ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

জীবিত আসামিকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দেখিয়ে চার্জশিট থেকে বাদ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আসামি নিহত, তাই অভিযোগপত্র থেকে নাম বাদ। কিন্তু আসামি জীবিত, আদালতে আসেন হাজিরা দিতে। চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করছে পুলিশ। শুধু কি নামের মিল, না অন্য কোন কারণ, না মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা। ঘটনার রহস্য বের করতে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ডিবির এক ডিসিকে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে বায়েজিদ থানার রৌফবাদ এলাকায় হত্যাচেষ্টার একটি মামলা, যার আসামি ৭ জন। পরের বছর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এই মামলার অন্যতম আসামি জয়নাল বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন দাবি করে তাকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। সম্প্রতি ওই মামলার আসামি জয়নাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে প্রকাশ পায় আসল ঘটনা।

মামলার আসামি মোহাম্মদ জয়নাল বলেন, ‘আমি বলে মৃত। আমি বললাম কখন মরলাম? উকিলকে কল করলাম, উনি বললো তোমার কোন সমস্যা হবে না। এতটুকুই জানতে পেরেছি। পরে আবার বাসায় এসে নোটিশ দিয়ে গেছে।’

জীবিত আসামিকে মৃত দেখিয়ে বাদ দেওয়ায় এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদি শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘আগামী মাসের ১৩ তারিখ ওসি সাহেব, দারোগা সাহেব, আসামি পক্ষের সবাই ও বাদি পক্ষের সবাই গিয়ে হাজিরা দেয়ার জন্য বলেছে আমাকে।’

২০১৯ সালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় আমিন জুট মিল এলাকার জয়নাল। জয়নালের মা জোহরা বেগম বলেন, এটা মোবারকের পিএস শামসু করেছে। মোবারক আমার কাছ থেকে টাকা চেয়েছিলো। আমি টাকা দেইনি। আমি বলেছি কত টাকা লাগবে। সবার সামনে আমাকে বলেনি। আমি এর সুুষ্ঠু বিচার চাই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপংকর চন্দ্র রায় জানান, দুই আসামির নামে মিল থাকায় ভুলবশত এমন হয়েছে। মামলার আসামি জয়নাল আরেকজন, আর বন্দুকযুদ্ধে যে নিহত হয়েছে সে জয়নাল আলাদা। ভুলক্রমে তাই জয়নালকে আমরা চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছি।

এদিকে, সদ্য নিযুক্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, ব্যক্তির অপরাধের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নিবে না। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত পেশাদারভাবে বিষয়টা ডিল করবো। প্রত্যেককেই যার যার ভুল ত্রুটির দায় নিতে হবে। এর মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জীবিত আসামিকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দেখিয়ে চার্জশিট থেকে বাদ

আপডেট সময় ০৭:৩২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আসামি নিহত, তাই অভিযোগপত্র থেকে নাম বাদ। কিন্তু আসামি জীবিত, আদালতে আসেন হাজিরা দিতে। চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করছে পুলিশ। শুধু কি নামের মিল, না অন্য কোন কারণ, না মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা। ঘটনার রহস্য বের করতে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ডিবির এক ডিসিকে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে বায়েজিদ থানার রৌফবাদ এলাকায় হত্যাচেষ্টার একটি মামলা, যার আসামি ৭ জন। পরের বছর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এই মামলার অন্যতম আসামি জয়নাল বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন দাবি করে তাকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। সম্প্রতি ওই মামলার আসামি জয়নাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে প্রকাশ পায় আসল ঘটনা।

মামলার আসামি মোহাম্মদ জয়নাল বলেন, ‘আমি বলে মৃত। আমি বললাম কখন মরলাম? উকিলকে কল করলাম, উনি বললো তোমার কোন সমস্যা হবে না। এতটুকুই জানতে পেরেছি। পরে আবার বাসায় এসে নোটিশ দিয়ে গেছে।’

জীবিত আসামিকে মৃত দেখিয়ে বাদ দেওয়ায় এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদি শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘আগামী মাসের ১৩ তারিখ ওসি সাহেব, দারোগা সাহেব, আসামি পক্ষের সবাই ও বাদি পক্ষের সবাই গিয়ে হাজিরা দেয়ার জন্য বলেছে আমাকে।’

২০১৯ সালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় আমিন জুট মিল এলাকার জয়নাল। জয়নালের মা জোহরা বেগম বলেন, এটা মোবারকের পিএস শামসু করেছে। মোবারক আমার কাছ থেকে টাকা চেয়েছিলো। আমি টাকা দেইনি। আমি বলেছি কত টাকা লাগবে। সবার সামনে আমাকে বলেনি। আমি এর সুুষ্ঠু বিচার চাই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপংকর চন্দ্র রায় জানান, দুই আসামির নামে মিল থাকায় ভুলবশত এমন হয়েছে। মামলার আসামি জয়নাল আরেকজন, আর বন্দুকযুদ্ধে যে নিহত হয়েছে সে জয়নাল আলাদা। ভুলক্রমে তাই জয়নালকে আমরা চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছি।

এদিকে, সদ্য নিযুক্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, ব্যক্তির অপরাধের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নিবে না। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত পেশাদারভাবে বিষয়টা ডিল করবো। প্রত্যেককেই যার যার ভুল ত্রুটির দায় নিতে হবে। এর মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।