ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাইবান্ধায় বজ্রপাতে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কার্যক্রম চলছে : সেতুমন্ত্রী সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়নি একনেক আত্মঘাতী হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত এসি রুমে বসে জনগণের সমস্যা বোঝা যায় না: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে সংসদে বিল পাস বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে পাওয়া গেল শিক্ষকের নাম গত ৩ বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে: বিজিএমইএ পুলিশসহ জরুরি সেবায় জ্বালানি রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনার আড়ালে ঢাকাকে কী বার্তা দিল দিল্লি

মাকে নিয়ে আসিফ নজরুলের আবেগঘন স্ট্যাটাস

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের মায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গত ১ মে। ওই দিন মাকে নিয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তিনি।

স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো–

‘আমাদের ছিল অভাবের সংসার। অভাবী সংসারে কিছু কঠিন নিয়ম থাকে। আমাদেরও ছিল। যেমন- অতিরিক্ত মেধাবী হওয়ার কারণে ডিম পুরোটা পেত শুধু আমাদের বড় ভাই। আমাদের বাকি ভাইবোনের জন্য ডিম রান্না করা হতো ফেটে তরকারির মতো করে। কর্ন স্যুপের মতো। দেখতে লাল রঙের সেই তরকারি খুব প্রিয় ছিল আমাদের।

দুধের বেলায় নিয়ম ছিল আরও কড়া। দুধ পেত শুধু অসুস্থরা। অসুস্থ মানে মা আর আমার সবচেয়ে ছোট বোন।

ছোট বাসা। গোপন বলে কিছু থাকে না। প্রায়ই শুনতাম আম্মার সঙ্গে আব্বার রাগারাগি। যে দুধ বরাদ্দ থাকত তার জন্য, তা তিনি দিয়ে দিতেন পাড়ার এক হতদরিদ্র মহিলাকে।

আমার মায়ের আরও নানা বৈশিষ্ট্য ছিল। যেমন- কারও উপার্জন নিয়ে সন্দেহ থাকলে তিনি তার থেকে কিছু খেতেন না। অসুখ-বিসুখে আমার এক মামাতো ভাই ফলমূল নিয়ে এলে তিনি তা কখনও স্পর্শ করতেন না।

আমার সেই মায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। পৃথিবীতে সবার মা সেরা। আমার মা-ও। পৃথিবীতে সব সন্তান অপদার্থ, আমি আরও বেশি। আজ ভোরে যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এসেছিল, মনে হলো– শেষ দিনগুলোতেও মায়ের কাছে অল্প সময় থেকে চলে আসতাম। তিনি বলতেন- বাবারে আর তো পাবি না বেশি দিন।

মনে পড়ে আমার মায়ের রগ বের হওয়া শীর্ণ হাত, ঘষাকাচের কালো চশমা, সামনে ধরা পত্রিকা পড়ছেন খুটিয়ে খুটিয়ে। কিংবা চিরতরে চলে যাওয়ার পর তার চুপসে যাওয়া দেহ, আর সেই স্মিতহাস্য মুখ।

যাদের মা আছে, দিনরাত লেপ্টে থাকেন। প্রাণ ভরে সেবা করেন। মা চলে যাওয়ার পর তীব্র দুঃখ কিছুটা হয়তো কমবে তাতে। আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের কারণে বোলিং করা কঠিন হয়ে পড়েছে’

মাকে নিয়ে আসিফ নজরুলের আবেগঘন স্ট্যাটাস

আপডেট সময় ০১:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের মায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গত ১ মে। ওই দিন মাকে নিয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তিনি।

স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো–

‘আমাদের ছিল অভাবের সংসার। অভাবী সংসারে কিছু কঠিন নিয়ম থাকে। আমাদেরও ছিল। যেমন- অতিরিক্ত মেধাবী হওয়ার কারণে ডিম পুরোটা পেত শুধু আমাদের বড় ভাই। আমাদের বাকি ভাইবোনের জন্য ডিম রান্না করা হতো ফেটে তরকারির মতো করে। কর্ন স্যুপের মতো। দেখতে লাল রঙের সেই তরকারি খুব প্রিয় ছিল আমাদের।

দুধের বেলায় নিয়ম ছিল আরও কড়া। দুধ পেত শুধু অসুস্থরা। অসুস্থ মানে মা আর আমার সবচেয়ে ছোট বোন।

ছোট বাসা। গোপন বলে কিছু থাকে না। প্রায়ই শুনতাম আম্মার সঙ্গে আব্বার রাগারাগি। যে দুধ বরাদ্দ থাকত তার জন্য, তা তিনি দিয়ে দিতেন পাড়ার এক হতদরিদ্র মহিলাকে।

আমার মায়ের আরও নানা বৈশিষ্ট্য ছিল। যেমন- কারও উপার্জন নিয়ে সন্দেহ থাকলে তিনি তার থেকে কিছু খেতেন না। অসুখ-বিসুখে আমার এক মামাতো ভাই ফলমূল নিয়ে এলে তিনি তা কখনও স্পর্শ করতেন না।

আমার সেই মায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। পৃথিবীতে সবার মা সেরা। আমার মা-ও। পৃথিবীতে সব সন্তান অপদার্থ, আমি আরও বেশি। আজ ভোরে যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এসেছিল, মনে হলো– শেষ দিনগুলোতেও মায়ের কাছে অল্প সময় থেকে চলে আসতাম। তিনি বলতেন- বাবারে আর তো পাবি না বেশি দিন।

মনে পড়ে আমার মায়ের রগ বের হওয়া শীর্ণ হাত, ঘষাকাচের কালো চশমা, সামনে ধরা পত্রিকা পড়ছেন খুটিয়ে খুটিয়ে। কিংবা চিরতরে চলে যাওয়ার পর তার চুপসে যাওয়া দেহ, আর সেই স্মিতহাস্য মুখ।

যাদের মা আছে, দিনরাত লেপ্টে থাকেন। প্রাণ ভরে সেবা করেন। মা চলে যাওয়ার পর তীব্র দুঃখ কিছুটা হয়তো কমবে তাতে। আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।’