ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ২৩ দেশে এমএলএআর পাঠিয়েছে সরকার:সংসদে অর্থমন্ত্রী তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ভুয়া প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হয়েছে ইরান: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার্চুয়ালি আদালত পরিচালনায় বিচারকাজে সমস্যা হবে না : অ্যাটর্নি জেনারেল শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক রাত পর শিশু সন্তানসহ কারামুক্ত হলেন সেই মহিলা লীগ নেত্রী চলতি বোরো মৌসুমের ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল কিনবে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বাংলাদেশকে জরিমানা করল আইসিসি

জিদানের সেই গুঁতো, অবশেষে নেপথ্য কাহিনী জানালেন মাতেরাজ্জি

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক: 

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জিকে সজোরে মাথা দিয়ে গুঁতো মারেন ফ্রান্স তারকা জিনেদিন জিদান। ফুটবলপ্রেমীদের মানসপটে এ স্মৃতি এখনও সতেজ। ফিফা বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ইতিহাসে অবিস্মরণীয় যে কয়েকটি ঘটনা রয়েছে, নিঃসন্দেহে তন্মধ্যে এটি একটি।

ওই দিন আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ ম্যাচ খেলতে নামেন জিদান। শিরোপা নির্ধারণী খেলার অতিরিক্ত সময়ে মাতেরাজ্জির সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে হঠাৎ ইতালীয় রক্ষণসেনার বুকে প্রবল জোরে ঢু মারেন ফরাসি কিংবদন্তি।

এতে সটান মাটিতে পড়ে যান মাতেরাজ্জি। সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচে লাল কার্ডের কলঙ্ক মাথায় নিয়ে মাঠ ছাড়েন জিদান। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ফাইনালি লড়াইয়ে জেতেন ইতালিয়ানরা। অর্থাৎ সোনালি ট্রফিতে চুমু আঁকেন তারা।

তবে নির্ধারিত সময় শেষে দুই দলের স্কোর ছিল ১-১। গোল দুটিও নিজ নিজ দেশের পক্ষে করেন যথাক্রমে জিদান ও মাতেরাজ্জি। অনেকে বলেন, শেষ অবধি জিদান থাকলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকমও হতে পারতো।

কুখ্যাত সেই ঘটনা নিয়ে অতীতে বহু জল ঘোলা হয়েছে। গুঞ্জন-জল্পনা ডালপালা মেলেছে। প্রথমে চাউর হয়, জিদানের মায়ের সম্পর্কে অবমাননাকর কথা বলেন মাতেরাজ্জি। ফলে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন ফরাসি তারকা।

তবে ২০১৭ সালে খোদ মাতেরাজ্জি এ কথা অস্বীকার করেন। ওই সময় তিনি বলেন, মাত্র ১৫ বছর বয়সে আমি আমার মাকে হারিয়েছি। স্বভাবতই আমি কোনো দিন কারো মাকে অসম্মান করতে পারি না। আমি তার বোন সম্পর্কে বলেছিলাম।

কিন্তু কী বলেছিলেন? অবশেষে ঘটনার ১৪ বছর পর এ নিয়ে মুখ খুললেন মাতেরাজ্জি। জমে থাকা সব রহস্য উন্মোচন করলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সেই মুহূর্তে একেবারেই অপ্রস্তুত ছিলাম আমি। তৈরি থাকলে আমাকেও রেড কার্ড দেখানো হতো, এটা নিশ্চিত।

দ্য ব্লুজ ডিফেন্ডার বলেন, এর আগে মাঠেই আমাদের মধ্যে হালকা বাগবিতণ্ডা হচ্ছিল। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের হয়ে গোল করে জিদান। এর পর আমাদের কোচ (মার্সেলো লিপ্পি) আমাকে বলেন, তাকে মার্ক করতে। প্রথমবার আমাদের মধ্যে ঠোকাঠুকি হয়। সেবার আমি ক্ষমা চাই। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া ভালো ছিল না। সময় যত গড়ায়, তত ট্যাকল, ঝগড়া চলতে থাকে। ১১০ মিনিট পর্যন্ত দুজনের মধ্যে তা অব্যাহত থাকে। এরপরই সেটা চরম মাত্রায় ওঠে।

মাতেরাজ্জি বলেন, তৃতীয় দফায় ধাক্কাধাক্কির পর আমি মুখ ভেংচাই। তখন জিদান আমাকে বলে, খেলা শেষে আমার জার্সিটা তোমাকে দিয়ে দেব। আমি বলি, এতে আমার কোনো আগ্রহ নেই। বরং তোমার বোনকে দিলে নিয়ে নেব।

ব্যস, এ একটি কথাতেই মাথায় আগুন জ্বলে যায় জিদানের। টেলিভিশনের কল্যাণে পরবর্তী ঘটনার সাক্ষী থাকে সারা দুনিয়া। তবে বিশ্বকাপের বেশ কয়েক বছর পর এ ঘটনা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন ফ্রেঞ্চ মহাতারকাও। তিনি বলেন, ২০০৬ বিশ্বকাপে যা হয়েছিল, তা নিয়ে গর্বিত নই আমি। কোনও খেলোয়াড়কে এ আচরণ করতে বলব না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ২৩ দেশে এমএলএআর পাঠিয়েছে সরকার:সংসদে অর্থমন্ত্রী

জিদানের সেই গুঁতো, অবশেষে নেপথ্য কাহিনী জানালেন মাতেরাজ্জি

আপডেট সময় ০৮:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২০

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক: 

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জিকে সজোরে মাথা দিয়ে গুঁতো মারেন ফ্রান্স তারকা জিনেদিন জিদান। ফুটবলপ্রেমীদের মানসপটে এ স্মৃতি এখনও সতেজ। ফিফা বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ইতিহাসে অবিস্মরণীয় যে কয়েকটি ঘটনা রয়েছে, নিঃসন্দেহে তন্মধ্যে এটি একটি।

ওই দিন আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ ম্যাচ খেলতে নামেন জিদান। শিরোপা নির্ধারণী খেলার অতিরিক্ত সময়ে মাতেরাজ্জির সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে হঠাৎ ইতালীয় রক্ষণসেনার বুকে প্রবল জোরে ঢু মারেন ফরাসি কিংবদন্তি।

এতে সটান মাটিতে পড়ে যান মাতেরাজ্জি। সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচে লাল কার্ডের কলঙ্ক মাথায় নিয়ে মাঠ ছাড়েন জিদান। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ফাইনালি লড়াইয়ে জেতেন ইতালিয়ানরা। অর্থাৎ সোনালি ট্রফিতে চুমু আঁকেন তারা।

তবে নির্ধারিত সময় শেষে দুই দলের স্কোর ছিল ১-১। গোল দুটিও নিজ নিজ দেশের পক্ষে করেন যথাক্রমে জিদান ও মাতেরাজ্জি। অনেকে বলেন, শেষ অবধি জিদান থাকলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকমও হতে পারতো।

কুখ্যাত সেই ঘটনা নিয়ে অতীতে বহু জল ঘোলা হয়েছে। গুঞ্জন-জল্পনা ডালপালা মেলেছে। প্রথমে চাউর হয়, জিদানের মায়ের সম্পর্কে অবমাননাকর কথা বলেন মাতেরাজ্জি। ফলে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন ফরাসি তারকা।

তবে ২০১৭ সালে খোদ মাতেরাজ্জি এ কথা অস্বীকার করেন। ওই সময় তিনি বলেন, মাত্র ১৫ বছর বয়সে আমি আমার মাকে হারিয়েছি। স্বভাবতই আমি কোনো দিন কারো মাকে অসম্মান করতে পারি না। আমি তার বোন সম্পর্কে বলেছিলাম।

কিন্তু কী বলেছিলেন? অবশেষে ঘটনার ১৪ বছর পর এ নিয়ে মুখ খুললেন মাতেরাজ্জি। জমে থাকা সব রহস্য উন্মোচন করলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সেই মুহূর্তে একেবারেই অপ্রস্তুত ছিলাম আমি। তৈরি থাকলে আমাকেও রেড কার্ড দেখানো হতো, এটা নিশ্চিত।

দ্য ব্লুজ ডিফেন্ডার বলেন, এর আগে মাঠেই আমাদের মধ্যে হালকা বাগবিতণ্ডা হচ্ছিল। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের হয়ে গোল করে জিদান। এর পর আমাদের কোচ (মার্সেলো লিপ্পি) আমাকে বলেন, তাকে মার্ক করতে। প্রথমবার আমাদের মধ্যে ঠোকাঠুকি হয়। সেবার আমি ক্ষমা চাই। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া ভালো ছিল না। সময় যত গড়ায়, তত ট্যাকল, ঝগড়া চলতে থাকে। ১১০ মিনিট পর্যন্ত দুজনের মধ্যে তা অব্যাহত থাকে। এরপরই সেটা চরম মাত্রায় ওঠে।

মাতেরাজ্জি বলেন, তৃতীয় দফায় ধাক্কাধাক্কির পর আমি মুখ ভেংচাই। তখন জিদান আমাকে বলে, খেলা শেষে আমার জার্সিটা তোমাকে দিয়ে দেব। আমি বলি, এতে আমার কোনো আগ্রহ নেই। বরং তোমার বোনকে দিলে নিয়ে নেব।

ব্যস, এ একটি কথাতেই মাথায় আগুন জ্বলে যায় জিদানের। টেলিভিশনের কল্যাণে পরবর্তী ঘটনার সাক্ষী থাকে সারা দুনিয়া। তবে বিশ্বকাপের বেশ কয়েক বছর পর এ ঘটনা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন ফ্রেঞ্চ মহাতারকাও। তিনি বলেন, ২০০৬ বিশ্বকাপে যা হয়েছিল, তা নিয়ে গর্বিত নই আমি। কোনও খেলোয়াড়কে এ আচরণ করতে বলব না।