অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, ‘শুধু সাবেক মহাসচিবই নয়, মনোনয়ন বাণিজ্যের সঙ্গে আর কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
দায়িত্ব নিয়েই সোমবার বনানীস্থ পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মশিউর রহমান রাঙ্গা। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দলের মধ্যে কেউ মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে। এ অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গা বলেন, জাতীয় পার্টির মনোনয়ন কেনার জন্য টাকা দিয়েছে এমন ভুক্তভোগী পাওয়া গেলে, কিংবা এ ধরনের কারও অভিযোগ থাকলে জাতীয় পার্টির কাছে জানান। মনোনয়ন বাণিজ্যের ঘটনা তদন্তে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র জানায়, মূলত মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে মহাসচিবের পদ থেকে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দেয়া হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন নিয়ে দরকষাকষির সময় জাতীয় পার্টিতে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে খোদ দলীয় নেতাদের মধ্য থেকেই।
দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কয়েকজন প্রকাশ্যে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আনেন এবং তাদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার।
জাতীয় পার্টির একজন সিনিয়র নেতা গণমাধ্যমকে বলেছেন, মূলত অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানা কারণে রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম মনোনয়ন বাণিজ্য।
এ ছাড়া মহাজোটের সঙ্গে আসনবণ্টনে দরকষাকষিও রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ। মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও বেশ পুরনো। তবে এবারই প্রথম মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেন। তারা এজন্য বনানীর কার্যালয়ে হাওলাদারকে অবরুদ্ধও করে রাখেন। কার্যালয় ভাঙচুর করেন। সেখানে হাওলাদারপন্থীদের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। জাতীয় পার্টির বহু পোড় খাওয়া নেতা মনোনয়ন না পেলেও নিজের ও স্ত্রীর জন্য মহাজোট থেকে দুই আসন বাগিয়ে নেন রুহুল আমিন হাওলাদার।
অভিযোগ আছে, রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বে দলের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের ব্যাপক অভিযোগ উঠে। টাকার বিনিময়ে দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত বিত্তশালীদের দলে ভিড়িয়ে মনোনয়ন দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠে।
এ নিয়ে জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মহাসচিবের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। শুধু তাই নয়, দলের মহাসচিব হিসেবে মহাজেটের আসন বণ্টনে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিত না করে তিনি তার স্ত্রী নাসরিন হাওলাদার ও তার সিন্ডিকেটের মনোনয়ন নিশ্চিত করার তদবির করেন।
বিষয়টি জানাজানির পর টেলিফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাওলাদারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগ তুলেন নেতাকর্মীরা। এমনকি বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন। হাওলাদারের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলও হয়। এতে পার্টির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















