ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

কাউন্সিলর-কোটিপতিরাও পেলেন প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার সারা দেশে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কর্মহীন, দুস্থদের মধ্যে প্রতি পরিবারের জন্য মোবাইল একাউন্টে আড়াই হাজার টাকা পাঠিয়েছে। সেই তালিকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তৈরি করেছেন। প্রত্যেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালিকার বিশুদ্ধতা যাচাই বাছাই করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দিয়েছেন। ইউএনও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন।

করোনাভাইরাস উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মোবাইল ব্যাংকিং নগদের মাধ্যমে কর্মহীন মানুষের জন্য পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহয়তার টাকা বোয়ালখালী পৌরসভার এক কাউন্সিলর নিজে তো নিলেনই, বিতরণ করলেন আরো দুই কোটিপতির মোবাইলে। দুই কোটিপতির একজন সেই সহায়তা সানন্দে গ্রহণ করলেও অপরজন টাকা পেয়ে রীতিমত চমকে উঠলেন!

বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোলাইমান বাবুল তালিকা তৈরির সময় তালিকার ২৯ নম্বরে বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের একাংশের সভাপতি শাহিনুর কিবরিয়া মাসুদ, ৩৯ নম্বরে এসএম নুরুল আহাদের নাম আর ৩৩ নম্বর দুঃস্থদের ব্যক্তির তালিকায় রেখেছেন নিজের নাম।

শাহিনুর কিবরিয়া মাসুদ একটি দৈনিকের বোয়ালখালী প্রতিনিধি এবং পারিবারিকভাবেই বেশ অবস্থাসম্পন্ন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, ‘ঈদের সকালে ঘুমে থেকে জেগে দেখি মোবাইলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার আড়াই হাজার টাকা আসছে আমিও পেলাম। করোনা দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর আমার পরিবারের পক্ষ থেকেই প্রায় দুই লাখ টাকার ওপরে খরচ করা হয়েছে মানুষকে সহায়তার জন্য। পরে খবর নিয়ে জানলাম আমাদের কাউন্সিলর তালিকায় আমার নাম্বার দিয়েছিলেন। ওই টাকা দোকানপাট খুললে ক্যাশ করে কারো মাঝে বিতরণ করে দেবো।’

অপর ব্যক্তি এসএম নুরুল আহাদ একসময় প্রবাসী ছিলেন। বোয়ালখালী পৌর এলাকায় তার একাধিক বাড়ি আছে বলেও জানা গেছে। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন তার তিন সন্তানের দুই সন্তান দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন নিজে বেকার। কোন কিছু করি না হিসেবে কাউন্সিলর সাহেব খুশি হয়ে আমার নাম তালিকায় দিয়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেয়ে খুশি।’ গরিব-দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দ করা টাকা আপনি পেতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন জবাব দেননি।

কাউন্সিলর সোলাইমান বাবুল বলেন, ‘আমাকে শুধু কাউন্সিলর হিসেবে দেখছেন কেন? আমিও তো দেশের নাগরিক। সেই হিসেবে আমিও প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেতে পারি। আমি তো বউ বাচ্চা আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় দিয়ে আরো বেশি নিতে পারতাম। সেটা তো করিনি।’

তালিকায় অপর দুই কোটিপতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওদের এক সময় টাকা পয়সা ছিল, এখন কিছু নাই। সবাই অসহায়, দুঃস্থ।’

তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ বলেন, ‘যাচাই-বাছাই বলতে আমার দায়িত্ব ছিল ভুল সংশোধন। এক হাজার ২০৪ জনের তালিকায় প্রচুর ভুল ছিল। কারো মোবাইলের ডিজিট কম ছিল। কারো ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সংখ্যা কম ছিল। আবার দেখা গেলো এনআইডি পিতার, মোবাইল নাম্বার ছেলের। ওসব সংশোধনের দায়িত্বে ছিলাম। তালিকায় কে থাকবে না থাকবে তা কাউন্সিলর দেখবেন।

আরোও গড়ুন: সিলেটে করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশের প্রথম পুরুষ নার্সের মৃত্যু

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাউন্সিলর-কোটিপতিরাও পেলেন প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা!

আপডেট সময় ০৮:৩১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার সারা দেশে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কর্মহীন, দুস্থদের মধ্যে প্রতি পরিবারের জন্য মোবাইল একাউন্টে আড়াই হাজার টাকা পাঠিয়েছে। সেই তালিকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তৈরি করেছেন। প্রত্যেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালিকার বিশুদ্ধতা যাচাই বাছাই করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দিয়েছেন। ইউএনও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন।

করোনাভাইরাস উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মোবাইল ব্যাংকিং নগদের মাধ্যমে কর্মহীন মানুষের জন্য পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহয়তার টাকা বোয়ালখালী পৌরসভার এক কাউন্সিলর নিজে তো নিলেনই, বিতরণ করলেন আরো দুই কোটিপতির মোবাইলে। দুই কোটিপতির একজন সেই সহায়তা সানন্দে গ্রহণ করলেও অপরজন টাকা পেয়ে রীতিমত চমকে উঠলেন!

বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোলাইমান বাবুল তালিকা তৈরির সময় তালিকার ২৯ নম্বরে বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের একাংশের সভাপতি শাহিনুর কিবরিয়া মাসুদ, ৩৯ নম্বরে এসএম নুরুল আহাদের নাম আর ৩৩ নম্বর দুঃস্থদের ব্যক্তির তালিকায় রেখেছেন নিজের নাম।

শাহিনুর কিবরিয়া মাসুদ একটি দৈনিকের বোয়ালখালী প্রতিনিধি এবং পারিবারিকভাবেই বেশ অবস্থাসম্পন্ন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, ‘ঈদের সকালে ঘুমে থেকে জেগে দেখি মোবাইলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার আড়াই হাজার টাকা আসছে আমিও পেলাম। করোনা দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর আমার পরিবারের পক্ষ থেকেই প্রায় দুই লাখ টাকার ওপরে খরচ করা হয়েছে মানুষকে সহায়তার জন্য। পরে খবর নিয়ে জানলাম আমাদের কাউন্সিলর তালিকায় আমার নাম্বার দিয়েছিলেন। ওই টাকা দোকানপাট খুললে ক্যাশ করে কারো মাঝে বিতরণ করে দেবো।’

অপর ব্যক্তি এসএম নুরুল আহাদ একসময় প্রবাসী ছিলেন। বোয়ালখালী পৌর এলাকায় তার একাধিক বাড়ি আছে বলেও জানা গেছে। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন তার তিন সন্তানের দুই সন্তান দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন নিজে বেকার। কোন কিছু করি না হিসেবে কাউন্সিলর সাহেব খুশি হয়ে আমার নাম তালিকায় দিয়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেয়ে খুশি।’ গরিব-দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দ করা টাকা আপনি পেতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন জবাব দেননি।

কাউন্সিলর সোলাইমান বাবুল বলেন, ‘আমাকে শুধু কাউন্সিলর হিসেবে দেখছেন কেন? আমিও তো দেশের নাগরিক। সেই হিসেবে আমিও প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেতে পারি। আমি তো বউ বাচ্চা আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় দিয়ে আরো বেশি নিতে পারতাম। সেটা তো করিনি।’

তালিকায় অপর দুই কোটিপতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওদের এক সময় টাকা পয়সা ছিল, এখন কিছু নাই। সবাই অসহায়, দুঃস্থ।’

তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ বলেন, ‘যাচাই-বাছাই বলতে আমার দায়িত্ব ছিল ভুল সংশোধন। এক হাজার ২০৪ জনের তালিকায় প্রচুর ভুল ছিল। কারো মোবাইলের ডিজিট কম ছিল। কারো ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সংখ্যা কম ছিল। আবার দেখা গেলো এনআইডি পিতার, মোবাইল নাম্বার ছেলের। ওসব সংশোধনের দায়িত্বে ছিলাম। তালিকায় কে থাকবে না থাকবে তা কাউন্সিলর দেখবেন।

আরোও গড়ুন: সিলেটে করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশের প্রথম পুরুষ নার্সের মৃত্যু