ঢাকা ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে পোশাকশ্রমিকদের অনীহা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি বছরের মে মাসে পোশাকশ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছিল। তবে, পরের মাসগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

এর অন্যতম কারণ, এ পদ্ধতিতে বেতন নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক।

মে মাসের আগে কিছু কারখানা বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড হয়েছিল। সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাসের আগে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দিতে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলো এগিয়ে ছিল। একইসঙ্গে মে মাসের পর থেকে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার বাড়ার প্রবণতাও ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত উপাত্ত নিয়ে ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের বেতনের আধুনিকীকরণ প্রবণতা’ শীর্ষক একটি সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে আসে। রোববার (২০ ডিসেম্বর) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়ন করতে, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) গত এপ্রিল থেকে ১৩৭৭ জন শ্রমিকের ওপর ধারাবাহিকভাবে জরিপ চালিয়ে আসছে।

জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত আছেন। অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশ নারী, যা পুরো গার্মেন্টস খাতের জেন্ডার বন্টনের প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক ৩৭ শতাংশ কারখানা ডিজিটাল পদ্ধতিতে শ্রমিকদের বেতন দিতো, যেখানে এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন ২০ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দিতো। মে মাসে গার্মেন্টস খাত সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার পর শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানার জন্য হয় ৮৫ শতাংশ এবং ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য হয় ৫৭ শতাংশ। ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলোর ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার ছিল জুন মাসে ৮৫ শতাংশ, জুলাই মাসে ৮৭ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৭৬ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৭৩ শতাংশ। অপরদিকে, ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন কারখানার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার জুন মাসে ছিল ৬০ শতাংশ, জুলাই মাসে ৫৪ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৪৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৪০ শতাংশ।

পোশাকশ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বেতন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পেলেও ঈদ বোনাস নগদ অর্থে পেয়েছেন। কারখানাগুলোর নগদ অর্থে বেতন দেওয়ার দিকে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি কারণ হলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকের অনীহা। এক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ধারণার অভাব, মোবাইল না থাকা, স্বামীর নামে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকায় উপার্জিত অর্থ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে আসা, ইত্যাদি বিষয়কে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শ্রমিকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে পোশাকশ্রমিকদের অনীহা

আপডেট সময় ০৭:০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি বছরের মে মাসে পোশাকশ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছিল। তবে, পরের মাসগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

এর অন্যতম কারণ, এ পদ্ধতিতে বেতন নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক।

মে মাসের আগে কিছু কারখানা বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড হয়েছিল। সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাসের আগে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দিতে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলো এগিয়ে ছিল। একইসঙ্গে মে মাসের পর থেকে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার বাড়ার প্রবণতাও ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত উপাত্ত নিয়ে ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের বেতনের আধুনিকীকরণ প্রবণতা’ শীর্ষক একটি সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে আসে। রোববার (২০ ডিসেম্বর) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়ন করতে, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) গত এপ্রিল থেকে ১৩৭৭ জন শ্রমিকের ওপর ধারাবাহিকভাবে জরিপ চালিয়ে আসছে।

জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত আছেন। অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশ নারী, যা পুরো গার্মেন্টস খাতের জেন্ডার বন্টনের প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক ৩৭ শতাংশ কারখানা ডিজিটাল পদ্ধতিতে শ্রমিকদের বেতন দিতো, যেখানে এপ্রিল মাসে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন ২০ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দিতো। মে মাসে গার্মেন্টস খাত সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার পর শ্রমিকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানার জন্য হয় ৮৫ শতাংশ এবং ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য হয় ৫৭ শতাংশ। ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক কারখানাগুলোর ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার ছিল জুন মাসে ৮৫ শতাংশ, জুলাই মাসে ৮৭ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৭৬ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৭৩ শতাংশ। অপরদিকে, ব্র্যান্ড-কেন্দ্রিক নয় এমন কারখানার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বেতন দেওয়ার হার জুন মাসে ছিল ৬০ শতাংশ, জুলাই মাসে ৫৪ শতাংশ, আগস্ট মাসে ৪৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৪০ শতাংশ।

পোশাকশ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বেতন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পেলেও ঈদ বোনাস নগদ অর্থে পেয়েছেন। কারখানাগুলোর নগদ অর্থে বেতন দেওয়ার দিকে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি কারণ হলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকের অনীহা। এক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ধারণার অভাব, মোবাইল না থাকা, স্বামীর নামে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকায় উপার্জিত অর্থ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে আসা, ইত্যাদি বিষয়কে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শ্রমিকরা।