান্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি তো আছেই! আর করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা নিয়ে তারা খুব একটা বিচলিত তা মনে হয়নি। অনেকের মুখে মাস্ক নেই, অনেকে আবার নামিয়ে রেখেছেন থুতনিতে।

বুধবার (১৯ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর প্রবেশমুখ গাবতলী ও আমিনবাজার ঘুরে এমনটা দেখা গেছে।

করোনা সংক্রমণ রোধে চলছে ‘লকডাউন’। এরমধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে দূরপাল্লার বাস। কিন্তু এরপরও থামানো যায়নি যাত্রীদের আসা-যাওয়া। ঈদের ছুটিতে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ছুটি শেষ হওয়ার পর ফেরার সময়ও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

দিনমজুর আরমান আলী নীলফামারী থেকে এসেছেন আমিনবাজার। তিনি বলেন, নীলফামারী থেকে রাতের বাসে উঠেছি সকালে আমিনবাজার এসে নেমেছি। ভাড়া গুনতে হয়েছে ১২শ টাকা। ঈদের সময় বাড়ি গিয়েছিলাম ট্রাকে করে। তখন ৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে গিয়েছিলাম। কাজে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে আছে। এখন গাবতলী হয়ে যাব যাত্রাবাড়ী।

সাতক্ষীরা থেকে ছোট ভাইবোনদের নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন পারভিন আক্তার। তিনি বলেন, আমিনবাজার থেকে যাব যাত্রাবাড়ী। ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় এসেছি। বাস সাভারের হেমায়েতপুর নামিয়ে দেয়। এরপর সেখান থেকে মালপত্র আর ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় করে আমিনবাজার এসেছি। সংসারের জিনিসপত্র আর ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে অনেক কষ্টে গাবতলী পর্যন্ত এসেছি।

মো. শাহজাহান দর্জির কাজ করেন। রাজবাড়ী থেকে এসেছেন আমিনবাজার। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছি। যাব নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়। ওখানে (সোনারগাঁয়) একটি টেইলার্সে কাজ করি। মালিক বারবার ফোন দিচ্ছে কাজে আসার জন্য। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও কষ্ট করে পরিবারকে নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য যাচ্ছি। ঈদের আগে ভেঙে ভেঙে রাজবাড়ী গিয়েছিলাম তখন জনপ্রতি খরচ হয়েছিল এক হাজার টাকার মতো। এবার আসতে একটু কম টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত টেম্পু, ফেরি ও বাসে করে আমিনবাজার পর্যন্ত আসতে আমাদের জনপ্রতি খরচ হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

আমিন বাজারে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট মানিকুজ্জামান বলেন, ঢাকায় অন্য কোনো জেলার গণপরিবহন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না‌। শুধুমাত্র প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ব্রিজের ওপর ঢাকায় ফেরা মানুষদের মাস্ক পরতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষদের বলা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই ঢাকার পথে মানুষ

আপডেট সময় ০১:২৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দূরপাল্লার বাহন বন্ধ থাকায় ঈদের ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে গ্রাম থেকে রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ। ফেরার পথে নানা বাধা-বিপত্তি ‘থোড়াই কেয়ার’ করছেন তারা।

বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে, বারবার গাড়ি বদলানোর ভোগান্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি তো আছেই! আর করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা নিয়ে তারা খুব একটা বিচলিত তা মনে হয়নি। অনেকের মুখে মাস্ক নেই, অনেকে আবার নামিয়ে রেখেছেন থুতনিতে।

বুধবার (১৯ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর প্রবেশমুখ গাবতলী ও আমিনবাজার ঘুরে এমনটা দেখা গেছে।

করোনা সংক্রমণ রোধে চলছে ‘লকডাউন’। এরমধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে দূরপাল্লার বাস। কিন্তু এরপরও থামানো যায়নি যাত্রীদের আসা-যাওয়া। ঈদের ছুটিতে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ছুটি শেষ হওয়ার পর ফেরার সময়ও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

দিনমজুর আরমান আলী নীলফামারী থেকে এসেছেন আমিনবাজার। তিনি বলেন, নীলফামারী থেকে রাতের বাসে উঠেছি সকালে আমিনবাজার এসে নেমেছি। ভাড়া গুনতে হয়েছে ১২শ টাকা। ঈদের সময় বাড়ি গিয়েছিলাম ট্রাকে করে। তখন ৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে গিয়েছিলাম। কাজে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে আছে। এখন গাবতলী হয়ে যাব যাত্রাবাড়ী।

সাতক্ষীরা থেকে ছোট ভাইবোনদের নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন পারভিন আক্তার। তিনি বলেন, আমিনবাজার থেকে যাব যাত্রাবাড়ী। ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় এসেছি। বাস সাভারের হেমায়েতপুর নামিয়ে দেয়। এরপর সেখান থেকে মালপত্র আর ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় করে আমিনবাজার এসেছি। সংসারের জিনিসপত্র আর ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে অনেক কষ্টে গাবতলী পর্যন্ত এসেছি।

মো. শাহজাহান দর্জির কাজ করেন। রাজবাড়ী থেকে এসেছেন আমিনবাজার। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছি। যাব নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়। ওখানে (সোনারগাঁয়) একটি টেইলার্সে কাজ করি। মালিক বারবার ফোন দিচ্ছে কাজে আসার জন্য। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও কষ্ট করে পরিবারকে নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য যাচ্ছি। ঈদের আগে ভেঙে ভেঙে রাজবাড়ী গিয়েছিলাম তখন জনপ্রতি খরচ হয়েছিল এক হাজার টাকার মতো। এবার আসতে একটু কম টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত টেম্পু, ফেরি ও বাসে করে আমিনবাজার পর্যন্ত আসতে আমাদের জনপ্রতি খরচ হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

আমিন বাজারে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট মানিকুজ্জামান বলেন, ঢাকায় অন্য কোনো জেলার গণপরিবহন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না‌। শুধুমাত্র প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ব্রিজের ওপর ঢাকায় ফেরা মানুষদের মাস্ক পরতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষদের বলা হচ্ছে।