ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মোবাইল চুরির অপবাদে মাদ্রাসাছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৩

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় এবার মোবাইল ফোন সেট চুরির অপবাদে তুলে মামুন হাসান (২২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার বিকালে মণিরামপুর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মামুন হাসান মণিরামপুর উপজেলার খোজালিপুর এলাকার মশিয়ার গাজীর ছেলে ও মণিরামপুর আলিয়া মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহতের বাবা মশিয়ার গাজী মণিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে পাঁচ-ছয়জনকে।

পুলিশ বুধবার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন– মণিরামপুর উপজেলার খাজালিপুর গ্রামের মাহামুদ হোসেনের ছেলে মো. লাভলু (২৫), একই গ্রামের মিজানুর গাজীর ছেলে আলতাফ হোসেন (৩০) এবং ইউসুফ আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (১৯)।

বাদী মশিয়ার গাজীর অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে খাবার খেয়ে রাত ১১টার দিকে মামুন পাশে তার খালা রেহেনা বেগমের দোকানে যায়। তখন বন্ধু আরমান তাকে ডেকে পাশে হরিহর নদের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে দল পাকিয়ে লোকজন এসে মামুনকে নদের পানিতে ফেলে মারধর করে। এর পর ওই গ্রামের আয়নালদের বাড়িতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে আবারও মারধর করা হয়।

ভোর ৩টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা মারধরের শিকার হয় মামুন। খবর পেয়ে তার মা সেখানে গিয়ে ছেলেকে মরণাপন্ন অবস্থায় দেখতে পান। তাকে জানানো হয়, তার ছেলে মোবাইল ফোন চুরি করেছে।

পর দিন বুধবার সকালে সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিকাল ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

মণিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসাছাত্র নিহতের ঘটনায় বুধবার রাতে মামলা হয়েছে। ওই রাতে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, এলাকায় চুরি বৃদ্ধি পায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। হঠাৎ হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটে গেছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করছে পুলিশ।

এদিকে গত ২৯ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মণিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের শিরিলি মদনপুর গ্রামের আমিন মোড়লের ছেলে মুকুল হোসেন বাড়ির পাশে মাছের ঘেরে গেলে চোখে লাইট মারা নিয়ে এলাকার মোন্তাজ আলীর ছেলে টিপু সুলতানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।

এর পর মোন্তাজ আলী ও টিপুসহ তাদের লোকজন পিটিয়ে ও কুপিয়ে মুকুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রাখে। পরে রাত ১০টার দিকে স্বজনরা তাকে যশোর সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মুকুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী সন্দেহে বোরহান কবির নামে দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে নাইম হোসেন নামে এক যুবক।

পর দিন রোববার ভোরে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় বোরহানের। ওই ঘটনায় পুলিশ নাইমকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। বোরহান উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামের আহসানুল কবিরের ছেলে। তিনি মণিরামপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ঘটনার দিন সাইকেল চালিয়ে তিনি উপজেলার খালিয়ে গ্রামে যান। তার কয়েক দিন আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বোরহান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোবাইল চুরির অপবাদে মাদ্রাসাছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৩

আপডেট সময় ১০:৫২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় এবার মোবাইল ফোন সেট চুরির অপবাদে তুলে মামুন হাসান (২২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার বিকালে মণিরামপুর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মামুন হাসান মণিরামপুর উপজেলার খোজালিপুর এলাকার মশিয়ার গাজীর ছেলে ও মণিরামপুর আলিয়া মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহতের বাবা মশিয়ার গাজী মণিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে পাঁচ-ছয়জনকে।

পুলিশ বুধবার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন– মণিরামপুর উপজেলার খাজালিপুর গ্রামের মাহামুদ হোসেনের ছেলে মো. লাভলু (২৫), একই গ্রামের মিজানুর গাজীর ছেলে আলতাফ হোসেন (৩০) এবং ইউসুফ আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (১৯)।

বাদী মশিয়ার গাজীর অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে খাবার খেয়ে রাত ১১টার দিকে মামুন পাশে তার খালা রেহেনা বেগমের দোকানে যায়। তখন বন্ধু আরমান তাকে ডেকে পাশে হরিহর নদের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে দল পাকিয়ে লোকজন এসে মামুনকে নদের পানিতে ফেলে মারধর করে। এর পর ওই গ্রামের আয়নালদের বাড়িতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে আবারও মারধর করা হয়।

ভোর ৩টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা মারধরের শিকার হয় মামুন। খবর পেয়ে তার মা সেখানে গিয়ে ছেলেকে মরণাপন্ন অবস্থায় দেখতে পান। তাকে জানানো হয়, তার ছেলে মোবাইল ফোন চুরি করেছে।

পর দিন বুধবার সকালে সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিকাল ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

মণিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসাছাত্র নিহতের ঘটনায় বুধবার রাতে মামলা হয়েছে। ওই রাতে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, এলাকায় চুরি বৃদ্ধি পায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। হঠাৎ হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটে গেছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করছে পুলিশ।

এদিকে গত ২৯ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মণিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের শিরিলি মদনপুর গ্রামের আমিন মোড়লের ছেলে মুকুল হোসেন বাড়ির পাশে মাছের ঘেরে গেলে চোখে লাইট মারা নিয়ে এলাকার মোন্তাজ আলীর ছেলে টিপু সুলতানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।

এর পর মোন্তাজ আলী ও টিপুসহ তাদের লোকজন পিটিয়ে ও কুপিয়ে মুকুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রাখে। পরে রাত ১০টার দিকে স্বজনরা তাকে যশোর সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মুকুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী সন্দেহে বোরহান কবির নামে দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে নাইম হোসেন নামে এক যুবক।

পর দিন রোববার ভোরে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় বোরহানের। ওই ঘটনায় পুলিশ নাইমকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। বোরহান উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামের আহসানুল কবিরের ছেলে। তিনি মণিরামপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ঘটনার দিন সাইকেল চালিয়ে তিনি উপজেলার খালিয়ে গ্রামে যান। তার কয়েক দিন আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বোরহান।