ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন দল হিসেবে অপরাধের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর যাচাই-বাছাই করে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী জোর করে নয়, জনগণের ম্যান্ডেটে ক্ষমতায় এসেছে সরকার: রিজভী বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের মা বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১১ জুতা চুরি নিয়ে সংঘর্ষ, জবিতে সাংবাদিকসহ আহত ১৩ বংশালে স্ত্রীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্বামীর মৃত্যু

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে জয়ী’ নিউজিল্যান্ড

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

নিউজিল্যান্ডে গত কয়েকদিন ধরে নতুন শনাক্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক অঙ্কে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডেন বলেন, এখনকার মতো করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে জয়ী হয়েছে’ নিউজিল্যান্ড।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানায়।

নিউজিল্যান্ড দাবি করে, তারা করোনা ভাইরাসের গণসংক্রমণ রোধ করতে সক্ষম হয়েছে। এরপরই কঠোরতম লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে জরুরি নয় এমন ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা কার্যক্রম আবারও চালু হবে। তবে প্রসন্নতা অনুভবের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। কেননা এ সময়েও জনগণকে বাড়িতে অবস্থান করতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

করোনা ভাইরাস বিষয়ক সরকারের দৈনিক ব্রিফিংয়ে জেসিন্দা বলেন, ‘আমরা অর্থনীতি সচল করছি কিন্তু সামাজিক জীবনযাপন চালু হতে যাচ্ছে না।’

দেশটিতে এখন পর্যন্ত দেড় হাজার কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ১৯ জন। রোগটি প্রতিরোধে সবচেয়ে সফল দেশগুলোর একটি হলো নিউজিল্যান্ড।

জেসিন্দা সতর্ক করে বলেন, ভাইরাসটি দূর হয়েছে ঘোষণা করার অর্থ এ নয় যে, নতুন কোনো রোগী পাওয়া যাবে না। কিন্তু নতুন রোগীর সংখ্যা হবে কম এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে অশনাক্ত গণসংক্রমণ নেই। আমরা এ যুদ্ধে জয়ী হয়েছি। কিন্তু এটি বজায় রাখতে হলে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

করোনা ভাইরাস মহামারির শুরু থেকেই ভ্রমণ এবং সামাজিক কার্যক্রমে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। তখন মাত্র কয়েক ডজন রোগী শনাক্ত হয়েছিল সেখানে।

তখনই সীমান্ত বন্ধ করে দেয় দেশটি এবং বিদেশফেরত সবাইকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠায়। গণহারে পরীক্ষা করতে শুরু করে তারা এবং শনাক্ত রোগীরা যাদের সংক্রমণে এসেছেন, তাদের খুঁজে বের করে।

জেসিন্দা জানান, শুরুতেই লকডাউন না করলে নিউজিল্যান্ডে দৈনিক এক হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সবার সংঘবদ্ধ কার্যক্রমের মাধ্যমে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তারা। সেটি না করলে পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতো তা আর জানা হবে না দেশটির, মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার মধ্যরাতে লকডাউনের সর্বোচ্চ সতর্কতা লেভেল চার থেকে তিনে নামবে নিউজল্যান্ড। ফলে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফের চালু হবে। রেস্তোরাঁ খুলবে তবে খাবার নিয়ে বাড়িতে বা অফিসে খেতে হবে।

কাছের বন্ধু বা পরিবারের অল্প মানুষের সঙ্গেই সামাজিকভাবে দেখা করার সুযোগ থাকছে এবং একে অপরের কাছ থেকে দুই মিটার বা ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

জনসমাবেশ বন্ধ থাকবে। স্কুল এবং শপিং সেন্টার এখনই খুলবে না। সেই সঙ্গে দেশটির সীমান্তও বন্ধ থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে জয়ী’ নিউজিল্যান্ড

আপডেট সময় ১২:২৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

নিউজিল্যান্ডে গত কয়েকদিন ধরে নতুন শনাক্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক অঙ্কে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডেন বলেন, এখনকার মতো করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে জয়ী হয়েছে’ নিউজিল্যান্ড।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানায়।

নিউজিল্যান্ড দাবি করে, তারা করোনা ভাইরাসের গণসংক্রমণ রোধ করতে সক্ষম হয়েছে। এরপরই কঠোরতম লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে জরুরি নয় এমন ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা কার্যক্রম আবারও চালু হবে। তবে প্রসন্নতা অনুভবের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। কেননা এ সময়েও জনগণকে বাড়িতে অবস্থান করতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

করোনা ভাইরাস বিষয়ক সরকারের দৈনিক ব্রিফিংয়ে জেসিন্দা বলেন, ‘আমরা অর্থনীতি সচল করছি কিন্তু সামাজিক জীবনযাপন চালু হতে যাচ্ছে না।’

দেশটিতে এখন পর্যন্ত দেড় হাজার কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ১৯ জন। রোগটি প্রতিরোধে সবচেয়ে সফল দেশগুলোর একটি হলো নিউজিল্যান্ড।

জেসিন্দা সতর্ক করে বলেন, ভাইরাসটি দূর হয়েছে ঘোষণা করার অর্থ এ নয় যে, নতুন কোনো রোগী পাওয়া যাবে না। কিন্তু নতুন রোগীর সংখ্যা হবে কম এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে অশনাক্ত গণসংক্রমণ নেই। আমরা এ যুদ্ধে জয়ী হয়েছি। কিন্তু এটি বজায় রাখতে হলে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

করোনা ভাইরাস মহামারির শুরু থেকেই ভ্রমণ এবং সামাজিক কার্যক্রমে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। তখন মাত্র কয়েক ডজন রোগী শনাক্ত হয়েছিল সেখানে।

তখনই সীমান্ত বন্ধ করে দেয় দেশটি এবং বিদেশফেরত সবাইকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠায়। গণহারে পরীক্ষা করতে শুরু করে তারা এবং শনাক্ত রোগীরা যাদের সংক্রমণে এসেছেন, তাদের খুঁজে বের করে।

জেসিন্দা জানান, শুরুতেই লকডাউন না করলে নিউজিল্যান্ডে দৈনিক এক হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সবার সংঘবদ্ধ কার্যক্রমের মাধ্যমে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তারা। সেটি না করলে পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতো তা আর জানা হবে না দেশটির, মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার মধ্যরাতে লকডাউনের সর্বোচ্চ সতর্কতা লেভেল চার থেকে তিনে নামবে নিউজল্যান্ড। ফলে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফের চালু হবে। রেস্তোরাঁ খুলবে তবে খাবার নিয়ে বাড়িতে বা অফিসে খেতে হবে।

কাছের বন্ধু বা পরিবারের অল্প মানুষের সঙ্গেই সামাজিকভাবে দেখা করার সুযোগ থাকছে এবং একে অপরের কাছ থেকে দুই মিটার বা ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

জনসমাবেশ বন্ধ থাকবে। স্কুল এবং শপিং সেন্টার এখনই খুলবে না। সেই সঙ্গে দেশটির সীমান্তও বন্ধ থাকবে।