ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫, আহত ১১ হাজার: এইচআরএসএসের প্রতিবেদন ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দেবে জামায়াত: মিন্টু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে মাঠ পর্যায় পরিদর্শনে নৌবাহিনী প্রধান জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক আমরা বসন্তের কোকিল নই, জুলুম-নির্যাতনের পরও দেশ ছাড়িনি: শফিকুর রহমান ‘শুধু একদিন আমার হাঁসটাকে পাহারা দেন, নির্বাচিত হলে ৫ বছর আপনাদেরকে পাহারা দেব’:রুমিন ফারহানা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ রুখতে ছাত্র-জনতাকে রাজপথে থাকতে হবে: মামুনুল হক সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য জনমুখী নীতিমালার আহ্বান বাংলাদেশের অনলাইন গেমে আসক্তি, নবম তলা থেকে লাফিয়ে তিন বোনের আত্মহত্যা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন যুবলীগ নেতা

ইমরান খানের ইরান সফর সামনে রেখে দুই দেশের টানাপোড়েন চরমে

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলে বাস থেকে নামিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেছেন প্রতিবেশী ইরানভিত্তিক বেলুচ বিদ্রোহীরা। শনিবার পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরাইশি এমন দাবিই করলেন।

এতে রোববার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তেহরান সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।-খবর রয়টার্সের

গত কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। দুই দেশের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদ্রোহীদের দমনে তারা যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সীমান্তেই এসব বিদ্রোহীরা আশ্রয় নিয়ে হামলা চালাচ্ছেন।

বিভিন্ন বিদ্রোহী সংগঠনের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা নতুন একটি গোষ্ঠী বৃহস্পতিবারের ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরান সীমান্তে পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে এই গ্রুপটি সক্রিয় রয়েছে।

সেদিন চারটি বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে প্রথমে তাদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করেন বিদ্রোহীরা। তাদের কয়েকজনকে আলাদা করে দাঁড়াতে বলেন। পরে তাদের অপহরণ ও হত্যা করা হয়েছে।

বেলুচ রাজি আজই সানগার(বিআরএএস) নামের একটি গ্রুপ দাবি করেছে, বাস ভ্রমণরত পাকিস্তানের নৌ ও কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন তারা।

শাহ মোহাম্মদ কুরাইশি বলেন, এই হামলার ঘটনায় তার দেশ ক্ষুব্ধ। কাজেই বিআরএএস বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের কুরাইশি বলেন, নতুন এই গোষ্ঠীটির প্রশিক্ষণ ও রসদ শিবির সীমান্তে ইরানের ভেতরেই। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের কাছে নিজ দেশের ক্ষোভের কথা তিনি জানিয়েছেন।

তবে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ নিয়ে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইরনার খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাকিস্তানি সরকার ও জনগণের প্রতি এ ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে রোববার দুই দিনের সফরে ইরান যাবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এর আগে গত মধ্য-ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ওপর এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৭ জওয়ান নিহত হন। এরপর থেকে গত কয়েক মাস প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, পাকিস্তানের ভেতর থেকে এসে বিদ্রোহীরা তাদের জওয়ানদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।

সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জইশ আল-আদল ওই হামলার দায় নিয়েছে। ইরানের বেলুচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজনের জন্য আরও বেশি অধিকার ও তাদের জীবন যাপনের মানে উন্নতি চাচ্ছেন তারা।

পাকিস্তান এসব বিদ্রোহীদের নিরাপদ স্বর্গ বলে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের শিয়া মুসলিম কর্তৃপক্ষ। কাজেই এসব বিদ্রোহীদের দমনে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে ইরান।

ইরান-পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে নৃতাত্ত্বিক বেলুচদের অবস্থান। কাজেই বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই বিশাল সীমান্ত দিয়ে চলাচল করছে। যা দুই দেশের কর্মকর্তাদের বিরক্তির অন্যতম কারণ।

কুরাইশি বলেন, সীমান্তে বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। আফগান সীমান্তে যেটা শুরু করা হয়েছে। কাজেই সাড়ে নয়শত কিলোমিটারের এই বিস্তৃত সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫, আহত ১১ হাজার: এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

ইমরান খানের ইরান সফর সামনে রেখে দুই দেশের টানাপোড়েন চরমে

আপডেট সময় ১২:৪৬:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলে বাস থেকে নামিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেছেন প্রতিবেশী ইরানভিত্তিক বেলুচ বিদ্রোহীরা। শনিবার পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরাইশি এমন দাবিই করলেন।

এতে রোববার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তেহরান সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।-খবর রয়টার্সের

গত কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। দুই দেশের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদ্রোহীদের দমনে তারা যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সীমান্তেই এসব বিদ্রোহীরা আশ্রয় নিয়ে হামলা চালাচ্ছেন।

বিভিন্ন বিদ্রোহী সংগঠনের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা নতুন একটি গোষ্ঠী বৃহস্পতিবারের ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরান সীমান্তে পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে এই গ্রুপটি সক্রিয় রয়েছে।

সেদিন চারটি বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে প্রথমে তাদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করেন বিদ্রোহীরা। তাদের কয়েকজনকে আলাদা করে দাঁড়াতে বলেন। পরে তাদের অপহরণ ও হত্যা করা হয়েছে।

বেলুচ রাজি আজই সানগার(বিআরএএস) নামের একটি গ্রুপ দাবি করেছে, বাস ভ্রমণরত পাকিস্তানের নৌ ও কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন তারা।

শাহ মোহাম্মদ কুরাইশি বলেন, এই হামলার ঘটনায় তার দেশ ক্ষুব্ধ। কাজেই বিআরএএস বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের কুরাইশি বলেন, নতুন এই গোষ্ঠীটির প্রশিক্ষণ ও রসদ শিবির সীমান্তে ইরানের ভেতরেই। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের কাছে নিজ দেশের ক্ষোভের কথা তিনি জানিয়েছেন।

তবে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ নিয়ে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইরনার খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাকিস্তানি সরকার ও জনগণের প্রতি এ ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে রোববার দুই দিনের সফরে ইরান যাবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এর আগে গত মধ্য-ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ওপর এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৭ জওয়ান নিহত হন। এরপর থেকে গত কয়েক মাস প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, পাকিস্তানের ভেতর থেকে এসে বিদ্রোহীরা তাদের জওয়ানদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।

সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জইশ আল-আদল ওই হামলার দায় নিয়েছে। ইরানের বেলুচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজনের জন্য আরও বেশি অধিকার ও তাদের জীবন যাপনের মানে উন্নতি চাচ্ছেন তারা।

পাকিস্তান এসব বিদ্রোহীদের নিরাপদ স্বর্গ বলে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের শিয়া মুসলিম কর্তৃপক্ষ। কাজেই এসব বিদ্রোহীদের দমনে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে ইরান।

ইরান-পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে নৃতাত্ত্বিক বেলুচদের অবস্থান। কাজেই বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই বিশাল সীমান্ত দিয়ে চলাচল করছে। যা দুই দেশের কর্মকর্তাদের বিরক্তির অন্যতম কারণ।

কুরাইশি বলেন, সীমান্তে বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। আফগান সীমান্তে যেটা শুরু করা হয়েছে। কাজেই সাড়ে নয়শত কিলোমিটারের এই বিস্তৃত সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।