ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

শিশু নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান নোহাকে (৯) পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন তার মা তানিয়া বেগম।

সোমবার দুপুরে তানিয়া বেগম তার স্বাবেক স্বামী ও নিহতের বাবা সুমন মিয়া, তার চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর জামান এবং সুমনের বোন লিপি বেগমকে আসামি করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।

আদালতের বিচারক শাম্মী আক্তার নিহত শিশু নোহার ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা এবং ওই সময় পর্যন্ত নথির কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট সুমন মিয়া তাকে তালাক দেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। নোহাকে তার কাছে নিতে চাইলেও সুমন মিয়া নোহাকে তার কাছে দেয়নি। নোহাকে তার দাদা (সুমনের বাবা) আব্দুর রহিম মিয়া খুব আদর করতেন। কিন্তু তা সহ্য করতে পারতেন না সুমন ও তার চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর।

গত ৯ সেপ্টেম্বর নোহা বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামে স্থানীয় দারুল ফালাহ প্রি ক্যাডেট একাডেমিতে সাপ্তাহিক পরীক্ষা দিতে যায়। পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ায় শিক্ষক তাকে বঁকাঝকা এবং বেত্রাঘাত করে। বাড়ি ফিরে সে কিছুক্ষন কান্নাকাটি করে।

বাদীর দাবি, এ ঘটনাকে পুঁজি করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার মেয়ে নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে আসামিরা। এরপর গামছা ও ওড়নায় যুক্ত করে নোহাকে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচার চালানো হয়। বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য করতে সুমন মিয়া বাদী হয়ে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মামলায় উল্লেখ করেন তানিয়া।

বাদী তানিয়া বেগম জানান, ৯ বছরের শিশু আত্মহত্যা চিন্তাও করতে পারে না। সেখানে গামছা ও ওড়না যুক্ত করে আড়ার সাথে ফাঁস দেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি আদালতে ওই ৩জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে শিশু নোহার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয় বলে দাবী তার বাবা ও সৎ মায়ের। এ ঘটনায় পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সুমন মিয়া বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে শিক্ষক সুমন পাইকও পলাতক রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিশু নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৫:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান নোহাকে (৯) পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন তার মা তানিয়া বেগম।

সোমবার দুপুরে তানিয়া বেগম তার স্বাবেক স্বামী ও নিহতের বাবা সুমন মিয়া, তার চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর জামান এবং সুমনের বোন লিপি বেগমকে আসামি করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।

আদালতের বিচারক শাম্মী আক্তার নিহত শিশু নোহার ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা এবং ওই সময় পর্যন্ত নথির কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট সুমন মিয়া তাকে তালাক দেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। নোহাকে তার কাছে নিতে চাইলেও সুমন মিয়া নোহাকে তার কাছে দেয়নি। নোহাকে তার দাদা (সুমনের বাবা) আব্দুর রহিম মিয়া খুব আদর করতেন। কিন্তু তা সহ্য করতে পারতেন না সুমন ও তার চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর।

গত ৯ সেপ্টেম্বর নোহা বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামে স্থানীয় দারুল ফালাহ প্রি ক্যাডেট একাডেমিতে সাপ্তাহিক পরীক্ষা দিতে যায়। পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ায় শিক্ষক তাকে বঁকাঝকা এবং বেত্রাঘাত করে। বাড়ি ফিরে সে কিছুক্ষন কান্নাকাটি করে।

বাদীর দাবি, এ ঘটনাকে পুঁজি করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার মেয়ে নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে আসামিরা। এরপর গামছা ও ওড়নায় যুক্ত করে নোহাকে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচার চালানো হয়। বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য করতে সুমন মিয়া বাদী হয়ে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মামলায় উল্লেখ করেন তানিয়া।

বাদী তানিয়া বেগম জানান, ৯ বছরের শিশু আত্মহত্যা চিন্তাও করতে পারে না। সেখানে গামছা ও ওড়না যুক্ত করে আড়ার সাথে ফাঁস দেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি আদালতে ওই ৩জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে শিশু নোহার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয় বলে দাবী তার বাবা ও সৎ মায়ের। এ ঘটনায় পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সুমন মিয়া বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে শিক্ষক সুমন পাইকও পলাতক রয়েছে।