ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঋণখেলাপি বলে জাতির কাছে ছোট করা হয়েছে: সংসদে এমপি সারোয়ার ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড পাবে দেড় কোটির বেশি পরিবার উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি জুলাই শহীদদের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে: আমানউল্লাহ আমান ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হবে, আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর ‘আমি কে তুমি কে, ফার্মের মুরগি ফার্মের মুরগি’ জানুয়ারিতে এসএসসি ও জুনে এইচএসসি পরীক্ষা বন্যায় ৫৪ জনের বেশিরভাগেরই মৃত্যুর কারণ পাহাড় ধস : দুর্যোগমন্ত্রী বন্যার বিষয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে সরকার : রিজভী

‘চিরকালই হরমুজ প্রণালির রক্ষক থাকবে ইরান’

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিপরীতে ফি আদায়ের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরান সব সময়ই হরমুজ প্রণালির মূল ‘প্রহরী’ ছিল এবং ভবিষ্যতেও চিরকাল তা-ই থাকবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত ইরান দীর্ঘদিন ধরেই নিশ্চিত করে আসছে। ফলে এই সুরক্ষার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ বা মাশুল আদায় করতে হলে তা ন্যায্য হওয়া উচিত।

ট্রাম্পের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে খোঁচা দিয়ে আরাগচি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একেবারেই ঠিক কথা বলেছেন যে যারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করবে, তাদের এই সেবার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। আর ইরান চিরকালই এই প্রণালির রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি-কে অতিরিক্ত আখ্যা দিয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেহরান এই মাশুল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যায্য আচরণ করবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এলো। সম্প্রতি ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ঘোষণা করেন যে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর আবারও নৌ-অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে।

একই সাথে তিনি দাবি করেন, কৌশলগত এই জলপথে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যয়ভার মেটাতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী সমস্ত কার্গো জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ ফি আদায় করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, এই প্রণালি উন্মুক্তই থাকবে এবং এই প্রস্তাবিত ফি মূলত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার খরচ হিসেবে নেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই দাবির জবাবেই ইরান পাল্টা সুর চড়িয়ে প্রণালীটির ওপর নিজেদের চিরন্তন কর্তৃত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

‘চিরকালই হরমুজ প্রণালির রক্ষক থাকবে ইরান’

আপডেট সময় ০৩:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিপরীতে ফি আদায়ের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরান সব সময়ই হরমুজ প্রণালির মূল ‘প্রহরী’ ছিল এবং ভবিষ্যতেও চিরকাল তা-ই থাকবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত ইরান দীর্ঘদিন ধরেই নিশ্চিত করে আসছে। ফলে এই সুরক্ষার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ বা মাশুল আদায় করতে হলে তা ন্যায্য হওয়া উচিত।

ট্রাম্পের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে খোঁচা দিয়ে আরাগচি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একেবারেই ঠিক কথা বলেছেন যে যারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করবে, তাদের এই সেবার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। আর ইরান চিরকালই এই প্রণালির রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি-কে অতিরিক্ত আখ্যা দিয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেহরান এই মাশুল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যায্য আচরণ করবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এলো। সম্প্রতি ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ঘোষণা করেন যে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর আবারও নৌ-অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে।

একই সাথে তিনি দাবি করেন, কৌশলগত এই জলপথে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যয়ভার মেটাতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী সমস্ত কার্গো জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ ফি আদায় করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, এই প্রণালি উন্মুক্তই থাকবে এবং এই প্রস্তাবিত ফি মূলত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার খরচ হিসেবে নেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই দাবির জবাবেই ইরান পাল্টা সুর চড়িয়ে প্রণালীটির ওপর নিজেদের চিরন্তন কর্তৃত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করল।