ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

করোনা চিকিৎসায় ভণ্ড কবিরাজ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে করোনা চিকিৎসায় বেশ কয়েকজন ভণ্ড কবিরাজের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ।

করোনাসহ সর্বরোগ সারানোর কথা বলে ওইসব ভণ্ড সাধুরা ঝাড়-ফুক, পানিপড়া আর তাবিজ-কবজ দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে লুটে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আর তাদের এ প্রতারণার কাজে সহযোগিতা করছেন তারই পাতানো স্থানীয় কয়েকজন সহযোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের হাতিখানা কুদরুতউল্লাহ সড়কের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী সুবেদা খাতুন (৬০)। যিনি মাস কয়েক আগেও মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন নির্বাহ করতেন। সেই সুবেদা আজ মস্ত বড় সাধু বা কবিরাজ বনে গেছেন।

তিনি সর্বরোগের চিকিৎসা করেন ঝাড়-ফুঁক, আদা-লং পড়া আর তাবিজ-কবজ দিয়ে। তার নামডাকও ছড়িয়েছে গোটা জেলায়। তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নারী-পুরুষের চিকিৎসা করে থাকেন। তবে তার চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়েছেন এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

সুবেদা খাতুন করোনাসহ বন্ধ্যা নারীদের সন্তান হওয়া, অল্প বয়সে চুল পাকা, প্রতিবন্ধী শিশুদের ভালো করা, প্রেমিক-প্রেমিকাকে পাওয়ে দেয়া, জিন-ভূত তাড়ানো, যেসব নারীদের বয়স পেরিয়ে গেলেও বিয়ে হচ্ছে না, ক্যান্সার, ডায়াবেটিকস, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক, পিত্তথলিতে পাথর, প্যারালাইস, বাতের ব্যথা, হাঁপানি, করোনাসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা করেন। আর রোগের ধরন দেখে চিকিৎসার ফি নিচ্ছেন ১০০ থেকে ১ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে সুবেদার কাছে শিক্ষাবিদ্যা কত দূর জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভাবের কারণে স্কুলে যেতে পারিনি। তবে এখন শুধু নাম লিখতে পারি। স্বামী মাটি কাটার কাজ করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর অভাবের কারণে মানুষের বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসারের ঘানি টেনেছি। এখন বাড়িতেই আসর বসিয়ে সর্বরোগের ঝাড়-ফু আর পানি পড়া দিয়ে মানুষের কাছ থেকে যে টাকা পাই তাতে আর কোন অভাব হয় না।

তিনি দাবি করেন তার ঝাড়-ফুক আর আদা পড়া দিয়ে করোনা রোগীও ভালো হয়ে যাবে। তবে সাধারণ মানুষ এখনো বুঝতে পারেনি সুবেদার কবিরাজি পুরোটাই প্রতারণা। প্রতিনিয়তই প্রশাসনের চোখের সামনে এ প্রতারণা হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

করোনা চিকিৎসায় ভণ্ড কবিরাজ

আপডেট সময় ১০:০২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে করোনা চিকিৎসায় বেশ কয়েকজন ভণ্ড কবিরাজের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ।

করোনাসহ সর্বরোগ সারানোর কথা বলে ওইসব ভণ্ড সাধুরা ঝাড়-ফুক, পানিপড়া আর তাবিজ-কবজ দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে লুটে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আর তাদের এ প্রতারণার কাজে সহযোগিতা করছেন তারই পাতানো স্থানীয় কয়েকজন সহযোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের হাতিখানা কুদরুতউল্লাহ সড়কের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী সুবেদা খাতুন (৬০)। যিনি মাস কয়েক আগেও মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন নির্বাহ করতেন। সেই সুবেদা আজ মস্ত বড় সাধু বা কবিরাজ বনে গেছেন।

তিনি সর্বরোগের চিকিৎসা করেন ঝাড়-ফুঁক, আদা-লং পড়া আর তাবিজ-কবজ দিয়ে। তার নামডাকও ছড়িয়েছে গোটা জেলায়। তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নারী-পুরুষের চিকিৎসা করে থাকেন। তবে তার চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়েছেন এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

সুবেদা খাতুন করোনাসহ বন্ধ্যা নারীদের সন্তান হওয়া, অল্প বয়সে চুল পাকা, প্রতিবন্ধী শিশুদের ভালো করা, প্রেমিক-প্রেমিকাকে পাওয়ে দেয়া, জিন-ভূত তাড়ানো, যেসব নারীদের বয়স পেরিয়ে গেলেও বিয়ে হচ্ছে না, ক্যান্সার, ডায়াবেটিকস, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক, পিত্তথলিতে পাথর, প্যারালাইস, বাতের ব্যথা, হাঁপানি, করোনাসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা করেন। আর রোগের ধরন দেখে চিকিৎসার ফি নিচ্ছেন ১০০ থেকে ১ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে সুবেদার কাছে শিক্ষাবিদ্যা কত দূর জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভাবের কারণে স্কুলে যেতে পারিনি। তবে এখন শুধু নাম লিখতে পারি। স্বামী মাটি কাটার কাজ করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর অভাবের কারণে মানুষের বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসারের ঘানি টেনেছি। এখন বাড়িতেই আসর বসিয়ে সর্বরোগের ঝাড়-ফু আর পানি পড়া দিয়ে মানুষের কাছ থেকে যে টাকা পাই তাতে আর কোন অভাব হয় না।

তিনি দাবি করেন তার ঝাড়-ফুক আর আদা পড়া দিয়ে করোনা রোগীও ভালো হয়ে যাবে। তবে সাধারণ মানুষ এখনো বুঝতে পারেনি সুবেদার কবিরাজি পুরোটাই প্রতারণা। প্রতিনিয়তই প্রশাসনের চোখের সামনে এ প্রতারণা হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।