ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করব : মির্জা আব্বাস ইমান এনে কোনো লাভ নেই, এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট চাচ্ছে: মির্জা ফখরুল বাড়িভাড়া কত বাড়ানো যাবে, কতদিন পর–নির্ধারণ করে দিল ঢাকা উত্তর সিটি

শিশুর রহস্যজনক আত্মহত্যা, অভিযোগের তীর সৎ মা ও শিক্ষকের দিকে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্বজনরা। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে মামলা করেছেন তার বাবা। মামলার অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশালের পুলিশ সুপার।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, ওই ছাত্রীর বাবার ৪টি বিয়ে। বর্তমানে চতুর্থ স্ত্রী তার পরিবারে রয়েছে। ওই ছাত্রীর মা ঢাকায় থাকলেও সে (শিশুটি) তার সৎ মায়ের কাছে থাকতো। সৎ মা তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচারণা চালাতে পারে বলে সন্দেহ এলাকাবাসীর।

গত বুধবার দুপুরে খাজুরিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নুসরাত জাহান নোহা (৯) নামে ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় পয়সারহাটের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নোহা স্থানীয় দারুল ফালাহ্ প্রি ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। গত বুধবার তার স্কুলের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে নোহা অকৃতকার্য হওয়ায় ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন তাকে মারধর করে। এতে সে অপমানিত বোধ করে বাসায় ফিরে কান্নাকাটি করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী আগৈলঝাড়ার সাংবাদিক আজাদ রহমান জানান, ফল প্রকাশিত হওয়ার পর শিশুটিকে তার স্কুলের শিক্ষক বেত্রাঘাত করে। স্থানীয়রা তাদের জানিয়েছে, শিশুটি স্কুল থেকে বাসায় ফিরে ওড়না ও রশি নিয়ে টিনসেড বাসার দোতালায় উঠে দরজা বন্ধ করে দেয়। দরজা আটকানো দেখে সৎ মাসহ পরিবারের সদস্যরা ডাকডাকি করে। পরে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নোহাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটিকে হত্যা করে তার লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচারণা চালানোর সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা। এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর সন্দেহের তীর সৎ মায়ের দিকে। আজাদ রহমান আরও জানান, মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার মা গত বুধবার ঢাকা থেকে আগৈলঝাড়ায় এসেছিলেন। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে তিনি তার সতীন ও সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়েছিলেন। থানায় গিয়ে জানতে পারেন মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে তার স্কুলের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার সাবেক স্বামী। এ খবর জানার পর সে থানা থেকে বের হয়ে ঢাকায় ফিরে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী আজাদ রহমান।

গতকাল দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নোহার লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে তার মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি করোনাকালে সরকারিভাবে স্কুল বন্ধ থাকার পরও ওই স্কুলে কিভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো তা খতিয়ে দেখার কথা বলেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম।

এদিকে এলাকাবাসীর সন্দেহের বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলার আসামি শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমনকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসীর সন্দেহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা তদন্ত করছেন। ময়না তদন্ত রিপোর্টে তাকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন ওসি মো. আফজাল হোসেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুর রহস্যজনক আত্মহত্যা, অভিযোগের তীর সৎ মা ও শিক্ষকের দিকে

আপডেট সময় ০৬:০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্বজনরা। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে মামলা করেছেন তার বাবা। মামলার অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশালের পুলিশ সুপার।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, ওই ছাত্রীর বাবার ৪টি বিয়ে। বর্তমানে চতুর্থ স্ত্রী তার পরিবারে রয়েছে। ওই ছাত্রীর মা ঢাকায় থাকলেও সে (শিশুটি) তার সৎ মায়ের কাছে থাকতো। সৎ মা তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচারণা চালাতে পারে বলে সন্দেহ এলাকাবাসীর।

গত বুধবার দুপুরে খাজুরিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নুসরাত জাহান নোহা (৯) নামে ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় পয়সারহাটের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নোহা স্থানীয় দারুল ফালাহ্ প্রি ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। গত বুধবার তার স্কুলের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে নোহা অকৃতকার্য হওয়ায় ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন তাকে মারধর করে। এতে সে অপমানিত বোধ করে বাসায় ফিরে কান্নাকাটি করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী আগৈলঝাড়ার সাংবাদিক আজাদ রহমান জানান, ফল প্রকাশিত হওয়ার পর শিশুটিকে তার স্কুলের শিক্ষক বেত্রাঘাত করে। স্থানীয়রা তাদের জানিয়েছে, শিশুটি স্কুল থেকে বাসায় ফিরে ওড়না ও রশি নিয়ে টিনসেড বাসার দোতালায় উঠে দরজা বন্ধ করে দেয়। দরজা আটকানো দেখে সৎ মাসহ পরিবারের সদস্যরা ডাকডাকি করে। পরে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নোহাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটিকে হত্যা করে তার লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচারণা চালানোর সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা। এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর সন্দেহের তীর সৎ মায়ের দিকে। আজাদ রহমান আরও জানান, মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার মা গত বুধবার ঢাকা থেকে আগৈলঝাড়ায় এসেছিলেন। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে তিনি তার সতীন ও সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়েছিলেন। থানায় গিয়ে জানতে পারেন মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে তার স্কুলের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার সাবেক স্বামী। এ খবর জানার পর সে থানা থেকে বের হয়ে ঢাকায় ফিরে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী আজাদ রহমান।

গতকাল দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নোহার লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে তার মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি করোনাকালে সরকারিভাবে স্কুল বন্ধ থাকার পরও ওই স্কুলে কিভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো তা খতিয়ে দেখার কথা বলেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম।

এদিকে এলাকাবাসীর সন্দেহের বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলার আসামি শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমনকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসীর সন্দেহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা তদন্ত করছেন। ময়না তদন্ত রিপোর্টে তাকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন ওসি মো. আফজাল হোসেন।