আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
পটুয়াখালীর মহিপুরে রায়হান (২২) নামের এক যুবককে অপহরণ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। গত চার দিন আগে মহিপুরের নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।
এর একদিন পর তাকে একটি নির্জনে হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানোর দৃশ্য ভিডিওতে দেখা যায়। ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে রায়হানের পরিবারের নজরে আসে।
এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মহিপুর থানায় নির্যাতিত রায়হানের বাবা কাশেম শুক্রবার বিকালে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে রায়হানকে উদ্ধারের সহায়তা চাওয়া হয় পুলিশের কাছে কিন্তু অপহৃত যুবককে পুলিশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি।
এদিকে পুলিশ বলছে, রায়হান মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্য। ওই সিন্ডিকেটের অপর এক সদস্যের মোটরসাইকেল অন্যত্র বিক্রি করা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়। সেই মোটরসাইকেল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রায়হানকে মারধরের সময় ভিডিও করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়হান তার শ্বশুরবাড়ি বরগুনা জেলার তালতলীর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ওই দিন সন্ধ্যায় রায়হানের স্ত্রী মহিমা তাকে ফোন করে অবস্থান জানতে চাইলে মোবাইলের অপর প্রান্ত থেকে ধস্তাধস্তির আওয়াজ শোনেন এবং এর কিছুক্ষণ পর ফোন বন্ধ করে দেয়।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিতে দেখা যায়, অপহৃত রায়হানের হাত-পা গাছের সঙ্গে বেঁধে ৪-৫ জন যুবক গালাগাল ও লাঠিপেটা করছে। মহিপুর থানায় রায়হানের বাবার লিখিত অভিযোগে একই এলাকার ইমাম সিকদার, মসিউর, ইমরান ও বিপ্লব শীলের নামসহ আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেশায় ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক রায়হানের বাবা মহিপুরের মাছ ধরা ট্রলারের জেলে কাশেম মিয়া বলেন, থানায় অভিযোগে উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে ইমাম সিকদার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আমাকে হুমকি দিয়ে জানিয়েছে ‘রায়হানকে ছেড়ে দিয়েছি, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অবস্থা খারাপ হবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। মাদক কারবারের দায়ে একাধিকবার তারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
এ ব্যাপারে মহিপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়ে জড়িতদের আটক এবং রায়হানকে উদ্ধারের সবরকম প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
ওসি আরও বলেন, রায়হান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। ওই মাদক পাচার সিন্ডিকেটের অপর এক সদস্যের মোটরসাইকেল নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করায় নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। সেই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রায়হানকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলে বিস্তারিত জানা যাবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























