ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

খোলা আকাশের নিচে দিনভর পড়েছিল কুয়েত প্রবাসীর মরদেহ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

উঠানে দিনভর বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়েছে কুয়েত প্রবাসীর মরদেহ; এগিয়ে আসেনি কোনো আত্মীয়স্বজন।

দিনশেষে খবর পেয়ে ছুটে আসে শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনের সদস্যরা, সম্পন্ন করেন মৃতদেহের দাফন-কাফনের কাজ।

যে পরিবারের কথা চিন্তা করে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যান বিদেশের মাটিতে। সুখ আর শান্তির সময়টুকু প্রবাস নামের দেয়ালবিহীন জেলখানা কেটে যায়।

তেমনি একজন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৫নং ওসমানপুর ইউনিয়নের সাহেবপুর এলাকার কালাবক্সবাড়ির কুয়েত প্রবাসী ছালেহ আহমদ।

দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন শেষে দুই বছর আগে দেশে চলে আসেন, এর পর থেকে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে থাকতেন। সবাই হাসপাতালে ব্যস্ত ছেলের ঘরে নাতি হয়েছে, এদিকে ঘরে তার কুয়েত প্রবাসী বাবা মরে পড়ে আছে।

প্রাণঘাতী করোনায় চট্টগ্রামে মারা যাওয়ার পর ৩ জুন ভোরে বড় ভাই নুর আহম্মদ মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসেন দাফনের জন্য।

মরদেহের সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্য– এমনকি স্ত্রী-সন্তান কেউ আসেনি দাফনের জন্য। সালেহ আহম্মেদের লাশ বাড়ি আনার পর দাফন করতে এগিয়ে আসেনি কেউ।

লাশের সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান না আসার কারণে করোনার ভয়ে শেষবারের জন্য চোখের দেখাও দেখতে আসেননি বাড়ির অন্য লোকজন, সবাই চলে যায় অন্যত্র।

আসেনি গ্রামবাসীও। দিনভর বাড়ির উঠানে ঘরের কোণে মসজিদের খাটিয়ার ওপর পড়েছিল নিথর দেহটি। চাদরে ডাকা প্রবাসীর মরদেহ দিনভর বৃষ্টিতে ভিজেছে, আবার রোদে শুকিয়েছে।

সারা দিন বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকানো মর্মান্তিক খবর পেয়ে লাশ দাফনের জন্য আসে মিরসরাই উপজেলায় সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে গঠিত শেষ বিদায়ের বন্ধু নামে একটি সংগঠন।

করোনা মহামারীতে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ। এই সংগঠনের কাজ হলো কেউ মারা গেলে দাফন করা। জীবনের সবটুকু দিয়ে যাদের জন্য ব্যাংক ব্যালেন্স, বাড়ি ও জমি রেখে যাচ্ছেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবার প্রিয়জনদের পাওয়া যাচ্ছে না কাছে।

শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনটি ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সবাই প্রশংসা করছেন। সংগঠনের উদ্যোক্তা মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল আলম বলেন, যে পরিবারের জন্য এত বছর এতকিছু করল, নিজের সব কিছু বিলিয়ে দিল, আজ সেই মানুষটির সঙ্গে শেষ সময়ে এমন আচরণ কারওই কাম্য নয়।

তিনি আরও জানান, মিরসরাইয়ে যদি কোনো মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তার দাফনকাজে সামাজিকভাবে কেউ না এলেও আমাদের খবর দিলে তার ব্যবস্থা আমরা করব। অবশ্যই আমরা ধর্মীয় রীতিনীতি এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী তা করছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

খোলা আকাশের নিচে দিনভর পড়েছিল কুয়েত প্রবাসীর মরদেহ

আপডেট সময় ০৪:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

উঠানে দিনভর বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়েছে কুয়েত প্রবাসীর মরদেহ; এগিয়ে আসেনি কোনো আত্মীয়স্বজন।

দিনশেষে খবর পেয়ে ছুটে আসে শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনের সদস্যরা, সম্পন্ন করেন মৃতদেহের দাফন-কাফনের কাজ।

যে পরিবারের কথা চিন্তা করে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যান বিদেশের মাটিতে। সুখ আর শান্তির সময়টুকু প্রবাস নামের দেয়ালবিহীন জেলখানা কেটে যায়।

তেমনি একজন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৫নং ওসমানপুর ইউনিয়নের সাহেবপুর এলাকার কালাবক্সবাড়ির কুয়েত প্রবাসী ছালেহ আহমদ।

দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন শেষে দুই বছর আগে দেশে চলে আসেন, এর পর থেকে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে থাকতেন। সবাই হাসপাতালে ব্যস্ত ছেলের ঘরে নাতি হয়েছে, এদিকে ঘরে তার কুয়েত প্রবাসী বাবা মরে পড়ে আছে।

প্রাণঘাতী করোনায় চট্টগ্রামে মারা যাওয়ার পর ৩ জুন ভোরে বড় ভাই নুর আহম্মদ মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসেন দাফনের জন্য।

মরদেহের সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্য– এমনকি স্ত্রী-সন্তান কেউ আসেনি দাফনের জন্য। সালেহ আহম্মেদের লাশ বাড়ি আনার পর দাফন করতে এগিয়ে আসেনি কেউ।

লাশের সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান না আসার কারণে করোনার ভয়ে শেষবারের জন্য চোখের দেখাও দেখতে আসেননি বাড়ির অন্য লোকজন, সবাই চলে যায় অন্যত্র।

আসেনি গ্রামবাসীও। দিনভর বাড়ির উঠানে ঘরের কোণে মসজিদের খাটিয়ার ওপর পড়েছিল নিথর দেহটি। চাদরে ডাকা প্রবাসীর মরদেহ দিনভর বৃষ্টিতে ভিজেছে, আবার রোদে শুকিয়েছে।

সারা দিন বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকানো মর্মান্তিক খবর পেয়ে লাশ দাফনের জন্য আসে মিরসরাই উপজেলায় সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে গঠিত শেষ বিদায়ের বন্ধু নামে একটি সংগঠন।

করোনা মহামারীতে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ। এই সংগঠনের কাজ হলো কেউ মারা গেলে দাফন করা। জীবনের সবটুকু দিয়ে যাদের জন্য ব্যাংক ব্যালেন্স, বাড়ি ও জমি রেখে যাচ্ছেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবার প্রিয়জনদের পাওয়া যাচ্ছে না কাছে।

শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনটি ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সবাই প্রশংসা করছেন। সংগঠনের উদ্যোক্তা মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল আলম বলেন, যে পরিবারের জন্য এত বছর এতকিছু করল, নিজের সব কিছু বিলিয়ে দিল, আজ সেই মানুষটির সঙ্গে শেষ সময়ে এমন আচরণ কারওই কাম্য নয়।

তিনি আরও জানান, মিরসরাইয়ে যদি কোনো মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তার দাফনকাজে সামাজিকভাবে কেউ না এলেও আমাদের খবর দিলে তার ব্যবস্থা আমরা করব। অবশ্যই আমরা ধর্মীয় রীতিনীতি এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী তা করছি।