ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ভেঙে না পড়াই বড় ওষুধ: করোনাযুদ্ধে জয়ী এক চিকিৎসক

করোনাযুদ্ধে জয়ী চিকিৎসক আবদুল বাসেত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘ভেবেছিলাম, এই বুঝি জীবন শেষ। কিন্তু তারপরও মনোবল শক্ত রেখেছি। ভরসা রেখেছি নিজের ও সৃষ্টিকর্তার ওপর। ভেঙে না পড়াই বড় ওষুধ। এতে করোনা জয় অবশ্যই সম্ভব। কোনো অসুখকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়।’

এটা করোনাযুদ্ধে জয়ী এক চিকিৎসকের কথা। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোহাম্মদ আবদুল বাসেত। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পেয়ে শুক্রবার তিনি ঘরে ফিরেছেন। এখন ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে আছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৮ এপ্রিল আবদুল বাসেতের শরীর থেকে তৃতীয়বার নমুনা সংগ্রহ করে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফলাফল নেগেটিভ আসে। ২২ এপ্রিল তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হলে তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে যান।

আবদুল বাসেত বলেন, তিনি ধারণা করছেন, কোনো প্রবাসী কিংবা ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জফেরত ব্যক্তি কিংবা তাঁদের পরিবারের কারও সংস্পর্শে এসে তাঁর শরীরে করোনা ছড়িয়েছে। দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার অন্তত এক মাস আগ থেকে তিনি কর্মস্থলের বাইরে কোথাও যাননি।

চিকিৎসক বাসেত বলেন, ‘এপ্রিলের ১৫ তারিখ আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফ্লু কর্নারে জ্বর-সর্দিতে ভোগা রোগী এসেছিলেন। যাঁদের কারও কারও আপনজন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জফেরত। সেদিন রাতেই আমার খারাপ লাগা শুরু হয়। ১৬ এপ্রিল হাসপাতালে যেতে পারিনি। ১৭ এপ্রিল আমি নিজেই জ্বরে আক্রান্ত হই। ২১ এপ্রিল টেস্টের জন্য নমুনা দিলাম। ২২ তারিখ ফলাফল এল পজিটিভ।’

বাসেত বলেন, ‘আমি ভেঙে পড়িনি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সবাই সাহস দিয়েছেন। নিজের ওপর ভরসা রেখেছি।’ তিনি বলেন, জ্বর আসার পর থেকে ওষুধ খাওয়া শুরু করে দেন বাসেত। কোভিড-১৯ ধরা পড়ার পর আইসোলেশনে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসায় আস্তে আস্তে কমে যায়। তিনি বলেন, ‘ওষুধের পাশাপাশি গরম পানি পান করতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া করতে হবে। প্রচুর ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে হবে।

২৯ বছর বয়সী এই চিকিৎসক বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারকে মানসিক সাহস জোগাতে হবে। করোনার অনেক স্তর আছে। যাঁদের উপসর্গ কম, তাঁরা বাসায় বসেও চিকিৎসা নিতে পারবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ভেঙে না পড়াই বড় ওষুধ: করোনাযুদ্ধে জয়ী এক চিকিৎসক

আপডেট সময় ০১:১৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘ভেবেছিলাম, এই বুঝি জীবন শেষ। কিন্তু তারপরও মনোবল শক্ত রেখেছি। ভরসা রেখেছি নিজের ও সৃষ্টিকর্তার ওপর। ভেঙে না পড়াই বড় ওষুধ। এতে করোনা জয় অবশ্যই সম্ভব। কোনো অসুখকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়।’

এটা করোনাযুদ্ধে জয়ী এক চিকিৎসকের কথা। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোহাম্মদ আবদুল বাসেত। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পেয়ে শুক্রবার তিনি ঘরে ফিরেছেন। এখন ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে আছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৮ এপ্রিল আবদুল বাসেতের শরীর থেকে তৃতীয়বার নমুনা সংগ্রহ করে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফলাফল নেগেটিভ আসে। ২২ এপ্রিল তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হলে তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে যান।

আবদুল বাসেত বলেন, তিনি ধারণা করছেন, কোনো প্রবাসী কিংবা ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জফেরত ব্যক্তি কিংবা তাঁদের পরিবারের কারও সংস্পর্শে এসে তাঁর শরীরে করোনা ছড়িয়েছে। দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার অন্তত এক মাস আগ থেকে তিনি কর্মস্থলের বাইরে কোথাও যাননি।

চিকিৎসক বাসেত বলেন, ‘এপ্রিলের ১৫ তারিখ আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফ্লু কর্নারে জ্বর-সর্দিতে ভোগা রোগী এসেছিলেন। যাঁদের কারও কারও আপনজন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জফেরত। সেদিন রাতেই আমার খারাপ লাগা শুরু হয়। ১৬ এপ্রিল হাসপাতালে যেতে পারিনি। ১৭ এপ্রিল আমি নিজেই জ্বরে আক্রান্ত হই। ২১ এপ্রিল টেস্টের জন্য নমুনা দিলাম। ২২ তারিখ ফলাফল এল পজিটিভ।’

বাসেত বলেন, ‘আমি ভেঙে পড়িনি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সবাই সাহস দিয়েছেন। নিজের ওপর ভরসা রেখেছি।’ তিনি বলেন, জ্বর আসার পর থেকে ওষুধ খাওয়া শুরু করে দেন বাসেত। কোভিড-১৯ ধরা পড়ার পর আইসোলেশনে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসায় আস্তে আস্তে কমে যায়। তিনি বলেন, ‘ওষুধের পাশাপাশি গরম পানি পান করতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া করতে হবে। প্রচুর ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে হবে।

২৯ বছর বয়সী এই চিকিৎসক বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারকে মানসিক সাহস জোগাতে হবে। করোনার অনেক স্তর আছে। যাঁদের উপসর্গ কম, তাঁরা বাসায় বসেও চিকিৎসা নিতে পারবেন।