ঢাকা ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে পোশাকশ্রমিকদের অনীহা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি বছরের মে মাসে পোশাকশ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছিল। তবে, পরের মাসগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

এর অন্যতম কারণ, এ পদ্ধতিতে বেতন নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক।

মে মাসের আগে কিছু কারখানা বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড হয়েছিল। সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাসের আগে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দিতে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলো এগিয়ে ছিল। একইসঙ্গে মে মাসের পর থেকে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার বাড়ার প্রবণতাও ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত উপাত্ত নিয়ে ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের বেতনের আধুনিকীকরণ প্রবণতা’ শীর্ষক একটি সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে আসে। রোববার (২০ ডিসেম্বর) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়ন করতে, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) গত এপ্রিল থেকে ১৩৭৭ জন শ্রমিকের ওপর ধারাবাহিকভাবে জরিপ চালিয়ে আসছে।

জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত আছেন। অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশ নারী, যা পুরো গার্মেন্টস খাতের জেন্ডার বন্টনের প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক ৩৭ শতাংশ কারখানা ডিজিটাল পদ্ধতিতে শ্রমিকদের বেতন দিতো, যেখানে এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন ২০ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দিতো। মে মাসে গার্মেন্টস খাত সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার পর শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানার জন্য হয় ৮৫ শতাংশ এবং ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য হয় ৫৭ শতাংশ। ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলোর ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার ছিল জুন মাসে ৮৫ শতাংশ, জুলাই মাসে ৮৭ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৭৬ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৭৩ শতাংশ। অপরদিকে, ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন কারখানার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার জুন মাসে ছিল ৬০ শতাংশ, জুলাই মাসে ৫৪ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৪৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৪০ শতাংশ।

পোশাকশ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বেতন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পেলেও ঈদ বোনাস নগদ অর্থে পেয়েছেন। কারখানাগুলোর নগদ অর্থে বেতন দেওয়ার দিকে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি কারণ হলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকের অনীহা। এক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ধারণার অভাব, মোবাইল না থাকা, স্বামীর নামে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকায় উপার্জিত অর্থ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে আসা, ইত্যাদি বিষয়কে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শ্রমিকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে পোশাকশ্রমিকদের অনীহা

আপডেট সময় ০৭:০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি বছরের মে মাসে পোশাকশ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছিল। তবে, পরের মাসগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

এর অন্যতম কারণ, এ পদ্ধতিতে বেতন নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক।

মে মাসের আগে কিছু কারখানা বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড হয়েছিল। সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাসের আগে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দিতে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলো এগিয়ে ছিল। একইসঙ্গে মে মাসের পর থেকে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার বাড়ার প্রবণতাও ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত উপাত্ত নিয়ে ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের বেতনের আধুনিকীকরণ প্রবণতা’ শীর্ষক একটি সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে আসে। রোববার (২০ ডিসেম্বর) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়ন করতে, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) গত এপ্রিল থেকে ১৩৭৭ জন শ্রমিকের ওপর ধারাবাহিকভাবে জরিপ চালিয়ে আসছে।

জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত আছেন। অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশ নারী, যা পুরো গার্মেন্টস খাতের জেন্ডার বন্টনের প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক ৩৭ শতাংশ কারখানা ডিজিটাল পদ্ধতিতে শ্রমিকদের বেতন দিতো, যেখানে এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন ২০ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দিতো। মে মাসে গার্মেন্টস খাত সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার পর শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানার জন্য হয় ৮৫ শতাংশ এবং ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য হয় ৫৭ শতাংশ। ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলোর ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার ছিল জুন মাসে ৮৫ শতাংশ, জুলাই মাসে ৮৭ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৭৬ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৭৩ শতাংশ। অপরদিকে, ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন কারখানার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার জুন মাসে ছিল ৬০ শতাংশ, জুলাই মাসে ৫৪ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৪৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৪০ শতাংশ।

পোশাকশ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বেতন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পেলেও ঈদ বোনাস নগদ অর্থে পেয়েছেন। কারখানাগুলোর নগদ অর্থে বেতন দেওয়ার দিকে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি কারণ হলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকের অনীহা। এক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ধারণার অভাব, মোবাইল না থাকা, স্বামীর নামে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকায় উপার্জিত অর্থ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে আসা, ইত্যাদি বিষয়কে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শ্রমিকরা।