ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল

শিশু নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান নোহাকে (৯) পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন তার মা তানিয়া বেগম।

সোমবার দুপুরে তানিয়া বেগম তার স্বাবেক স্বামী ও নিহতের বাবা সুমন মিয়া, তার চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর জামান এবং সুমনের বোন লিপি বেগমকে আসামি করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।

আদালতের বিচারক শাম্মী আক্তার নিহত শিশু নোহার ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা এবং ওই সময় পর্যন্ত নথির কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট সুমন মিয়া তাকে তালাক দেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। নোহাকে তার কাছে নিতে চাইলেও সুমন মিয়া নোহাকে তার কাছে দেয়নি। নোহাকে তার দাদা (সুমনের বাবা) আব্দুর রহিম মিয়া খুব আদর করতেন। কিন্তু তা সহ্য করতে পারতেন না সুমন ও তার চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর।

গত ৯ সেপ্টেম্বর নোহা বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামে স্থানীয় দারুল ফালাহ প্রি ক্যাডেট একাডেমিতে সাপ্তাহিক পরীক্ষা দিতে যায়। পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ায় শিক্ষক তাকে বঁকাঝকা এবং বেত্রাঘাত করে। বাড়ি ফিরে সে কিছুক্ষন কান্নাকাটি করে।

বাদীর দাবি, এ ঘটনাকে পুঁজি করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার মেয়ে নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে আসামিরা। এরপর গামছা ও ওড়নায় যুক্ত করে নোহাকে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচার চালানো হয়। বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য করতে সুমন মিয়া বাদী হয়ে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মামলায় উল্লেখ করেন তানিয়া।

বাদী তানিয়া বেগম জানান, ৯ বছরের শিশু আত্মহত্যা চিন্তাও করতে পারে না। সেখানে গামছা ও ওড়না যুক্ত করে আড়ার সাথে ফাঁস দেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি আদালতে ওই ৩জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে শিশু নোহার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয় বলে দাবী তার বাবা ও সৎ মায়ের। এ ঘটনায় পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সুমন মিয়া বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে শিক্ষক সুমন পাইকও পলাতক রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

শিশু নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৫:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান নোহাকে (৯) পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন তার মা তানিয়া বেগম।

সোমবার দুপুরে তানিয়া বেগম তার স্বাবেক স্বামী ও নিহতের বাবা সুমন মিয়া, তার চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর জামান এবং সুমনের বোন লিপি বেগমকে আসামি করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।

আদালতের বিচারক শাম্মী আক্তার নিহত শিশু নোহার ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা এবং ওই সময় পর্যন্ত নথির কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট সুমন মিয়া তাকে তালাক দেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। নোহাকে তার কাছে নিতে চাইলেও সুমন মিয়া নোহাকে তার কাছে দেয়নি। নোহাকে তার দাদা (সুমনের বাবা) আব্দুর রহিম মিয়া খুব আদর করতেন। কিন্তু তা সহ্য করতে পারতেন না সুমন ও তার চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর।

গত ৯ সেপ্টেম্বর নোহা বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামে স্থানীয় দারুল ফালাহ প্রি ক্যাডেট একাডেমিতে সাপ্তাহিক পরীক্ষা দিতে যায়। পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ায় শিক্ষক তাকে বঁকাঝকা এবং বেত্রাঘাত করে। বাড়ি ফিরে সে কিছুক্ষন কান্নাকাটি করে।

বাদীর দাবি, এ ঘটনাকে পুঁজি করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার মেয়ে নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে আসামিরা। এরপর গামছা ও ওড়নায় যুক্ত করে নোহাকে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচার চালানো হয়। বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য করতে সুমন মিয়া বাদী হয়ে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মামলায় উল্লেখ করেন তানিয়া।

বাদী তানিয়া বেগম জানান, ৯ বছরের শিশু আত্মহত্যা চিন্তাও করতে পারে না। সেখানে গামছা ও ওড়না যুক্ত করে আড়ার সাথে ফাঁস দেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি আদালতে ওই ৩জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে শিশু নোহার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয় বলে দাবী তার বাবা ও সৎ মায়ের। এ ঘটনায় পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সুমন মিয়া বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে শিক্ষক সুমন পাইকও পলাতক রয়েছে।