ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে হাসপাতালের ভেতরেই চিকিৎসককে জুতাপেটা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অভিযুক্ত সুবোধ কুমার দাস

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে হাসপাতালের ভেতরেই এক চিকিৎসককে জুতাপেটার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত সুবোধ কুমার দাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শ্লীলতাহানির শিকার ওই শিশু বাসাইল পৌরসভার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি কানে ব্যথা অনুভব করলে শুক্রবার সকালে তার মা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত সুবোধ কুমার দাস ওই শিশুটির কানে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রাথমিক পরীক্ষা করেন। আউটডোরে রোগী দেখাতে হলে টাকা লাগে এমন অজুহাতে একপর্যায়ে শিশুটির মায়ের কাছে পাঁচ টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত সুবোধ। এ সময় ওই শিশুটির মা টাকা খুচরা করতে হাসপাতালের বাইরে যান।

এ সুযোগে শিশুটিকে শ্লীলতাহানি করেন সুবোধ কুমার দাস। মা হাসপাতালে ফিরে এলে শিশুটি তাকে শ্লীলতাহানির কথা জানায়। শিশুটির মা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করলে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যায়। এ সময় বিক্ষুব্দ জনতা অভিযুক্ত সুবোধকে হাসপাতালে ঢুকে জুতাপেটা ও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি দেয়। পরে খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুন নাহার স্বপ্না ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুবোধ কুমার দাস বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় রোগী দেখি। এতে করে যদি কেউ খারাপ কিছু মনে করে তাতে আমার কিছু বলার নাই।’ শিশুটিকে শ্লীলতাহানির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফিরোজুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত ওই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে অন্যত্র বদলি করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্দ জনতা তাকে জুতাপেটা করে ও কিল ঘুষি দেয়।’

ইউএনও শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্দ জনতাকে শান্ত করি। এ সময় অভিযোগকারী কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে হাসপাতালের ভেতরেই চিকিৎসককে জুতাপেটা

আপডেট সময় ১০:২২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে হাসপাতালের ভেতরেই এক চিকিৎসককে জুতাপেটার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত সুবোধ কুমার দাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শ্লীলতাহানির শিকার ওই শিশু বাসাইল পৌরসভার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি কানে ব্যথা অনুভব করলে শুক্রবার সকালে তার মা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত সুবোধ কুমার দাস ওই শিশুটির কানে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রাথমিক পরীক্ষা করেন। আউটডোরে রোগী দেখাতে হলে টাকা লাগে এমন অজুহাতে একপর্যায়ে শিশুটির মায়ের কাছে পাঁচ টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত সুবোধ। এ সময় ওই শিশুটির মা টাকা খুচরা করতে হাসপাতালের বাইরে যান।

এ সুযোগে শিশুটিকে শ্লীলতাহানি করেন সুবোধ কুমার দাস। মা হাসপাতালে ফিরে এলে শিশুটি তাকে শ্লীলতাহানির কথা জানায়। শিশুটির মা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করলে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যায়। এ সময় বিক্ষুব্দ জনতা অভিযুক্ত সুবোধকে হাসপাতালে ঢুকে জুতাপেটা ও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি দেয়। পরে খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুন নাহার স্বপ্না ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুবোধ কুমার দাস বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় রোগী দেখি। এতে করে যদি কেউ খারাপ কিছু মনে করে তাতে আমার কিছু বলার নাই।’ শিশুটিকে শ্লীলতাহানির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফিরোজুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত ওই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে অন্যত্র বদলি করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্দ জনতা তাকে জুতাপেটা করে ও কিল ঘুষি দেয়।’

ইউএনও শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্দ জনতাকে শান্ত করি। এ সময় অভিযোগকারী কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।’