ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

খোলা আকাশের নিচে দিনভর পড়েছিল কুয়েত প্রবাসীর মরদেহ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

উঠানে দিনভর বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়েছে কুয়েত প্রবাসীর মরদেহ; এগিয়ে আসেনি কোনো আত্মীয়স্বজন।

দিনশেষে খবর পেয়ে ছুটে আসে শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনের সদস্যরা, সম্পন্ন করেন মৃতদেহের দাফন-কাফনের কাজ।

যে পরিবারের কথা চিন্তা করে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যান বিদেশের মাটিতে। সুখ আর শান্তির সময়টুকু প্রবাস নামের দেয়ালবিহীন জেলখানা কেটে যায়।

তেমনি একজন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৫নং ওসমানপুর ইউনিয়নের সাহেবপুর এলাকার কালাবক্সবাড়ির কুয়েত প্রবাসী ছালেহ আহমদ।

দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন শেষে দুই বছর আগে দেশে চলে আসেন, এর পর থেকে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে থাকতেন। সবাই হাসপাতালে ব্যস্ত ছেলের ঘরে নাতি হয়েছে, এদিকে ঘরে তার কুয়েত প্রবাসী বাবা মরে পড়ে আছে।

প্রাণঘাতী করোনায় চট্টগ্রামে মারা যাওয়ার পর ৩ জুন ভোরে বড় ভাই নুর আহম্মদ মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসেন দাফনের জন্য।

মরদেহের সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্য– এমনকি স্ত্রী-সন্তান কেউ আসেনি দাফনের জন্য। সালেহ আহম্মেদের লাশ বাড়ি আনার পর দাফন করতে এগিয়ে আসেনি কেউ।

লাশের সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান না আসার কারণে করোনার ভয়ে শেষবারের জন্য চোখের দেখাও দেখতে আসেননি বাড়ির অন্য লোকজন, সবাই চলে যায় অন্যত্র।

আসেনি গ্রামবাসীও। দিনভর বাড়ির উঠানে ঘরের কোণে মসজিদের খাটিয়ার ওপর পড়েছিল নিথর দেহটি। চাদরে ডাকা প্রবাসীর মরদেহ দিনভর বৃষ্টিতে ভিজেছে, আবার রোদে শুকিয়েছে।

সারা দিন বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকানো মর্মান্তিক খবর পেয়ে লাশ দাফনের জন্য আসে মিরসরাই উপজেলায় সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে গঠিত শেষ বিদায়ের বন্ধু নামে একটি সংগঠন।

করোনা মহামারীতে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ। এই সংগঠনের কাজ হলো কেউ মারা গেলে দাফন করা। জীবনের সবটুকু দিয়ে যাদের জন্য ব্যাংক ব্যালেন্স, বাড়ি ও জমি রেখে যাচ্ছেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবার প্রিয়জনদের পাওয়া যাচ্ছে না কাছে।

শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনটি ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সবাই প্রশংসা করছেন। সংগঠনের উদ্যোক্তা মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল আলম বলেন, যে পরিবারের জন্য এত বছর এতকিছু করল, নিজের সব কিছু বিলিয়ে দিল, আজ সেই মানুষটির সঙ্গে শেষ সময়ে এমন আচরণ কারওই কাম্য নয়।

তিনি আরও জানান, মিরসরাইয়ে যদি কোনো মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তার দাফনকাজে সামাজিকভাবে কেউ না এলেও আমাদের খবর দিলে তার ব্যবস্থা আমরা করব। অবশ্যই আমরা ধর্মীয় রীতিনীতি এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী তা করছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খোলা আকাশের নিচে দিনভর পড়েছিল কুয়েত প্রবাসীর মরদেহ

আপডেট সময় ০৪:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

উঠানে দিনভর বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়েছে কুয়েত প্রবাসীর মরদেহ; এগিয়ে আসেনি কোনো আত্মীয়স্বজন।

দিনশেষে খবর পেয়ে ছুটে আসে শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনের সদস্যরা, সম্পন্ন করেন মৃতদেহের দাফন-কাফনের কাজ।

যে পরিবারের কথা চিন্তা করে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যান বিদেশের মাটিতে। সুখ আর শান্তির সময়টুকু প্রবাস নামের দেয়ালবিহীন জেলখানা কেটে যায়।

তেমনি একজন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৫নং ওসমানপুর ইউনিয়নের সাহেবপুর এলাকার কালাবক্সবাড়ির কুয়েত প্রবাসী ছালেহ আহমদ।

দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন শেষে দুই বছর আগে দেশে চলে আসেন, এর পর থেকে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে থাকতেন। সবাই হাসপাতালে ব্যস্ত ছেলের ঘরে নাতি হয়েছে, এদিকে ঘরে তার কুয়েত প্রবাসী বাবা মরে পড়ে আছে।

প্রাণঘাতী করোনায় চট্টগ্রামে মারা যাওয়ার পর ৩ জুন ভোরে বড় ভাই নুর আহম্মদ মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসেন দাফনের জন্য।

মরদেহের সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্য– এমনকি স্ত্রী-সন্তান কেউ আসেনি দাফনের জন্য। সালেহ আহম্মেদের লাশ বাড়ি আনার পর দাফন করতে এগিয়ে আসেনি কেউ।

লাশের সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান না আসার কারণে করোনার ভয়ে শেষবারের জন্য চোখের দেখাও দেখতে আসেননি বাড়ির অন্য লোকজন, সবাই চলে যায় অন্যত্র।

আসেনি গ্রামবাসীও। দিনভর বাড়ির উঠানে ঘরের কোণে মসজিদের খাটিয়ার ওপর পড়েছিল নিথর দেহটি। চাদরে ডাকা প্রবাসীর মরদেহ দিনভর বৃষ্টিতে ভিজেছে, আবার রোদে শুকিয়েছে।

সারা দিন বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকানো মর্মান্তিক খবর পেয়ে লাশ দাফনের জন্য আসে মিরসরাই উপজেলায় সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে গঠিত শেষ বিদায়ের বন্ধু নামে একটি সংগঠন।

করোনা মহামারীতে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ। এই সংগঠনের কাজ হলো কেউ মারা গেলে দাফন করা। জীবনের সবটুকু দিয়ে যাদের জন্য ব্যাংক ব্যালেন্স, বাড়ি ও জমি রেখে যাচ্ছেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবার প্রিয়জনদের পাওয়া যাচ্ছে না কাছে।

শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনটি ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সবাই প্রশংসা করছেন। সংগঠনের উদ্যোক্তা মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল আলম বলেন, যে পরিবারের জন্য এত বছর এতকিছু করল, নিজের সব কিছু বিলিয়ে দিল, আজ সেই মানুষটির সঙ্গে শেষ সময়ে এমন আচরণ কারওই কাম্য নয়।

তিনি আরও জানান, মিরসরাইয়ে যদি কোনো মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তার দাফনকাজে সামাজিকভাবে কেউ না এলেও আমাদের খবর দিলে তার ব্যবস্থা আমরা করব। অবশ্যই আমরা ধর্মীয় রীতিনীতি এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী তা করছি।