ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে : ডিএমপি কমিশনার টকশোতে আর দেখা যাবে না গোলাম মাওলা রনিকে গাজা পুনর্গঠনে ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা উদ্যোগ ঘোষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের দুই বছরের কারাদণ্ড মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

‘সাইবার সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

ফেসবুক, গুগল, ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট বা অ্যাকাউন্টের প্রাথমিক পাসওয়ার্ড ও ইউজার আইডি পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ। ডিভাইস থেকে অথবা ওয়েবসাইটে ঢুকে, পরিবর্তন করে নিলে বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব।

এমনটাই বলেছেন আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনের (আইবিএম) কর্মকর্তা ড. মাহমুদুর রহমান। ৩০ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে প্রেজেন্টেশন ক্লাবের আয়োজনে, ক্লাবটির প্রধান কার্যালয়ে ‘সাইবার সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে প্রেজেন্টেশন ক্লাবের সভাপতি রাইসুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তার আলোচনায় ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কোনো ওয়েবসাইটের একটি অ্যাকাউন্টও যদি কোনো হ্যাকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে তবে পুরো ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে থাকে।

কারণ আপনার যোগাযোগ, ফটো, ভিডিও, অবস্থান, স্বাস্থ্য ও আর্থিক তথ্যের মতো বিষয়গুলো তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। অনলাইন থেকে আয়ের যেমন সুযোগ আছে, তেমনই তথ্য বেহাত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে উল্লেখ করে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অনলাইন থেকে বিভিন্নভাবে আয় করতে পারে।

তবে সেই ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। যেমন আমি যদি ইউটিউব থেকে আয়ের কথা বলি, ইউটিউব কর্তৃপক্ষের চাওয়া অনুযায়ী ভিডিও কপি না দেয়া। চুক্তিভিত্তিক লাইক বা ভিউ না বাড়ানো।

কারণ ইউটিউব লাইক পাওয়ার পর বুঝতে পারে যে এটা সত্যিকার লাইক, নাকি ভুয়া। লাইক বা সাবস্ক্রাইবের ক্ষেত্রে তারা দেখেন কোন এলাকা থেকে লাইক পড়েছে বা দেখেছে। তারপর তারা কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সতর্ক করে দেয়। রেড সিগন্যালে পড়ে গেলে বুঝতে হবে আইডি বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবে সব ওয়েবসাইটেই নজরদারি থাকে।

তারপরও হ্যাকার বা সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িতরা তাদের অপরাধ কর্ম চালিয়ে যায়। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। সাইবার বিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, আইওটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা যেতে পারে।

যার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ও অ্যাপ্লিকেশন সুরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া আপনি আপনার বাড়ির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। যাতে করে আপনার বাড়িতে চোর ঢুকতে না পারে।

কিন্তু এর নেতিবাচক দিক হচ্ছে, আপনার সব তথ্য ওয়েবসাইটে থাকছে। আপনার দৈনন্দিন কাজে ফিটনেস ট্রেকার ডিভাইসে জিপিএস ট্রেকার থাকলে হ্যাকাররা আপনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।

এর মাধ্যমে হ্যাকাররা আইডি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে অন্যান্যা ডিভাইসও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে। কারণ আইওটি নেটওয়ার্কে ডিভাইসগুলো চেইনের মতো কাজ করে। ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বরে মিরাই বটনেট অ্যাটাক হয়েছিল।

মিরাই বডনেট নামে ওই অ্যাটাকে হ্যাকারদের একটা দল বিশ্বের বেশকিছু দেশে বিপুলসংখ্যক ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এ রকম হতে পারে ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও।

আপনি যখন ওয়াই-ফাই নিচ্ছেন, তখন সব তথ্য দেয়া লাগছে সেই তথ্য পরিবর্তন না করলে তা হ্যাকারদের হাতে চলে যাচ্ছে। হ্যাকারদের হাতে সম্পূর্ণ তথ্য থাকায় তারা পুরো ওয়েবসাইটকে জব্দ করতে পারে।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেজেন্টেশন ক্লাবের সহসভাপতি মোনাসিব রোমেলসহ অন্যরা। এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির প্রচার সহযোগী ছিল লক্ষ্য নিউজ প্রেজেন্টেশন একাডেমি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, নীরবতা ভাঙলেন শ্রাবন্তী

‘সাইবার সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ১২:০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৮

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

ফেসবুক, গুগল, ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট বা অ্যাকাউন্টের প্রাথমিক পাসওয়ার্ড ও ইউজার আইডি পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ। ডিভাইস থেকে অথবা ওয়েবসাইটে ঢুকে, পরিবর্তন করে নিলে বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব।

এমনটাই বলেছেন আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনের (আইবিএম) কর্মকর্তা ড. মাহমুদুর রহমান। ৩০ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে প্রেজেন্টেশন ক্লাবের আয়োজনে, ক্লাবটির প্রধান কার্যালয়ে ‘সাইবার সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে প্রেজেন্টেশন ক্লাবের সভাপতি রাইসুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তার আলোচনায় ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কোনো ওয়েবসাইটের একটি অ্যাকাউন্টও যদি কোনো হ্যাকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে তবে পুরো ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে থাকে।

কারণ আপনার যোগাযোগ, ফটো, ভিডিও, অবস্থান, স্বাস্থ্য ও আর্থিক তথ্যের মতো বিষয়গুলো তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। অনলাইন থেকে আয়ের যেমন সুযোগ আছে, তেমনই তথ্য বেহাত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে উল্লেখ করে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অনলাইন থেকে বিভিন্নভাবে আয় করতে পারে।

তবে সেই ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। যেমন আমি যদি ইউটিউব থেকে আয়ের কথা বলি, ইউটিউব কর্তৃপক্ষের চাওয়া অনুযায়ী ভিডিও কপি না দেয়া। চুক্তিভিত্তিক লাইক বা ভিউ না বাড়ানো।

কারণ ইউটিউব লাইক পাওয়ার পর বুঝতে পারে যে এটা সত্যিকার লাইক, নাকি ভুয়া। লাইক বা সাবস্ক্রাইবের ক্ষেত্রে তারা দেখেন কোন এলাকা থেকে লাইক পড়েছে বা দেখেছে। তারপর তারা কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সতর্ক করে দেয়। রেড সিগন্যালে পড়ে গেলে বুঝতে হবে আইডি বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবে সব ওয়েবসাইটেই নজরদারি থাকে।

তারপরও হ্যাকার বা সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িতরা তাদের অপরাধ কর্ম চালিয়ে যায়। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। সাইবার বিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, আইওটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা যেতে পারে।

যার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ও অ্যাপ্লিকেশন সুরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া আপনি আপনার বাড়ির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। যাতে করে আপনার বাড়িতে চোর ঢুকতে না পারে।

কিন্তু এর নেতিবাচক দিক হচ্ছে, আপনার সব তথ্য ওয়েবসাইটে থাকছে। আপনার দৈনন্দিন কাজে ফিটনেস ট্রেকার ডিভাইসে জিপিএস ট্রেকার থাকলে হ্যাকাররা আপনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।

এর মাধ্যমে হ্যাকাররা আইডি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে অন্যান্যা ডিভাইসও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে। কারণ আইওটি নেটওয়ার্কে ডিভাইসগুলো চেইনের মতো কাজ করে। ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বরে মিরাই বটনেট অ্যাটাক হয়েছিল।

মিরাই বডনেট নামে ওই অ্যাটাকে হ্যাকারদের একটা দল বিশ্বের বেশকিছু দেশে বিপুলসংখ্যক ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এ রকম হতে পারে ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও।

আপনি যখন ওয়াই-ফাই নিচ্ছেন, তখন সব তথ্য দেয়া লাগছে সেই তথ্য পরিবর্তন না করলে তা হ্যাকারদের হাতে চলে যাচ্ছে। হ্যাকারদের হাতে সম্পূর্ণ তথ্য থাকায় তারা পুরো ওয়েবসাইটকে জব্দ করতে পারে।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেজেন্টেশন ক্লাবের সহসভাপতি মোনাসিব রোমেলসহ অন্যরা। এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির প্রচার সহযোগী ছিল লক্ষ্য নিউজ প্রেজেন্টেশন একাডেমি।