ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে পোশাকশ্রমিকদের অনীহা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি বছরের মে মাসে পোশাকশ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছিল। তবে, পরের মাসগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

এর অন্যতম কারণ, এ পদ্ধতিতে বেতন নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক।

মে মাসের আগে কিছু কারখানা বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড হয়েছিল। সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাসের আগে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দিতে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলো এগিয়ে ছিল। একইসঙ্গে মে মাসের পর থেকে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার বাড়ার প্রবণতাও ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত উপাত্ত নিয়ে ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের বেতনের আধুনিকীকরণ প্রবণতা’ শীর্ষক একটি সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে আসে। রোববার (২০ ডিসেম্বর) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়ন করতে, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) গত এপ্রিল থেকে ১৩৭৭ জন শ্রমিকের ওপর ধারাবাহিকভাবে জরিপ চালিয়ে আসছে।

জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত আছেন। অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশ নারী, যা পুরো গার্মেন্টস খাতের জেন্ডার বন্টনের প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক ৩৭ শতাংশ কারখানা ডিজিটাল পদ্ধতিতে শ্রমিকদের বেতন দিতো, যেখানে এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন ২০ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দিতো। মে মাসে গার্মেন্টস খাত সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার পর শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানার জন্য হয় ৮৫ শতাংশ এবং ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য হয় ৫৭ শতাংশ। ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলোর ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার ছিল জুন মাসে ৮৫ শতাংশ, জুলাই মাসে ৮৭ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৭৬ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৭৩ শতাংশ। অপরদিকে, ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন কারখানার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার জুন মাসে ছিল ৬০ শতাংশ, জুলাই মাসে ৫৪ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৪৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৪০ শতাংশ।

পোশাকশ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বেতন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পেলেও ঈদ বোনাস নগদ অর্থে পেয়েছেন। কারখানাগুলোর নগদ অর্থে বেতন দেওয়ার দিকে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি কারণ হলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকের অনীহা। এক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ধারণার অভাব, মোবাইল না থাকা, স্বামীর নামে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকায় উপার্জিত অর্থ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে আসা, ইত্যাদি বিষয়কে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শ্রমিকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে পোশাকশ্রমিকদের অনীহা

আপডেট সময় ০৭:০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি বছরের মে মাসে পোশাকশ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছিল। তবে, পরের মাসগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

এর অন্যতম কারণ, এ পদ্ধতিতে বেতন নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক।

মে মাসের আগে কিছু কারখানা বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড হয়েছিল। সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাসের আগে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দিতে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলো এগিয়ে ছিল। একইসঙ্গে মে মাসের পর থেকে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার বাড়ার প্রবণতাও ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত উপাত্ত নিয়ে ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের বেতনের আধুনিকীকরণ প্রবণতা’ শীর্ষক একটি সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে আসে। রোববার (২০ ডিসেম্বর) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়ন করতে, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) গত এপ্রিল থেকে ১৩৭৭ জন শ্রমিকের ওপর ধারাবাহিকভাবে জরিপ চালিয়ে আসছে।

জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত আছেন। অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশ নারী, যা পুরো গার্মেন্টস খাতের জেন্ডার বন্টনের প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক ৩৭ শতাংশ কারখানা ডিজিটাল পদ্ধতিতে শ্রমিকদের বেতন দিতো, যেখানে এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন ২০ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দিতো। মে মাসে গার্মেন্টস খাত সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার পর শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানার জন্য হয় ৮৫ শতাংশ এবং ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য হয় ৫৭ শতাংশ। ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলোর ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার ছিল জুন মাসে ৮৫ শতাংশ, জুলাই মাসে ৮৭ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৭৬ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৭৩ শতাংশ। অপরদিকে, ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন কারখানার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার জুন মাসে ছিল ৬০ শতাংশ, জুলাই মাসে ৫৪ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৪৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৪০ শতাংশ।

পোশাকশ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বেতন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পেলেও ঈদ বোনাস নগদ অর্থে পেয়েছেন। কারখানাগুলোর নগদ অর্থে বেতন দেওয়ার দিকে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি কারণ হলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকের অনীহা। এক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ধারণার অভাব, মোবাইল না থাকা, স্বামীর নামে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকায় উপার্জিত অর্থ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে আসা, ইত্যাদি বিষয়কে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শ্রমিকরা।