ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ হাসনাত আব্দুল্লাহর আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা কৌশলের অজুহাতে বিএনপি কোনো গোপন বেশ ধারণ করেনি: তারেক রহমান

ষোড়শ সংশোধনী পর্যবেক্ষণের কিছু অংশ রিভিউতে বাতিল হতে পারে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারের নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের দ্বৈরথের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু অংশ রিভিউতে নিষ্পত্তি হতে পারে। দেশ-বিদেশে আলোচনা সমালোচনার কথা মাথায় রেখে স্পর্শকাতর এ বিষয়ে আর জল ঘোলা করার পক্ষে না- নির্বাহী ও বিচার বিভাগের কেউই। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে থাকলেও প্রধান বিচারপতিকে এ পরিস্থিতিতে সরিয়ে বাড়তি চাপ নিতে চায় না সরকার। তবে প্রধান বিচারপতি বিব্রত হয়ে নিজে থেকে সরে দাঁড়ালে তাতে আপত্তি করবে না। আপাতত এই কৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারের উচ্চ পর্যায় ও আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো এমন ইঙ্গিত দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতির বিষয়টি নিয়ে সরকারের ওপর মহলে দফায় দফায় আলোচনা-বিশ্লেষণ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকও করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার মনে করছে, এমন অবস্থায় প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হবে। দেশ বিদেশে সরকার সমালোচনার মুখে পড়বে। কারণ, বর্তমানে এটা একটা জাতীয় ইস্যু হয়ে গেছে। সারা বিশ্ব দেখছে। এখন চাপের মুখে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিলে একটা খারাপ নজির হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ সালে বর্তমান প্রধান বিচারপতির মেয়াদ শেষ হবে। তবে বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করানোর চিন্তা থেকে সরে আসলেও; এ রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু অংশকে বাদ দেয়ার দাবিতে এখনো অটল সরকার। আওয়ামী লীগ এখন এসব বিষয়ের এক্সপাঞ্জ (বাতিল) চায়।

আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, সামনে জাতীয় নির্বাচন, সময়টা আমাদের জন্য একটু খারাপ; তাই অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে ব্যাকফুটে গিয়ে। নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্র শুরু হয় নানামুখী। তাই এখানে কৌশল হলো- কিছুটা কঠোর, কিছুটা আপস। নেতারা বলছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারকে বিব্রত করলেও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ আত্মঘাতী হয়ে যেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে নানা হিসাব করে এখন সমঝোতা করে চলার ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২২ আগস্ট প্রধান বিচারপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের সুরও পাল্টেছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে সরিয়ে দেয়ার গুজব- বিএনপি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। তিনি বলেন, এটা স্রেফ গুজব, স্রেফ গুঞ্জন। এসব গুজব বিএনপি ছড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা যেসব মন্তব্য করেছেন, সে ব্যাপারে দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রধান বিচারপতির বিশ্বাস, যারা বিভিন্ন বক্তব্য রাখছেন, তারা রায় ভালোভাবে পড়েননি। প্রধান বিচারপতি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানিয়েছেন, রায়ের কোথাও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা হয়নি, বরং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে। তবে পাকিস্তান প্রসঙ্গে তার বক্তব্য গণমাধ্যমে ঠিকভাবে আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।

সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ব ও এমপিদের নিয়ে রায়ের পর্যবেক্ষণে যা উল্লেখ করা আছে, সরকার যদি রিভিউ করে তাহলে নিশ্চিয়ই আদলত এসব বিবেচনা করবে- এমন আশ্বাসও প্রধান বিচারপতি দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা গহওর রিজভী ও প্রধান বিচারপতির গত বুধবারের বৈঠকের পর নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের সমঝোতার পথ প্রশস্ত হয়েছে। জানা গেছে, ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে চলমান জটিলতা নিরসনে নির্বাহী ও বিচার বিভাগ উভয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি থেকে সরে আসছেন। এখন তারা পর্যবেক্ষণের কিছু অংশের রিভিউ চান।

জানা যায়, এ ইস্যুটি নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে এমন ইঙ্গিত পেয়েছে ক্ষমতাসীনরা। ধীরে ধীরে অন্যান্য মহলও ইস্যুটি পুঁজি করে নানা ‘খেলায়’ মেতে উঠতে পারে। তাই এটি জিইয়ে রেখে ষড়যন্ত্রের খেলা বাড়তে দিতে চায় না। সরকার প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত ও অবস্থান নিয়ে রাখলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত বাস্তবায়নের পথে থমকে দাঁড়িয়েছেন।

আওয়ামী লীগের দু’জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নেতা জানান, সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির হাতে থাকা ক্ষমতা প্রয়োগ প্রধান বিচারপতিকে করে সরিয়ে নেয়া অনেক খানি ‘রিস্কি’ মনে করে- এখনি এ সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না সরকার। তবে ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে সরকার দ্বিতীয়বার চিন্তা করবে না। বর্তমান অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করতে চায় সরকার। সরকারের আরেকটি চিন্তা হচ্ছে- সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে, পরবর্তী প্রধান যিনি হবেন- তিনি কতখানি আস্থাশীল হবেন তা নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। তার চেয়ে সিনহার সঙ্গে আপস করাকেই মঙ্গলজনক মনে করা হচ্ছে। তবে প্রধান বিচারপতির প্রতি সরকার ও আওয়ামী লীগের আস্থা-বিশ্বাস একেবারেই তলানিতে এটাও চরম বাস্তবতা। এ দূরত্ব ঘোঁচানোর কাজও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারা নিয়েছেন।

নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, সরকারের হাতে রয়েছে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ যা বিকল্প অপশন হিসেবে রেখে দেয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে তাদের হাতে আইনগত প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অস্ত্র ৯৭ অনুচ্ছেদ। শেষ অস্ত্র প্রয়োগ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে এ আশঙ্কাও কাজ করছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতির হাতে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরো দুটি রিট নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এ দুটি হলো অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধি ও নির্বাহী বিভাগের হাতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা। যা নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরি বিধি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চায় সরকার। কিন্তু উচ্চ আদালত সেটা তাদের হাতে নিতে চায়। অন্যদিকে নির্বাহী বিভাগের হাতের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান উচ্চ আদালত। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের হাতে রাখতে চায় সরকার। ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারের বিপক্ষে গেলেও এ দুটি রিট যাতে সরকারের পক্ষে থাকে তার জন্যও সমঝোতা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ নয়, শপথ ভঙ্গের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আমরা তো পদত্যাগের দাবি করিনিই। আমরা তো বলি নাই পদত্যাগ করতে হবে। আমরা পর্যবেক্ষণের কথা বলেছি। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে প্রধান বিচারপতি এমপিদের নিয়ে যে কটাক্ষ করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যে ঝড় তুলেছেন, তাতে সংবিধানের মীমাংসিত বিষয়ে, তার শপথ ভঙ্গ হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি ও তাদের একটি চক্র বিচার বিভাগকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন, হেফাজতসহ বিভিন্নভাবে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি আদালতের মাধ্যমে সরকারকে কাবু করার চেষ্টা করেছে। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ নিয়ে যেখানে দেশের জনগণ সমালোচনা করছে, সেখানে বিএনপি এবং দেশের কিছু কুশীলবরা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমানের পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী

ষোড়শ সংশোধনী পর্যবেক্ষণের কিছু অংশ রিভিউতে বাতিল হতে পারে

আপডেট সময় ০১:১২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারের নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের দ্বৈরথের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু অংশ রিভিউতে নিষ্পত্তি হতে পারে। দেশ-বিদেশে আলোচনা সমালোচনার কথা মাথায় রেখে স্পর্শকাতর এ বিষয়ে আর জল ঘোলা করার পক্ষে না- নির্বাহী ও বিচার বিভাগের কেউই। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে থাকলেও প্রধান বিচারপতিকে এ পরিস্থিতিতে সরিয়ে বাড়তি চাপ নিতে চায় না সরকার। তবে প্রধান বিচারপতি বিব্রত হয়ে নিজে থেকে সরে দাঁড়ালে তাতে আপত্তি করবে না। আপাতত এই কৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারের উচ্চ পর্যায় ও আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো এমন ইঙ্গিত দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতির বিষয়টি নিয়ে সরকারের ওপর মহলে দফায় দফায় আলোচনা-বিশ্লেষণ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকও করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার মনে করছে, এমন অবস্থায় প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হবে। দেশ বিদেশে সরকার সমালোচনার মুখে পড়বে। কারণ, বর্তমানে এটা একটা জাতীয় ইস্যু হয়ে গেছে। সারা বিশ্ব দেখছে। এখন চাপের মুখে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিলে একটা খারাপ নজির হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ সালে বর্তমান প্রধান বিচারপতির মেয়াদ শেষ হবে। তবে বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করানোর চিন্তা থেকে সরে আসলেও; এ রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু অংশকে বাদ দেয়ার দাবিতে এখনো অটল সরকার। আওয়ামী লীগ এখন এসব বিষয়ের এক্সপাঞ্জ (বাতিল) চায়।

আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, সামনে জাতীয় নির্বাচন, সময়টা আমাদের জন্য একটু খারাপ; তাই অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে ব্যাকফুটে গিয়ে। নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্র শুরু হয় নানামুখী। তাই এখানে কৌশল হলো- কিছুটা কঠোর, কিছুটা আপস। নেতারা বলছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারকে বিব্রত করলেও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ আত্মঘাতী হয়ে যেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে নানা হিসাব করে এখন সমঝোতা করে চলার ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২২ আগস্ট প্রধান বিচারপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের সুরও পাল্টেছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে সরিয়ে দেয়ার গুজব- বিএনপি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। তিনি বলেন, এটা স্রেফ গুজব, স্রেফ গুঞ্জন। এসব গুজব বিএনপি ছড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা যেসব মন্তব্য করেছেন, সে ব্যাপারে দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রধান বিচারপতির বিশ্বাস, যারা বিভিন্ন বক্তব্য রাখছেন, তারা রায় ভালোভাবে পড়েননি। প্রধান বিচারপতি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানিয়েছেন, রায়ের কোথাও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা হয়নি, বরং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে। তবে পাকিস্তান প্রসঙ্গে তার বক্তব্য গণমাধ্যমে ঠিকভাবে আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।

সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ব ও এমপিদের নিয়ে রায়ের পর্যবেক্ষণে যা উল্লেখ করা আছে, সরকার যদি রিভিউ করে তাহলে নিশ্চিয়ই আদলত এসব বিবেচনা করবে- এমন আশ্বাসও প্রধান বিচারপতি দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা গহওর রিজভী ও প্রধান বিচারপতির গত বুধবারের বৈঠকের পর নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের সমঝোতার পথ প্রশস্ত হয়েছে। জানা গেছে, ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে চলমান জটিলতা নিরসনে নির্বাহী ও বিচার বিভাগ উভয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি থেকে সরে আসছেন। এখন তারা পর্যবেক্ষণের কিছু অংশের রিভিউ চান।

জানা যায়, এ ইস্যুটি নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে এমন ইঙ্গিত পেয়েছে ক্ষমতাসীনরা। ধীরে ধীরে অন্যান্য মহলও ইস্যুটি পুঁজি করে নানা ‘খেলায়’ মেতে উঠতে পারে। তাই এটি জিইয়ে রেখে ষড়যন্ত্রের খেলা বাড়তে দিতে চায় না। সরকার প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত ও অবস্থান নিয়ে রাখলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত বাস্তবায়নের পথে থমকে দাঁড়িয়েছেন।

আওয়ামী লীগের দু’জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নেতা জানান, সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির হাতে থাকা ক্ষমতা প্রয়োগ প্রধান বিচারপতিকে করে সরিয়ে নেয়া অনেক খানি ‘রিস্কি’ মনে করে- এখনি এ সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না সরকার। তবে ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে সরকার দ্বিতীয়বার চিন্তা করবে না। বর্তমান অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করতে চায় সরকার। সরকারের আরেকটি চিন্তা হচ্ছে- সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে, পরবর্তী প্রধান যিনি হবেন- তিনি কতখানি আস্থাশীল হবেন তা নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। তার চেয়ে সিনহার সঙ্গে আপস করাকেই মঙ্গলজনক মনে করা হচ্ছে। তবে প্রধান বিচারপতির প্রতি সরকার ও আওয়ামী লীগের আস্থা-বিশ্বাস একেবারেই তলানিতে এটাও চরম বাস্তবতা। এ দূরত্ব ঘোঁচানোর কাজও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারা নিয়েছেন।

নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, সরকারের হাতে রয়েছে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ যা বিকল্প অপশন হিসেবে রেখে দেয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে তাদের হাতে আইনগত প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অস্ত্র ৯৭ অনুচ্ছেদ। শেষ অস্ত্র প্রয়োগ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে এ আশঙ্কাও কাজ করছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতির হাতে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরো দুটি রিট নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এ দুটি হলো অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধি ও নির্বাহী বিভাগের হাতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা। যা নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরি বিধি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চায় সরকার। কিন্তু উচ্চ আদালত সেটা তাদের হাতে নিতে চায়। অন্যদিকে নির্বাহী বিভাগের হাতের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান উচ্চ আদালত। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের হাতে রাখতে চায় সরকার। ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারের বিপক্ষে গেলেও এ দুটি রিট যাতে সরকারের পক্ষে থাকে তার জন্যও সমঝোতা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ নয়, শপথ ভঙ্গের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আমরা তো পদত্যাগের দাবি করিনিই। আমরা তো বলি নাই পদত্যাগ করতে হবে। আমরা পর্যবেক্ষণের কথা বলেছি। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে প্রধান বিচারপতি এমপিদের নিয়ে যে কটাক্ষ করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যে ঝড় তুলেছেন, তাতে সংবিধানের মীমাংসিত বিষয়ে, তার শপথ ভঙ্গ হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি ও তাদের একটি চক্র বিচার বিভাগকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন, হেফাজতসহ বিভিন্নভাবে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি আদালতের মাধ্যমে সরকারকে কাবু করার চেষ্টা করেছে। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ নিয়ে যেখানে দেশের জনগণ সমালোচনা করছে, সেখানে বিএনপি এবং দেশের কিছু কুশীলবরা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন।