ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে : ডিএমপি কমিশনার টকশোতে আর দেখা যাবে না গোলাম মাওলা রনিকে গাজা পুনর্গঠনে ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা উদ্যোগ ঘোষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের দুই বছরের কারাদণ্ড মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

থামল প্রধানমন্ত্রীর বহর, সেলফিতে বন্দী হলো একঝাঁক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সামনে দিয়ে চলে যাবে—এমনটাই ভেবেছিল তারা। দূর থেকে একনজর দেখেই হয়তো ফিরে যেতে হবে। কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বদলে গেল পুরো দৃশ্য। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একঝাঁক শিক্ষার্থীর ডাকেই থেমে গেল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহর। এরপর কুশল বিনিময়, গল্প, খেলাধুলার খোঁজ, উপহার এবং শেষ পর্যন্ত একটি সেলফি—সব মিলিয়ে সোমবারের দুপুরটি জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকল বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে।

সোমবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সাত মাইল এলাকা অতিক্রম করে বাবুগঞ্জের পূর্ব রহমতপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনে যাচ্ছিল। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে অপেক্ষা করছিল।

শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস নজরে আসতেই বহর থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বাস থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, সালাম দেন এবং পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার খোঁজ নেন। হঠাৎ এমন সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক।

আলাপচারিতার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ‘তোমাদের মধ্যে খেলাধুলা কে কে পছন্দ করো?’ প্রশ্ন শেষ হতেই একসঙ্গে হাত তুলে শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা সবাই খেলাধুলা ভালোবাসে। তাদের সেই উচ্ছ্বাসে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফুটবল, ব্যাডমিন্টন সেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী উপহার দেন। পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা, শৃঙ্খলাবোধ ও সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপর আসে দিনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। এক শিক্ষার্থী লাজুক হাসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেলফি তোলার অনুরোধ জানায়। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে তার হাত থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে নিজেই সেলফি তোলেন। ক্যামেরার একটি ক্লিকেই যেন ধরা পড়ে যায় একঝাঁক কিশোর-কিশোরীর স্বপ্ন, বিস্ময় আর আনন্দ। মুহূর্তেই করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক এ. কে. আজাদ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। প্রধানমন্ত্রী এতটা আন্তরিকভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন, খেলাধুলার সরঞ্জাম উপহার দেবেন, এমনকি নিজ হাতে সেলফি তুলবেন—এটি তারা সারাজীবন মনে রাখবে।

সফরের ব্যস্ত সূচির মাঝেও কয়েক মিনিট সময় বের করে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এই মুহূর্ত উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের কাছেও ছিল ব্যতিক্রমী। বিদায়ের সময় প্রধানমন্ত্রীকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায় শিক্ষার্থীরা। আর তাদের মোবাইল ফোনে রয়ে যায় এমন একটি ছবি, যা হয়তো অনেক বছর পরও ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেই স্মরণীয় দুপুরে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, নীরবতা ভাঙলেন শ্রাবন্তী

থামল প্রধানমন্ত্রীর বহর, সেলফিতে বন্দী হলো একঝাঁক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন

আপডেট সময় ০৬:৩০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সামনে দিয়ে চলে যাবে—এমনটাই ভেবেছিল তারা। দূর থেকে একনজর দেখেই হয়তো ফিরে যেতে হবে। কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বদলে গেল পুরো দৃশ্য। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একঝাঁক শিক্ষার্থীর ডাকেই থেমে গেল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহর। এরপর কুশল বিনিময়, গল্প, খেলাধুলার খোঁজ, উপহার এবং শেষ পর্যন্ত একটি সেলফি—সব মিলিয়ে সোমবারের দুপুরটি জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকল বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে।

সোমবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সাত মাইল এলাকা অতিক্রম করে বাবুগঞ্জের পূর্ব রহমতপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনে যাচ্ছিল। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে অপেক্ষা করছিল।

শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস নজরে আসতেই বহর থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বাস থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, সালাম দেন এবং পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার খোঁজ নেন। হঠাৎ এমন সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক।

আলাপচারিতার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ‘তোমাদের মধ্যে খেলাধুলা কে কে পছন্দ করো?’ প্রশ্ন শেষ হতেই একসঙ্গে হাত তুলে শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা সবাই খেলাধুলা ভালোবাসে। তাদের সেই উচ্ছ্বাসে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফুটবল, ব্যাডমিন্টন সেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী উপহার দেন। পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা, শৃঙ্খলাবোধ ও সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপর আসে দিনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। এক শিক্ষার্থী লাজুক হাসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেলফি তোলার অনুরোধ জানায়। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে তার হাত থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে নিজেই সেলফি তোলেন। ক্যামেরার একটি ক্লিকেই যেন ধরা পড়ে যায় একঝাঁক কিশোর-কিশোরীর স্বপ্ন, বিস্ময় আর আনন্দ। মুহূর্তেই করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক এ. কে. আজাদ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। প্রধানমন্ত্রী এতটা আন্তরিকভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন, খেলাধুলার সরঞ্জাম উপহার দেবেন, এমনকি নিজ হাতে সেলফি তুলবেন—এটি তারা সারাজীবন মনে রাখবে।

সফরের ব্যস্ত সূচির মাঝেও কয়েক মিনিট সময় বের করে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এই মুহূর্ত উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের কাছেও ছিল ব্যতিক্রমী। বিদায়ের সময় প্রধানমন্ত্রীকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায় শিক্ষার্থীরা। আর তাদের মোবাইল ফোনে রয়ে যায় এমন একটি ছবি, যা হয়তো অনেক বছর পরও ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেই স্মরণীয় দুপুরে।