আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি উৎরাতে পাকিস্তান-ভারত একসঙ্গে কাজ করুক এমনটি চাওয়া পিন্ডি এক্সপ্রেস শোয়েব আখতারের। এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফান্ড সংগ্রহের জন্য ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব রেখেছিলেন তিনি।
তবে শোয়েবের সেই প্রস্তাব সরাসরি উড়িয়ে দেন ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব। সেই রেশ না কাটতেই প্রস্তাবিত পাক-ভারত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে শোয়েবকে সমর্থন দিয়ে বসেন তার একসময়ের সতীর্থ শহীদ আফ্রিদি। একই সঙ্গে শোয়েবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কপিলকে একহাত নিলেন তিনি।
অর্থাৎ শোয়েব-কপিল দ্বৈরথে এবার অবতীর্ণ হলেন আফ্রিদি। বুমবুমখ্যাত ক্রিকেটার বলেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে করোনা। এখন নেতিবাচক চিন্তা দূরে রাখা উচিত। প্রাণঘাতী এ রোগ মোকাবেলায় দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় সিরিজের প্রস্তাব দিয়েছে শোয়েব। তাতে খারাপ কিছু নেই। বরং পরিপ্রেক্ষিতে কপিলজির প্রতিক্রিয়া আমাকে অবাক করেছে। এ সংকটকালে ভারতীয় কিংবদন্তির নেতিবাচক মন্তব্য একেবারেই কাম্য নয়।
ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার থেকে শুরু করে দেশবাসীর চিকিৎসার জন্য অর্থের জোগান দিতে লাখ লাখ টাকা সাহায্য করছেন বিশ্বের তাবৎ সেলিব্রেটিরা। তদুপরি দেশকে পুরোপুরি করোনামুক্ত করতে আরও অনেক বেশি সহায়তার প্রয়োজন।
ভারতের মতো করোনা হানায় ধুঁকছে পাকিস্তানও। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দুই দেশকে ক্রিকেট দিয়ে প্রাণঘাতী ভাইরাস মোকাবেলায় প্রস্তাব দেন শোয়েব। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অর্থ সংগ্রহে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। ক্রিকেট মাঠে ইন্দো-পাক দ্বৈরথের জনপ্রিয়তাকে মাথায় রেখেই দ্বিপক্ষীয় ওডিআই সিরিজের প্রস্তাব দেন রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস। চ্যারিটি এসব ম্যাচ থেকে পাওয়া অর্থ দুই পড়শীর করোনা যুদ্ধে ব্যয় করার প্রস্তাব রাখেন তিনি।
শোয়েবের পাল্টা জবাব দেন কপিল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, শোয়েবের নিজস্ব মতামত থাকতেই পারে। তবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভারতকে ম্যাচ খেলে অর্থ জোগাড় করতে হবে-এমন দুর্দশা আসেনি। করুন আবহে ভারতীয় ক্রিকেটারদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ম্যাচ খেলার জন্য ২২ গজে ঠেলে দেয়া হবে না। অর্থ সহায়তা দরকার হলে বিসিসিআই দেশের সংকটে তা দেয়ার মতো ক্ষমতা রাখে।
২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। এ সময়ে কেবল ২০১২ সালে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হয় চিরশত্রু দু’দেশ।
এর পর দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট মহারণ বন্ধ রয়েছে। ২০১৯ সালে কাশ্মীরে তথাকথিত জঙ্গি আক্রমণের পর পাক-ভারত সম্পর্কে আরও চিড় ধরে। ফলে এখন শুধু আইসিসি টুর্নামেন্ট ও এশিয়া কাপে মুখোমুখি হতে দেখা যায় ভারত-পাকিস্তানকে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















