ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

এক বোন শিকলে বাঁধা, একজনের আত্মহত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একই পরিবারে তিনজন মানসিক রোগী। এরা হলো- মিনা বেগম (৩০), মোরশিদা বেগম (৩৫) ও ভাই কাউছার (২৮)। বুধবার সন্ধ্যায় বোন মোরশিদা বেগম ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি পাড়াতলা গ্রামের গ্রামপুলিশ মরহুম শহীদ মিয়ার ছেলে-মেয়ে তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সৎভাই সুমন মিয়া তার বোন মিনা বেগমকে শিকল দিয়ে ঘরের জানালায় বেঁধে রেখেছে।

এ বিষয়ে সুমন জানায়, আমার বোনটি দীর্ঘদিন যাবত পাগল। শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে প্রতিবেশীদের মারধর করে এবং কামড়িয়ে আহত করে। আরেক বোন মোরশিদা বহুদিন যাবত মানসিক রোগী ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় সে আত্মহত্যা করেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে এসে লাশ থানায় নিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। অপর ভাই কাউছার সেও দীর্ঘদিন যাবত মানসিক রোগে ভুগছে বলে জানান তার ভাই সুমন।

এলাকার ইউপি মেম্বার হজরত আলী জানান, একই পরিবার তিনজন মানসিক রোগী। পরিবারটি অতি দরিদ্র। দিন আনে দিন খায়। মোরশিদা মারা গেল কিন্তু দাফন-কাফনের টাকাটা পর্যন্ত তাদের কাছে নেই। মিনা বেগমকে শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে সে প্রতিবেশীদের অত্যাচার করে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, তাদের ভাই কাউছার অনেক দিন যাবত মানসিক রোগে ভুগছে। শিকলে বাঁধা মিনা বেগমকে প্রতিবেশীরা ভাগ করে তিনবেলা খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছেন এই মেম্বার।

তাদের আরেক বোন তুহুরা বেগম। তার বিয়ে হয়ে গেছে। কথা হয় তুহুরার সঙ্গে। তিনি জানান, অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে থাকতে আমার বোন মোরশেদা ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। আল্লাহ আমাদের ভাগ্যটি কেন এমন করল। টাকার অভাবে আমি ভাইবোনের চিকিৎসা করাতে পারি না। মিনাকে ডাক্তারের পরামর্শে মাঝেমধ্যে মানসিক রোগের ইনজেকশন দিতাম। একটি ইনজেকশনের দাম ৫০০ টাকা। ইনজেকশন দিলে কয়েকদিন সুস্থ থাকে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে মোরশিদার লাশ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তার পরিবারের তিনজন মানসিক রোগী বলে জানতে পারি। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কেউ বলতে পারছেন না। ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এক বোন শিকলে বাঁধা, একজনের আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১১:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একই পরিবারে তিনজন মানসিক রোগী। এরা হলো- মিনা বেগম (৩০), মোরশিদা বেগম (৩৫) ও ভাই কাউছার (২৮)। বুধবার সন্ধ্যায় বোন মোরশিদা বেগম ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি পাড়াতলা গ্রামের গ্রামপুলিশ মরহুম শহীদ মিয়ার ছেলে-মেয়ে তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সৎভাই সুমন মিয়া তার বোন মিনা বেগমকে শিকল দিয়ে ঘরের জানালায় বেঁধে রেখেছে।

এ বিষয়ে সুমন জানায়, আমার বোনটি দীর্ঘদিন যাবত পাগল। শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে প্রতিবেশীদের মারধর করে এবং কামড়িয়ে আহত করে। আরেক বোন মোরশিদা বহুদিন যাবত মানসিক রোগী ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় সে আত্মহত্যা করেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে এসে লাশ থানায় নিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। অপর ভাই কাউছার সেও দীর্ঘদিন যাবত মানসিক রোগে ভুগছে বলে জানান তার ভাই সুমন।

এলাকার ইউপি মেম্বার হজরত আলী জানান, একই পরিবার তিনজন মানসিক রোগী। পরিবারটি অতি দরিদ্র। দিন আনে দিন খায়। মোরশিদা মারা গেল কিন্তু দাফন-কাফনের টাকাটা পর্যন্ত তাদের কাছে নেই। মিনা বেগমকে শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে সে প্রতিবেশীদের অত্যাচার করে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, তাদের ভাই কাউছার অনেক দিন যাবত মানসিক রোগে ভুগছে। শিকলে বাঁধা মিনা বেগমকে প্রতিবেশীরা ভাগ করে তিনবেলা খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছেন এই মেম্বার।

তাদের আরেক বোন তুহুরা বেগম। তার বিয়ে হয়ে গেছে। কথা হয় তুহুরার সঙ্গে। তিনি জানান, অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে থাকতে আমার বোন মোরশেদা ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। আল্লাহ আমাদের ভাগ্যটি কেন এমন করল। টাকার অভাবে আমি ভাইবোনের চিকিৎসা করাতে পারি না। মিনাকে ডাক্তারের পরামর্শে মাঝেমধ্যে মানসিক রোগের ইনজেকশন দিতাম। একটি ইনজেকশনের দাম ৫০০ টাকা। ইনজেকশন দিলে কয়েকদিন সুস্থ থাকে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে মোরশিদার লাশ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তার পরিবারের তিনজন মানসিক রোগী বলে জানতে পারি। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কেউ বলতে পারছেন না। ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।