আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
৫০ বছরের দরিদ্র বৃদ্ধাকে আছড়িয়ে কোমর ভেঙে দিয়েছেন এক আনসার কমান্ডার। ভাঙা কোমর নিয়ে চলাফেরা তো দূরের কথা উঠে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছেন না।
অর্থাভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না ওই বৃদ্ধা।
অভিযুক্ত আনসার কমান্ডার প্রভাবশালী ও উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবের হওয়ায় এখন পর্যন্ত ওই বৃদ্ধার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে উল্টো হুমকি দিয়ে চলেছেন। এ কারণে ঘটনার ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বিচার পাননি দরিদ্র বৃদ্ধা ওই বৃদ্ধা। সেই সঙ্গে রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবেতর দিন কাটছে তার।
ঘটনাটি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের খোর্দ্দ বোতলাগাড়ী গ্রামের।
জানা যায়, ওই গ্রামের চান্দিয়ার ডাঙ্গা এলাকায় বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বড়ুয়া বাজারগামী রাস্তার পাশে ছোট্ট এক খুপড়ি ঘরে বসবাস করেন স্বামী পরিত্যক্তা সন্তান-স্বজনহীন বৃদ্ধা আমিনা খাতুন। মানুষের বাড়ি কাজ ছাড়াও এ বাড়ি-ও বাড়ি চেয়ে খেয়ে চলে তার জীবন। একটি গরু ও কয়েকটি ছাগলও পালন করেন তিনি।
গত জুন মাসের ২৯ তারিখ অন্যের কাছ থেকে পাওয়া কিছু খড়ি (ভুট্টার গাছ) শুকাতে দেন বাড়ির পাশের পাকা সড়কে। এর পাশেই একই এলাকার মৃত. লুৎফর রহমানের স্ত্রী মোছা. মেনকা বেগমও (৪৫) ভুট্টার খড়ি শুকাতে দেন। ওইদিন দুপুরে মেনকা বেগম ও তার ছেলে নুর আক্তার (৩০) এসে অহেতুক দোষারোপ করেন আমিনা তাদের খড়ি চুরি করেছেন। এতে আমিনা প্রতিবাদ করলে মেনকা ও নুর আক্তার এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে বেশ জখম হন বৃদ্ধা আমিনা।
নিরুপায় হয়ে মার খেয়েও চুপ করে আপন মনে খড়ি উল্টিয়ে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত হন। এর কিছু সময় পর পাশের পাড়ার নুরুদ্দিনের ছেলে সৈয়দপুর উপজেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয়ের কমান্ডার মোজাহার (৩০) ঘটনাস্থলে এসে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাজাকোলা করে আমিনাকে তুলে নিয়ে পাকা রাস্তার উপর আছাড় মারেন। এভাবে প্রায় তিনবার আছাড় মারায় আমিনার কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকে বৃদ্ধা আমিনা আর উঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না। কিন্তু মোজাহার তারপরও তাকে হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। ভাঙা কোমর নিয়ে ওঠার চেষ্টা করেও পড়ে গেলে রাস্তার উপর পড়ে থাকা অবস্থায় হাত ধরে টানা-হেঁচড়া শুরু করেন মোজাহার। তখন আমিনাকে লাথিও মারেন।
পরে এলাকাবাসী এসে আমিনাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও কোমরের হাড় ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করার মতো অর্থ না থাকায় বিনা চিকিৎসায় দিনাতিপাত করছে। চলাফেরা করতে না পেরে আয় রোজগার বঞ্চিত হয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে পালিত গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে খাবার ও চিকিৎসার জন্য। কিন্তু তাতেও কোনো ফল না হওয়ায় চরম হতাশা আর আশঙ্কা মধ্যে রয়েছেন বৃদ্ধা আমিনা খাতুন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোজাহারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সেদিন মামাতো ভাই নুর আক্তারের ওপর আঘাত করায় তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরছিল। এ দৃশ্য দেখে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি তাই ভুল হয়ে গেছে। এখন আমি জরিমানা দিতে রাজি। আমিনাকে বলেছি মামলা তুলে নিয়ে মীমাংসা করতে। মামলা তুললেই সমাধান হয়ে যাবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























